1. [email protected] : mainadmin :
  2. [email protected] : Mohsin Molla : Mohsin Molla
  3. [email protected] : subadmin :
বাংলার চোখ নিউজ | অনলাইন সংস্করণ | কক্সবাজার পুলিশে গণবদলির সফলতা-ব্যর্থতা
সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:১৬ অপরাহ্ন

কক্সবাজার পুলিশে গণবদলির সফলতা-ব্যর্থতা

বাংলার চোখ সংবাদ
  • সময়ঃ শনিবার, ৩১ জুলাই, ২০২১

বাংলার চোখ নিউজ :

কক্সবাজার জেলার টেকনাফের একটি চেক পোস্টে পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলীর গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। এ ঘটনায় সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ৯ পুলিশ কর্মকর্তাকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন নিহত সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস।

এরপর কক্সবাজারের পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ আসতে থাকে। এরমধ্যে সিনহা হত্যা মামলা বাদেই ওসি প্রদীপ কুমার দাশের বিরুদ্ধে আরও ১৩টি হত্যা মামলা দায়ের হয়। এসব মামলায় আরও অর্ধ শতাধিকের বেশি পুলিশ কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়। ফলে বেশ কোণঠাসা হয়ে পড়ে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। চারদিকে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। ঝিমিয়ে পড়ে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। এমন পরিস্থিতিতে সিনহা হত্যার দুই মাস পর একযোগে সব পুলিশ সদস্যকে বদলির সিদ্ধান্ত নেয় সংস্থাটির সদর দফতর। যা দেশের ইতিহাসে প্রথম।

২০২০ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে যোগদান শুরু করে পুলিশের নতুন ‘সেটে’র সদস্যরা। পুলিশ সুপার থেকে শুরু করে একে একে যোগদান করতে থাকে ৮ থানার নতুন ওসি, ৩৪ পুলিশ পরিদর্শকসহ অন্তত ১৫ শতাধিক পুলিশ সদস্য। সে থেকে স্বাভাবিক হতে শুরু করে পুলিশি কার্যক্রম। নতুন পুলিশ সুপার যোগ দেওয়ার পর বরাবরের মতো মাদক বিরোধী অভিযানে নেমে পড়েন। এলাকাভিত্তিক পুলিশের কার্যক্রম কমিউনিটি পুলিশিংকে পরিবর্তন করে আনা হয় বিট পুলিশিংয়ে। ঘটনাস্থলে ইয়াবা উদ্ধারের পর সেখানেই গণনা করে আলোচনায় আসে পুলিশের নতুন সেটের সদস্যরা।

এছাড়াও দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ইয়াবা চালান ১৭ লাখ ৭৫ হাজার পিস উদ্ধার করে মাদক বিরোধী অভিযানে কঠোরতার জানান দেয় নতুনরা। তবে সফতলার পাশাপাশি রয়েছে ব্যর্থতাও।

আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তথ্যমতে, ২০২০ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২১ সালের ২২ জুলাই পর্যন্ত জেলায় ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে ১৪ কোটি ৮৯ লাখ ৯২ হাজার ১২৯ পিস। মাদক উদ্ধারে মামলা হয়েছে ১ হাজার ৬৩৮টি। এসব মামলায় আসামি গ্রেফতার হয়েছে ২ হাজার ২০৫ জন।

 

মাদক উদ্ধারে পুলিশ

জেলা পুলিশ উদ্ধার করেছে ৩২ লাখ ৩ হাজার ২১১ ইয়াবা, দেশি মদ ১৮৫০ লিটার, বিদেশি মদ চার বোতল, ১৩ কেজি গাঁজা, ১৬৫ ক্যান বিয়ার, ৬৬ বোতল ফেনসিডিল, ৫০০ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ বা আইস ও ১৫০ লিটার ওয়াস। এসব ঘটনায় মামলা হয়েছে ৩১৯টি, আসামি গ্রেফতার হয়েছে ৪৭২ জন। যারমধ্যে সবচেয়ে আলোচিত, চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পুলিশ কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদন্ডী ও শহরের নুনিয়াছড়া এলাকা থেকে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ইয়াবার চালান (১৭ লাখ ৭৫ হাজার) উদ্ধার করা। একই সঙ্গে আটক হওয়া ৫ আসামির বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় নগদ ৭০ লাখ ৬৩ হাজার টাকা।

অস্ত্র উদ্ধারের মধ্যে, ৩০টি এলজি, চারটি বিদেশি পিস্তল, ৩টি দেশীয় পিস্তল, ৩টি বন্দুক, একটি এক নলা বন্দুক, কাটা রাইফেল দুটি, ৬টি ওয়ান শুটারগান, ম্যাগজিন ৪টি, ৭৪ রাউন্ড কার্তুজ, ৯৮ রাউন্ড গুলি, ৬ রাউন্ড বুলেট ও তিনটি গুলির খোসা। এসব উদ্ধারে মামলা হয়েছে ৫৩টি, আসামি গ্রেফতার হয়েছে ৮৯ টি। এছাড়াও পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছে এক মাদক কারবারি।

 

এপিবিএন

আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) উদ্ধার করেছে ৭ লাখ ৯৮ হাজার ৮৪৪ ইয়াবা, ৬০০ লিটার বিদেশি মদ, এক কেজি গাঁজা ও ২১০ ক্যান বিয়ার। এসব উদ্ধারে মামলা হয়েছে ১৫৯টি আসামি গ্রেফতার হয়েছে ২২৫ জন।

 

র‌্যাব ও বিজিবি

১৪ কোটি ৫০ লাখ ৯০ হাজার ৭৪ পিস ইয়াবা, ৫০৩ লিটার দেশীয় মদ, ১ হাজার ৫১৩ ক্যান বিয়ার, ৭৩৯ বোতল বিদেশী মদ, ১৫০ কেজি গাঁজা, ৬৫৯ বোতল ফেনসিডিল, ২ হাজার ৭৯০ লিটার ওয়াশ, ২০ বোতল জিনসেন, ২ কেজি মিথাইল ও এক কেজি ক্রিস্টাল মেথ। এসব উদ্ধারে মামলা হয়েছে ১ হাজার ১৬০টি, আসামি গ্রেফতার হয়েছে ১ হাজার ৫০৮ জন।

 

আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধ

২০১৮ সালের ৪ মে থেকে সারা দেশে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হয়। ওই সময় থেকে চলতি বছরের ২৮ জুলাই পর্যন্ত চারজন নারীসহ শুধু কক্সবাজার জেলায় ২৮৪ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে দুই নারীসহ ১১২ জন রোহিঙ্গা নাগরিক। শুধু টেকনাফে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা গেছেন ১৬৮ জন।

 

যেখানে ব্যর্থ ও সমালোচিত পুলিশ

পর্যটন শহর হিসেবে ছিনতাইকারীদের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের জন্য ব্যর্থতা বলে মনে করেন বোদ্ধারা। যার ফলে প্রাণ গেছে পর্যটকসহ কয়েক জনের। জেলা শহরের পাহাড়তলী, মাটিয়াতলী, রুমালিয়ারছড়াসহ কয়েকটি এলাকায় বেড়েছে সন্ত্রাসীদের তৎপরতা। গেল প্রায় দুই বছরেও আলোরমুখ দেখেনি রামু উপজেলার ঈদগড় ইউনিয়নের শিশু শিল্পী জনি দে রাজ হত্যা মামলা। যাকে ভোরের আলোর উঠতেই চলন্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশা থামিয়ে প্রথমে গুলি ও পরে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। দীর্ঘ সময় পরও মূল আসামিদের ধরতে না পারায় রীতিমত অন্তরায় থেকে গেছে এ হত্যাকাণ্ডের আসল রহস্য। হয়নি অভিযোগপত্রও।

আলোচিত আরেক হত্যা মামলা মহেশখালীর কালারমারছড়া ইউনিয়নের আফরোজা হত্যাকাণ্ড। এই গৃহবধুকে নিজের স্বামীসহ পরিবারের সদস্যরা হত্যার পর পুতে ফেলে। ঘটনার বেশ কয়েকদিন পর ছোট শিশু কন্যার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উম্মোচিত হয় এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য। বাড়ির আঙ্গিনার পুতে রাখা গর্ত খুড়ে উত্তোলন করা হয় গৃহবধু আফরোজার লাশ। সে থেকে কয়েক জন আসামি গ্রেফতার হলেও এখনও হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা ও আফরোজা স্বামীকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

এছাড়াও শহরের সমিতিপাড়ায় এক নারী থেকে তিন লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার সময় জনতার হাতে আটক হয় পুলিশ কনস্টেবল। পরে সেই টহল দলে থাকা এক উপ-পরিদর্শকসহ তিনজনকে সাময়িক বরখাস্ত করে পুলিশ। পরে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ। রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের পর কারাগারেও পাঠানো হয় সেই তিন পুলিশ সদস্যকে। যা নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয় জেলাজুড়ে।

 

কেমন আছে টেকনাফ থানা

দেশের থানাগুলোর মধ্যে আলোচিত টেকনাফ থানা। কারণ সেই থানায় দুই বছর ধরে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছিলেন আলোচিত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ। এক অনুষ্ঠানে তৎকালীন জেলা প্রশাসক বলেছিলেন, ‘টেকনাফের মায়েরা তাদের শিশুকে ওসি প্রদীপ আসার ভয় দেখিয়ে খাবার খাওয়ান’। তিনি দায়িত্বে থাকাকালীন এ উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছিলেন ১২৩ জন। যার ফলে ভয়ে আতঙ্কে থানায় প্রবেশের সাহস পেতেন না সাধারণ মানুষ। কিন্তু পুলিশের নতুন সেট আসার পর পরিবর্তন এসেছে এ থানার আঙ্গিনায়। অনায়াশে এখন সাধারণ মানুষ প্রবেশ করছে থানায়। করছেন অভিযোগ-জিডি। কেটেছে সেই ভয়-ভীতি।

টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান বলেন, নতুন যোগদানের পর যে পরিস্থিতি ছিল সেটি কাটিয়ে উঠেছি। নিয়মিত অভিযান চলছে মাদক, মানব পাচারসহ নানা অপরাধের বিরুদ্ধে। সেই মাঠ পর্যায়ের পুলিশি সেবা নিশ্চিতে বিট পুলিশিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

সংকট কাটিয়ে মানুষের দৌরগোড়ায় পুলিশি সেবা পৌঁছানোর চেষ্টা করছে নতুনরা, এমনটা জানিয়েছেন কক্সবাজার পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) রফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, বরাবরের মতো মাদকের প্রবেশ পথ হিসেবে যেহেতু কক্সবাজার আলোচিত, সেজন্য নতুন কর্মকর্তারাও এর বিরুদ্ধে অভিযানকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। এর সফলতাও এসেছে। চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ইয়াবার চালান আটক করতে সক্ষম হয়। এছাড়াও মানবপাচার, ডাকাতিসহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঠেকাতে তৎপর রয়েছে পুলিশ।

দায়িত্ব নেওয়ার পর সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, একযোগে পরিবর্তন শুধুমাত্র ব্যক্তির ছিল না, পুলিশি সেবারও পরিবর্তন ছিল। মাদকবিরোধী অভিযানেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। আগামী দিনগুলোতেও পুলিশের প্রত্যেক সদস্য জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করে যাবে বলেও আশাবাদ ডিআইজির।

২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের আওতাধীন একটি চেকপোস্টে পুলিশ কর্মকর্তা লিয়াকত আলীর গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিহনা মোহাম্মদ রাশেদ খান। এ ঘটনায় টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ৯ পুলিশকে আসামি করে মামলা দায়ের করে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে র‌্যাবকে তদন্তের দায়িত্ব দেন। দীর্ঘ চারমাস তদন্ত করে ওই বছরের ১৩ ডিসেম্বর ১২ পুলিশ সদস্যসহ ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দায়ের করে।

 

এমটিকে/বাংলারচোখ

শেয়ার করুন...

Leave a Reply

আরও খবর...
© All rights reserved © 2021 | বাংলার চোখ নিউজ  
Theme Customized BY LatestNews