1. [email protected] : mainadmin :
  2. [email protected] : subadmin :
বাংলার চোখ | কাস্টমস ও ভ্যাট : ২৪ ঘণ্টা সেবা দিয়েও নেই ফ্রন্টলাইনারের স্বীকৃতি
রবিবার, ০৯ মে ২০২১, ১০:৪৭ অপরাহ্ন

কাস্টমস ও ভ্যাট : ২৪ ঘণ্টা সেবা দিয়েও নেই ফ্রন্টলাইনারের স্বীকৃতি

বাংলার চোখ সংবাদ
  • সময়ঃ শনিবার, ১০ এপ্রিল, ২০২১

দেশে অতিমারি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর থেকে ২৪ ঘণ্টা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন কাস্টম হাউস, বিমানবন্দর ও শুল্ক স্টেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। জরুরি সেবা দিতে গিয়ে করোনা আক্রান্ত হয়ে এরই মধ্যে মারা গেছেন দুই বিভাগের অন্তত ৯ কর্মকর্তা-কর্মচারী। তারপরও জরুরি পরিষেবার আওতায় আসেনি কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগ। এতে চরম হতাশ এ দুই বিভাগে কর্মরতরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, করোনা সংক্রমণ রোধে সরকার ঘোষিত ‘চলাচল নিষেধাজ্ঞা’র মধ্যেও আমদানি-রফতানি সচল রাখতে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ওষুধ ও অন্যান্য শিল্পের ভ্যাট আদায়, হোটেল রেস্তোরাঁ মনিটরিংসহ রফতানি উৎসাহে মাঠে জরুরি সেবা দিচ্ছেন তারা। অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন দাখিলসহ সব ধরনের ভ্যাট সেবা ও রাজস্ব আদায় অব্যাহত আছে।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, করোনা আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত একজন কাস্টমস কমিশনারসহ নয়জন কর্মকর্তা মারা গেছেন। তাদের সংস্পর্শে এসে করোনা আক্রান্ত হয়ে পরিবারের অনেক সদস্যও মারা গেছেন। এছাড়া ৫ শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী এখনো আক্রান্ত। প্রতিদিন গড়ে আক্রান্ত হচ্ছেন ১০ জনেরও অধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী।

রাজস্ব আদায় আর সেবা দিতে গিয়ে করোনায় বিপর্যস্ত কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগ। তারপরও সরকার ঘোষিত প্রজ্ঞাপনে জরুরি সেবার তালিকা ও করেনার টিকা গ্রহণে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত জরুরি সেবাদাতার তালিকায় নেই এ দুই বিভাগের নাম। যদিও এ বিষয়ে কোনো উত্তর দেননি এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সর্বশেষ ৪ এপ্রিল সাতদিনের ‘চলাচল নিষেধাজ্ঞা’ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। প্রজ্ঞাপনে ১১টি বিধিনিষেধ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনে জরুরি পরিষেবা হিসেবে ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্য সেবা, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দর, টেলিফোন ও ইন্টারনেট, ডাক সেবাসহ অন্যান্য জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসসমূহ, তাদের কর্মচারী ও যানবাহন নিষেধাজ্ঞার আওতাবহির্ভূত থাকবে বলে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু জরুরি সেবার সেই তালিকায় কাস্টমস ও ভ্যাটের নাম নেই।

অথচ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, জরুরি চিকিৎসা ও অন্যান্য সেবাসামগ্রী, শিল্পের কাঁচামাল, সরকারি-আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার আমদানি করা পণ্য, মূলধনী যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ, কৃষি যন্ত্রপাতি ও উপকরণ, পোলট্রি, ডেইরি, মৎস্য শিল্পের খাদ্য ও উপকরণ এবং কূটনৈতিক সুবিধায় আমদানি করা পণ্য শুল্কায়নসহ খালাস প্রদান এবং পণ্য রফতানি ও ইপিজেডের কার্যক্রম সার্বক্ষণিক সচল রাখতে দেশের সব কাস্টম হাউস, শুল্ক স্টেশন ২৪ ঘণ্টা খোলা রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, আমদানি-রফতানি বন্ধ হলে পণ্যের দাম কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। আর রাজস্ব আদায় না হলে উন্নয়নের চাকা অচল হয়ে যাবে। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা করোনার চরম ঝুঁকির মধ্যে কাজ করছেন। ইতোমধ্যে মারা গেছেন বেশ কয়েকজন। তারপরও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে পিছপা হচ্ছি না। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, জরুরি সেবার তালিকায় নাম নেই। ফলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন সময় ঘরে-বাইরে বিভিন্ন প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছেন। এমনকি করোনার টিকা গ্রহণের ক্ষেত্রেও নেই অগ্রাধিকার। করোনাকালে রাজস্ব সেক্টরকে জরুরি সেবার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করা হতাশার বিষয়। বিষয়টি নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে আলোচনা ও ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত ।

এনবিআর সূত্রটি জানায়, চলতি অর্থবছরের মার্চ পর্যন্ত (জুলাই-মার্চ) ৯ মাসে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ লাখ ২৭ হাজার ৭৬৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকা (সাময়িক)। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৮৮ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। গত অর্থ বছরের তুলনায় আহরণ প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ। এর মধ্যে কাস্টমস খাতে আদায় হয়েছে ৫৩ হাজার ৯৯৯ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। এ খাতে আহরণ প্রবৃদ্ধি ১২ দশমিক ১৭ শতাংশ, যা তিন বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ। এছাড়া ভ্যাট খাতে আদায় হয়েছে ৬৭ হাজার ৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকা, প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৮৮ শতাংশ। আয়কর খাতে আদায় হয়েছে ৫৫ হাজার ৮০৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা, প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

শুল্ক স্টেশনের কমিশনাররা বলছেন, কাস্টমস হাউসে কর্মকর্তাদের আমদানিকারক-সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টসহ অল্প জায়গায় শত শত লোকের মধ্যে সেবা প্রদান করতে হয়। বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি নিয়ে পণ্য পরীক্ষা করতে হয়। পণ্য খালাসের জন্য সরেজমিন তদারকি, প্রিভেন্টিভ কার্যক্রম ও চোরাচালান দমন, রামেজিংয়ের জন্য গভীর সমুদ্রে বিদেশি জাহাজে গমন ও তল্লাশি করতে হয়। অন্যদিকে বিমানবন্দরগুলোয় প্রতিদিন শত শত বিদেশি যাত্রী হ্যান্ডেলিং, যাত্রীসেবা দ্রুতকরণ, শুল্কযোগ্য পণ্য পরীক্ষণ ও শুল্কায়ন এবং চোরাচালান দমনে কাজ করতে হয়। এছাড়া বিমানবন্দরের শত শত জরুরি কার্গো ব্যবস্থাপনা করতে হয়। এসব ক্ষেত্রে মানুষের সংস্পর্শে আসতে হয়। এভাবে প্রচণ্ড ঝুঁকির মধ্যে কাজ করছেন কাস্টমস কর্মকর্তারা।

এনবিআরের কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের সাবেক সদস্য রেজাউল হাসান এ বিষয়ে ঢাকা পোস্টকে বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমাদের সময়েও আলোচনা হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। জরুরি সেবার তালিকায় কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগকে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।

এনবিআরের জনসংযোগ কর্মকর্তা (পরিচালক) সৈয়দ এ মু’মেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, এ বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। বিষয়টি নিয়ে উচ্চ পর্যায়ে আলোচনাও হয়েছে বলে শুনেছি। তাই নতুন করে আর মন্তব্য করব না।

সামাজিক মাধ্যমগুলোতে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও খবর...
© All rights reserved © 2021 www.banglarchokhnews.com  
Theme Customized BY LatestNews