বাংলার চোখ · অতিথি পাখির স্থায়ী আবাসস্থল
  1. [email protected] : mainadmin :
বাংলার চোখ · অতিথি পাখির স্থায়ী আবাসস্থল
মঙ্গলবার, ০৯ মার্চ ২০২১, ০১:১৯ পূর্বাহ্ন

অতিথি পাখির স্থায়ী আবাসস্থল

বাংলার চোখ সংবাদ
  • সময় রবিবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৮১ দেখেছেন

সবুজে ঘেরা, ছায়া সুনিবিড় গ্রাম খাগড়কুড়ি এখন পাখি গ্রাম হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এক সময় পাখিরা অতিথি হলেও এখন তারা স্থায়ী বাসিন্দা। গত ৮ থেকে ১০ বছর আগে থেকে পাখিদের বিচরণ শুরু হয়েছে। প্রতি বছর তাদের আসা-যাওয়া থাকলেও এবার তারা বাসা বেঁধে সংসার পেতেছে গাছে। ডিম পেড়ে বাচ্চা দিয়েছে। মনের সুখে নিশ্চিন্তে সংসার করছে। সকাল-বিকেল তাদের কিচির-মিচির শব্দে মুখরিত থাকে গ্রামটি। সূর্য ওঠার পরপরই তারা আহারে বেরিয়ে যায়। আবার ফিরে আসে বিকেল নাগাদ। প্রতিদিনই দর্শনার্থীরা পাখিদের কিচির-মিচির উপভোগ করতে গ্রামটিতে বেড়াতে আসেন।

নওগাঁ শহর থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে উত্তর-পূর্ব দিকে গ্রামটির নাম খাগড়কুড়ি দক্ষিণপাড়া। গ্রামটি খাগড়কুড়ি হলেও হাতিপোতা নামেও পরিচিত। জমিদারী আমলে হাতি নিয়ে খাজনা আদায় করতে এসে হাতিটি মারা যায়। এরপর হাতিটি এ গ্রামের দক্ষিণ পাড়ায় মাটিতে পুতে রাখা হয়। এ কারণে হাতিপোতা হিসেবেও এলাকাটি পরিচিত। গ্রামের আক্তার ফারুক নামে এক ব্যক্তির বাগানে শিমুল, আম, কড়ই ও বাঁশ ঝাড় রয়েছে। গত ৮-১০ বছর আগে থেকে তার বাগানে বিভিন্ন প্রজাতির পাখির বিচরণ শুরু হয়। সেখানে গড়ে ওঠে পাখি কলোনী।

আশ্রয় নেওয়া বিভিন্ন প্রজাতির পাখিদের মধ্যে রয়েছে শামুকখোল, সাদা বক, রাতচোরা, পানকৌড়ি ও বিভিন্ন প্রজাতির ঘুঘু। নিরাপদ মনে করে তারা প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময়ে আসে এবং শীতের সময় চলে যায়। তবে কিছু অংশ সারা বছরই থাকে। এ বছর পাখিরা গাছে বাসা বেঁধে সংসার পেতেছে। ডিম পেড়ে বাচ্চা দিয়েছে। সব সময় কিচির-মিচির শব্দে মুখরিত হয়ে আছে গ্রামটি। গ্রামের মানুষও এখন পাখিপ্রেমী হয়ে গেছে। তারা পাখিদের বিরক্ত করে না। নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন গ্রামের সবাই। এছাড়া কাউকে বিরক্ত এবং শিকার করতে দেয় না। পাখি শিকার রোধে গ্রামবাসী নিয়েছে নানা উদ্যোগ। ফলে সারা বছরই সেখানে হাজার হাজার পাখির আগমন ঘটে। গ্রামে প্রবেশে আগে বন্যপ্রাণি ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ থেকে একটি সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে, ‘পাখি কলোনীসমূহ দেশের সম্পদ, এদের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব আমাদের সকলের।’

স্থানীয় গৃহবধূ লিমা ও নাজমা বলেন, ‘এরা অতিথি পাখি হিসেবে আমাদের কাছে পরিচিত। গরমের সময় আসে। আর শীতের মৌসুমে অধিকাংশ পাখি চলে যায়। তবে প্রতিবারের মতো এবার কোনো পাখি চলে যায়নি। গাছে অসংখ্য বাসা বেঁধে বাচ্চা দিয়েছে। ভোর থেকে সকাল এবং বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পাখিদের কিচির-মিচির শব্দে মুখরিত থাকে।’

তারা বলেন, ‘সূর্য ওঠার পরপরই পাখিরা আহারের খোঁজে বেরিয়ে যায়, আবার ফিরে আসে বিকেল নাগাদ। তারা যে শামুক খেয়ে খোল ফেলে দেয়; নিচে থাকা হাঁস সেগুলো খেয়ে নেয়। বলতে গেলে পাখির ডাকে ভোর হয় এবং ঘুম ভাঙে। প্রথম প্রথম একটু বিরক্ত হলেও এখন ঠিক হয়ে গেছে।’

সামাজিক মাধ্যমগুলোতে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও খবর...
DMCA.com Protection Status
© All rights reserved © 2021 www.banglarchokhnews.com  
Theme Customized BY LatestNews