1. [email protected] : mainadmin :
  2. [email protected] : Mohsin Molla : Mohsin Molla
  3. [email protected] : subadmin :
বাংলার চোখ নিউজ | অনলাইন সংস্করণ | কেরামত হুজুরের কেরামতিতে শিক্ষার্থী অন্তঃসত্ত্বা
সোমবার, ১৪ জুন ২০২১, ০২:৫৬ অপরাহ্ন

কেরামত হুজুরের কেরামতিতে শিক্ষার্থী অন্তঃসত্ত্বা

বাংলার চোখ সংবাদ
  • সময়ঃ সোমবার, ৭ জুন, ২০২১

শেখ রুবেল,স্টাফ রিপোর্টার :

মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে সুন্দর ব্যবহার আর আল্লাহ্ ভীরু ভাব দেখিয়ে এলাকার সবার মন জয় করে নিয়েছিলেন টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার দিগড় ইউনিয়নের গারট্র উত্তরপাড়া গ্রামের মসজিদের ইমাম কেরামত আলী (৬০) ওরফে কেরামত হুজুর। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পাশাপাশি মসজিদের ভেতর গ্রামের ছোট ছেলে মেয়েদের প্রতিদিন সকালে কোরআন শিক্ষা দিতেন তিনি। এভাবেই পেরিয়ে গেছে ইমামতির দুই বছর।

হঠাৎ করেই গত ২৮ মে (শুক্রবার) তিনি জানিয়ে দেন আর এ মসজিদে ইমামতি করবেন না। বিদায় নিয়ে চলে যান। তার সপ্তাহখানেক পর বেরিয়ে এলো ইমামতি ছাড়ার আসল কাহিনী।

গত (শুক্রবার) ০৪ জুন উপজেলার দিগড় ইউনিয়নের গারট্র উত্তরপাড়া গ্রামের মসজিদের ওই ইমামের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে ঘাটাইল থানায় মামলা করেছেন অন্তঃসত্ত্বা এক কিশোরীর বাবা। পরে রাতেই অভিযান চালিয়ে ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী এলাকার শ্বশুরবাড়ি থেকে অভিযুক্ত কেরামত আলীকে গ্রেপ্তার করে ঘাটাইল থানা পুলিশ।

স্থানীয়রা জানান, কেরামত আলীর বাড়ি জেলার ঘাটাইল উপজেলার পাশের উপজেলা মধুপুরের আইনাতকারী বাসস্ট্যান্ডে। গারট্র উত্তরপাড়া গ্রামে মেয়ে বিয়ে দেওয়ার সুবাদে সবার সঙ্গে আগে থেকেই একটা ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠে তার। দুই বছর আগে মসজিদ কমিটি তাকে ইমাম হিসেবে নিয়োগ দেন। দুই বছর পর ২৮ মে (শুক্রবার) ইমামতি আর করবেন না বলে কেরামত আলী বিদায় নিয়ে চলে যান।

এদিকে তিনদিন আগে কিশোরী মেয়ের অস্বাভাবিক শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করেন তার মা-সহ অন্যরা। মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদে সব ঘটনা সে খুলে বলে।

অন্ত:সত্ত্বা ওই কিশোরী জানায়, পাঁচ মাস আগে একদিন সকালবেলা মক্তবের কোরআন পড়া শেষ হলে অন্যরা বাড়ি চলে যায়। এ সময় হুজুর তাকে মুখ বেঁধে মসজিদের বারান্দায় ধর্ষণ করেন। বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য তিনি (কেরামত) বলেন।

মেয়েটি আরও জানায়, হুজুর চলে যাওয়ার সময় বলে গেছেন আমাকে হুজুরের বাড়ি নিয়ে যাবেন এবং আমার নামে জমি লিখে দিবেন।

কিশোরীর বাবা জানান, স্থানীয় একটি দাখিল মাদরাসার সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী তার মেয়ে। করোনায় মাদরাসা বন্ধ থাকায় প্রতিদিন সকালে মসজিদে অন্য ছেলে মেয়েদের সঙ্গে সে কোরআন শিক্ষার জন্য যেত।

কেরামত আলীর মেয়ের জামাইয়ের বড় ভাই আবু হানিফ বলেন, আমরা খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি এরআগেও তিনি ঢাকার একটি মসজিদে ইমাম থাকাকালীন সময়ে একই ধরনের কাজ করেছিলেন। পরে সেখান থেকে তাকে বের করে দেওয়া হয়।তিনি আরও জানান, গ্রামের বাড়িতে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিজের বোনকে হত্যা করেছিলেন, পরে তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছিল।

ঘাটাইল থানা পুলিশের উপপরিদর্শক মেমরাজুল ইসলাম রুবেল বলেন, মামলা হওয়ার পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযুক্ত কেরামত আলীকে ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী তার শ্বশুরবাড়ি থেকে রাতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ৫ জুন (শনিবার) আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলে পাঠানো হয়েছে।

অপরদিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য কিশোরীকে টাঙ্গাইল শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে I

 

এমটিকে/বাংলারচোখ

সামাজিক মাধ্যমগুলোতে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও খবর...
© All rights reserved © 2021 www.banglarchokhnews.com  
Theme Customized BY LatestNews