1. [email protected] : mainadmin :
  2. [email protected] : Mohsin Molla : Mohsin Molla
  3. [email protected] : subadmin :
বাংলার চোখ নিউজ | অনলাইন সংস্করণ | ওসমানীনগরে মসজিদে নিলাম নিয়ে সংঘর্ষের সুষ্ঠ তদন্ত চায় এলাকাবাসী
বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:৫৬ পূর্বাহ্ন

ওসমানীনগরে মসজিদে নিলাম নিয়ে সংঘর্ষের সুষ্ঠ তদন্ত চায় এলাকাবাসী

বাংলার চোখ সংবাদ
  • সময়ঃ বুধবার, ২৮ জুলাই, ২০২১
মন্টু দাশ  (ওসমানীনগর, সিলেট) প্রতিনিধি :
সিলেটের ওসমানীনগরে জামে মসজিদে কাঁঠাল নিলামকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সুষ্ঠ তদন্ত চায় এলাকাবাসী। ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৩ জুলাই ( শুক্রবার) জুম্মার নামাজের পর উপজেলার উমরপুর ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামের বায়তুল মামুর জামে মসজিদে মুছল্লিদের মধ্যে। মসজিদে দানকৃত কাঁঠাল নিলাম দিতে গিয়ে মসজিদের  মোতাওয়াল্লী ও কাওছার আহমদসহ কিছু সংখ্যক মুছল্লিদের মধ্যে কথার কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ হয়।
এ সময় প্রতিপক্ষ আবু বক্করসহ তার সহযোগীদের হামলায় মসজিদের মুতাওয়াল্লী সহ উভয় পক্ষে ১৪ জন আহত  আহত হয়েছেন। হামলায় গুরুতর আহতদেরকে ঘটনাস্থল থেকে এলাকাবাসী উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে। এক পর্যায়ে ইট পাটকেলসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে উভয় পক্ষের মোছল্লিগণ। দীর্ঘ সময় ব্যাপী সংঘর্ষে মসজিদের পার্শ্ববর্তী এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। পরে এলাকাবাসীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এ ঘটনায় আহত হয়েছেন মাওলানা সুয়েব (৪৫), ওসমানীনগর উপজেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইকবাল আহমদ (৪০), সোহেল আহমদ (৩০), জুয়েল আহমদ (২৮), রুবেল আহমদ (২৪), হুমায়ুন রশীদ (৩২) ও কাওছার আহমদের পক্ষের কাওছার আহমদ (৫৫), উমরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নেছাওর আলী (৬০), আওয়ামীলীগ নেতা আবু বকর সিদ্দিকী (৭০), কাওছার আহমদ (৫৫), শাহীন মিয়া (৪৫), মুজিব মিয়া (৫০), সোহাগ মিয়া (২৩), শাকিল আহমদ (২৪)।
এদিকে গুরুতর আহত ইকবাল আহমদসহ আহতদের নিয়ে চিকিৎসার জন্য ওসমানী হাসপাতালে যাওয়ার পথে গ্রাম্য রাস্থায় প্রাইভেট গাড়িটির গতি রোধ করে হামলাকারীরা গাড়িটি ভাংচুর করেছে। এ ব্যাপারে গাড়ির চালক বাদি হয়ে ওসমানীনগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে ওসমানীনগর উপজেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইকবাল আহমদের ভাই মিনহাজ আহমদ জানান, আজ থেকে প্রায় দুই বছর আগে আমার বাড়ির সম্পর্কে আমার চাচা ভাই আবুবক্কর সিদ্দিকী সহ তার ভাইদের সাথে আমাদের পারিবারিক সমস্যা সৃষ্টি হয় তখন যুবলীগের সদস্য নুরুল ইসলাম নুরু মিয়ার ষড়যন্ত্রে আমরা একটি বাড়িকে দেয়াল দিয়ে দুটি বাড়ি করতে বাধ্য হই। পরবর্তী সময়ে আবুবক্কর গনকে নুরুল ইসলাম নুরমিয়া তার কব্জায় রাখতে বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্র এবং তাদেরকে দিয়ে গ্রামের পঞ্চায়েতের সঙ্গে খারাপ আচরণ করাতে তাকেন, গত আনুমানিক এক মাস পূর্বে পঞ্চায়েতের সাথে আবুবক্কর ও তার ভাই,রা অসৎ আচরন করলে পঞ্চায়েত মনোক্ষুন্ন হয় তখন নূরমিয়া ঢাকায় থেকে গ্রামবাসীকে ফোন করে সবাইকে বিষয়টি কঠোরভাবে দেখার জন্য বলেন এবং তার বাড়িতে গ্রাম পঞ্চায়েতের মিটিং অনুষ্ঠিত হয় সেই মিটিং-এ সর্বসম্মতিক্রমে আবুবক্কর গনকে তাদের খারাপ আচরণের জন্য গ্রামবাসী তাদেরকে বলেন আজ থেকে আপনাদের সঙ্গে আমাদের পঞ্চায়েতের কোন সম্পর্ক নেই।
জবাবে আবুবক্কর বলেন, আপনাদেরকে আমরা অনেক আগেই ছেড়ে দিয়েছি সেই থেকে পঞ্চায়েতের সঙ্গে বিরোধ আরো বেড়ে যায় ১৬ জুলাই শুক্রবার কামাল পুর জামে মসজিদে কুমড়া নিলামের জন্য উঠে সেই নিলামে আবুবক্করের ছোট ভাই মুজিব মিয়া অংশ গ্রহণ করিলে মসজিদের মতোয়াল্লী সহ পঞ্চায়েতের ব্যক্তিবর্গ উনাদেরকে বলেন আপনারা পঞ্চায়েতের সাথে সুসম্পর্ক করেন তারপরে পঞ্চায়েতি কাজে অংশগ্রহণ করবেন, এতে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে কিছু কথাবার্তা বলে চলে যান।
এদিকে গ্রামের পরিবেশ ভিতরে ভিতরে উত্তপ্ত হতে থাকে এবং নুরুল ইসলাম নুরু মিয়া ঢাকা থেকে ষড়যন্ত্র করতে থাকেন কিভাবে এখানে একটি ঝগড়া সৃষ্টি করানো যায় কারণ এখানে যদি মারামারি হয় তাহলে আমাদের গুষ্টি দুই ভাগ হবে এবং তাদের সাথে সম্পর্ক থাকবে মূল বিষয় এটাই পরে তিনি ঈদের দু-তিন দিন পূর্বের বাড়িতে আসেন এসে গোপন বৈঠক হয় সেই বৈঠকের পর ২৩ তারিখ রোজ শুক্রবার মসজিদে যথাযথ গ্রামবাসী নামাজে আসেন এবং নুরমিয়ার দেয়া একটি কাঁঠাল মসজিদের মুয়াজ্জিন সাহেব নামাজের পূর্বে ঘোষণা দেন একটি কাঁঠাল আছে নিলাম অনুষ্ঠিত হবে তখনই আমরা আছ করতে পেরেছি যে এখানে একটা কিছু হবে। এছাড়াও আমরা লক্ষ্য করেছি আমাদের পার্শ্ববর্তী গ্রাম শিবপুর এখানে নুরুল ইসলামের আত্মীয়-স্বজন বসবাস এই জুম্মা সেই শিবপুরের অধিকাংশ মানুষ আমাদের মসজিদে জুম্মার অংশগ্রহণ করেন নামাজ শেষে যখন নিলাম অনুষ্ঠিত হয় তখন এই নিলাম কেন্দ্র করেই মারামারি সৃষ্টি হয় দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে যখন মোতাল্লিকে জানে মারার জন্য এগিয়ে আসেন তখন আমিসহ অনেকেই মোতাওয়াল্লিকে রক্ষার জন্য জন্য আসি এবং আমাদেরকেও তারা মারতে থাকেন এলোপাতাড়ি শুরু করেন এতে উভয়পক্ষের ১৪/১৫ জন আহত হয়।
ওসমানী মেডিকেল এবং বালাগঞ্জ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন এরপরে পার্শ্ববতী এলাকার মানুষ এসে যখন ঘটনাটিকে থামিয়ে দিলেন এবং উভয় পক্ষের আহতদেরকে হসপিটালে যাওয়ার জন্য ব্যবস্থা করে দিলেন পথিমধ্যে  শত মানুষের সামনে নুরুল ইসলাম নুরু মিয়ার নেতৃত্বে একদল মানুষ আমি সহ আহত অবস্থায় আমরা যে গাড়ি দিয়ে যাচ্ছিলাম সেই গাড়ির পথ রোধ গাড়িতে হামলা শুরু করেন। পরে সেই ভাঙ্গা গাড়ি নিয়েই আমাদের কে গাড়ির ড্রাইভার জুবায়ের হসপিটালে নিয়ে যান আর যখন মসজিদে সবাই মারামারিতে ব্যস্ত ছিলেন নুরুল ইসলাম  নিরাপদ দূরত্বে থেকে ভিডিও করছিলেন যে ভিডিওতে দেখলে আপনারাও বুঝবেন তিনি যে ভিডিও করেছেন।
পরবর্তীতে থানায় আমার বড় ভাই উপজেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইকবাল আহমেদ বাদী হয়ে একটি মামলা করেন পাল্টা আরেকটি মামলা করেন আবু বক্কর সিদ্দিকীর ছেলে সাইফল ইসলাম শ্যমল এবং জুবায়ের আহমদ বাদী হয়ে আরেকটি মামলার দরখাস্ত করেছেন তার গাড়িতে হামলা করার জন্য।
এমটিকে/বাংলারচোখ

শেয়ার করুন...

Leave a Reply

আরও খবর...
© All rights reserved © 2021 | বাংলার চোখ নিউজ  
Theme Customized BY LatestNews