1. [email protected] : mainadmin :
  2. [email protected] : subadmin :
বাংলার চোখ | ঘুষ বানিজ্যের স্বর্গরাজ্য উপজেলা ভুমি অফিস!
সোমবার, ১০ মে ২০২১, ০৫:২৫ পূর্বাহ্ন

ঘুষ বানিজ্যের স্বর্গরাজ্য উপজেলা ভুমি অফিস!

মোঃ শামীম
  • সময়ঃ মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২১
এসি ল্যান্ড আসমা সুলতানা নাসরিন

স্টাফ রিপোর্টারঃ

নারায়ণগঞ্জ বন্দর উপজেলা ভূমি অফিসে অনিয়ম আর দুর্নীতি যেন নিয়মে পরিনত হয়েছে।

টাকা ছাড়া কোন কাজ হয়না।ওমেদার এবং দালাল চক্রের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন ভুমি মালিকেরা।আর এসব অনৈতিক কর্মকান্ডের নেপথ্যে রয়েছেন খোদ এসি ল্যান্ড আসমা সুলতানা নাসরিন।

অফিসের সামনে গিজগিজ করছেন সেবাপ্রার্থীরা।
গোমড়া মুখ নিয়ে অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে ক্ষোভ ঝাড়ছিলেন বন্দর বাবু পাড়া থেকে আসা মোঃ জয়নাল আবেদীন (৪৮)।বলছিলেন নিজের জমির নামজারি (নাম খারিজ) করতে মাসের পর মাস হয়রানির শিকার হওয়ার কথা।ঘুষ না দেয়ায় কাজ হচ্ছে না।সেবাপ্রার্থী জয়নালের কথায় ‘ঠিক ঠিক’ আওয়াজ তুলে সায় দিচ্ছিলেন নামজারি ও খাজনা দিতে আসা অন্যান্য সেবা প্রত্যাশীরাও।নামজারি, ডিসিআর ও দাখিলার নামে এখানে অবাধে চলা ঘুষ-বাণিজ্যের রমরমা চিত্র উঠে এসেছে সরেজমিন অনুসন্ধানে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, রাখঢাক না করেই সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্মকর্তা থেকে শুরু করে অফিসের পিয়ন পর্যন্ত ঘুষ-দুর্নীতির ‘রসের হাঁড়িতে’ মজে অনিয়মকে রূপ দিয়েছেন নিয়মে! আর এতে করে প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকা হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

অফিস সুত্রে জানা গেছে, প্রধান সহকারী আনিসের ২ জন,নামজারি সহকারী আহসান হাবিবের ৩ জন,কানুনগো কামরুল হাসানের ২ জন,নাজির আসাদের ২ জন ও সার্ভেয়ার জামালের ১ জন ওমেদার রয়েছে।এদের মধ্যে ওমেদার আকাশ, তারেক ও হিরার প্রভাব বেশি। কারণ তারা এসি ল্যান্ডের কাছের লোক।অফিসের স্টাফ না হলেও এসব ওমেদারদের মাধ্যম ব্যাতিত ভুমি অফিসে কোন কাজ হয়না।তাছাড়া ঘুষ বানিজ্যের সিদ্ধহস্ত ওই ওমেদার চক্র।

ভুক্তভোগীরা জানান,প্রতিটি মিস কেইসের জন্য ৩ হাজার এবং রায় করে দেওয়ার জন্য ৫০ হাজার টাকা করে দিতে হয়।এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিক অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি।স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন কোন ব্যাবস্থা গ্রহণ না করে উল্টো দুর্নীতিগ্রস্থ ওই দুষ্টচক্রের পক্ষে সাফাই করেন।এমন নেতিবাচক নজির তাদের ফেলে দিয়েছে প্রশ্নের মুখে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ভুমি অফিসের লোকেরা টাকা ছাড়া কোনো কাজ করেন না। নামজারি (নাম খারিজ), ডিসিআর ও দাখিলার জন্য তাদেরকে আলাদা আলাদা টাকা দিতে হয়।আবার টাকা দিয়েও জুটে না নামজারি।ঘুরতে হয় মাসের পর মাস।খাজনার দাখিলার জন্য (ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ) সরকার নির্ধারিত ফি’র চেয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হয়।কিন্তু রশিদ দেয়া হয় সরকারি হিসাবেই।এছাড়া এসি ল্যান্ডের সরকারি বাসভবনের নাইট গার্ড,গাড়ী চালক ও বাসার কাজের লোক কাশেমের মাধ্যমে বিভিন্ন ভুমি সংক্রান্ত কাজ করেন অনেক ভুমি থেকো।এসবের মাধ্যমে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্মকর্তা।একইসাথে দৌরাত্ম বেড়েছে দালাল সিন্ডিকেটেরও।

বন্দর উপজেলায় কোন ঘুষ বানিজ্য চলবে না জানিয়ে চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এমএ রশিদ বলেন, ঘুষ দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে সরকার।তাই কোন অনিয়ম সহ্য করা হবেনা।

জানতে চাইলে ইউএনও শুক্লা সরকার বলেন,শুধু ভুমি অফিস না,যেকোনো অনিয়ম- দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা সোচ্চার।ভুমি অফিসে কোনো ওমেদার রাখা যাবেনা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, অনিয়মের প্রমান পেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে জানান,কারো সঙ্গে দেখা করতে চাননা এসি ল্যান্ড আসমা সুলতানা নাসরিন।কেউ অভিযোগ জানাতে গেলে অশোভন আচরণ করেন তিনি।অতিলোভী ভুমি কর্মকর্তার ঘুষ বাণিজ্য’ অনিযম’ দুর্নীতি ও নিজের নিয়োজিত দালাল-কর্মচারী সিন্ডিকেটের উৎপাতে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। গোটা ভূমি অফিস অনিয়ম-দুর্নীতির আখড়ায় পরিনত হয়েছে।

এ বিষয়ে অবশ্যই ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে জানিয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ সেলিম রেজা বলেন,কোনো ওমেদার না রাখার নির্দেশনা দিয়ে প্রতিটি উপজেলার এসি ল্যান্ড বরাবরে চিঠি দেওয়া হয়েছে।যেকোনো অনিয়মের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের জন্য সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

জানতে চাইলে এসি ল্যান্ড আসমা সুলতানা নাসরিন সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার অফিসে কোন অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়না।

সামাজিক মাধ্যমগুলোতে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও খবর...
© All rights reserved © 2021 www.banglarchokhnews.com  
Theme Customized BY LatestNews