1. [email protected] : mainadmin :
  2. [email protected] : special_reporter : special reporter
  3. [email protected] : subadmin :
বাংলার চোখ নিউজ | অনলাইন সংস্করণ | চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
শুক্রবার, ৩০ জুলাই ২০২১, ১১:১২ পূর্বাহ্ন

চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

বাংলার চোখ সংবাদ
  • সময়ঃ বুধবার, ১৬ জুন, ২০২১

সেলিম রেজা,স্টাফ রিপোর্টার :

সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় চাকরি ও বদলিসহ বিভিন্ন অজুহাতে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া সেই আব্দুল হান্নান মন্ডলের ভগ্নিপতি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের প্রধান জুড়ান চেয়ারম্যান কর্তৃক জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে সিরাজগঞ্জ ভুমি অধিগ্রহণ অফিস থেকে সখিনা বেগম নামের এক ওয়ারিশের ক্ষতিপুরণের ৩৯ লক্ষ ১৩ হাজার ৪’শ ১৪ টাকা সুকৌশলে উত্তোলন করে আত্মসাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, এ ঘটনায় সলঙ্গা থানা আমলী আদালত সিরাজগঞ্জে একটি মামলা দায়ের হয়েছে, এ দিকে মামলাটি তদন্ত করে একটি প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য সলঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মামলা ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সলঙ্গা থানার ঘুড়কা ইউনিয়নের সিংগাপুর (ভুইয়াগাঁতী) গ্রামের নুর মোহাম্মাদ এর স্ত্রী সখিনা বেগম বিগত ১৯/০৬/২০১৫ তারিখে ২৬৭৮ নং রেজিঃ দলিলমুলে আরএস রেকর্ডের প্রজা ছাবেদ আলীর নিকট থেকে ১৬ শতক ভূমি ক্রয় করে তা খাজনা খারিজ পূর্বক নিজ নাম জারি সহ ভোগদখল করে আসছিলেন। এ দিকে তফসিলি ভূমিটি ঢাকা-বগুড়া মহাসড়ক সংলগ্ন হওয়ায় মহাসড়ক প্রশস্থ করণের জন্য সখিনা বেগমের নিজ নামীয় ১৬ শতক ভূমিসহ ওই তফসিল ভুক্ত দাগের মধ্যে জুড়ান আলী সরকার গংদের ২৯ শতকসহ মোট ৪৫ শতক ভূমি সরকার বাহাদুরের পক্ষে সিরাজগঞ্জ ভুমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা কর্তৃক অধিগ্রহণ করা হয়, যার অধিগ্রহণ কেস নং-০২/১৮-১৯, মিস কেস নং-০৯/২০২১।

এ দিকে সখিনা বেগমের ১৬ শতক ভূমিসহ ৪৫ শতক ভুমি অধিগ্রহনের (ক্ষতি পূরণ) বাবদ নির্ধারন করা ১ কোটি ১০ লক্ষ ৬ হাজার ৪’শ আটাত্তর টাকা পঁয়তাল্লিশ পয়সা গ্রহণ করার জন্য সখিনা বেগমসহ ওই দাগের ভূমির মালিক লাঙ্গলমোড়া গ্রামের মৃত্যু নবাব আলী সরকারের পুত্র জুড়ান আলী সরকার (সাবেক চেয়ারম্যান) তার শ্যালক আব্দুল হান্নান মন্ডল ও স্ত্রী লিলি খাতুনকে গত ০২/০৮/২০১৯ তারিখে জেলা প্রশাসক স্বাক্ষরিত নোটিশ প্রদান এবং শুনানীর জন্য ১২/০৯/২০১৯ তারিখ ভুমি অধিগ্রহণ অফিসে দিনধার্য্য করা হয়।

এ দিকে ধার্য্য ওই তারিখে সখিনা বেগম ভূমি অধিগ্রহণ অফিসে গিয়ে ভূমি অধিগ্রহন কর্মকর্তা বরাবর ভূমির দলিল ও খাজনা-খারিজের কাগজপত্র সংযুক্ত করে তার নামে বরাদ্দকৃত ক্ষতি পূরণের টাকা উত্তোলনের জন্য তিনি লিখিতভাবে আবেদন করেন। এ সময় সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের মূলহোতা জুড়ান আলী সরকারও ভূমি অধিগ্রহন কর্মকর্তা বরাবর টাকা উত্তোলনের জন্য আবেদন করেন।

এ দিকে ক্ষতিপূরণের টাকা উত্তোলনের জন্য একাধিক আবেদন জমা পড়ায় সংশ্লিষ্ট অফিসে তা শুনানীর জন্য ২৫/০২/২০২১ তারিখ ধার্য্য করা হয়। কিন্তু এমন সময় সখিনা বেগমের প্রাপ্ত টাকা প্রতারনার মাধ্যমে উত্তোলন পূর্বক আত্মসাত করার উদ্দেশ্যে সখিনা বেগমের নামে ১৪/০২/২০২১ তারিখের ইস্যুকৃত নোটিশ জালিয়াত ওই চক্রের প্রধান জুড়ান আলী সরকার সুকৌশলে সখিনা বেগমের পক্ষে আবু তালেবের ছেলে লুৎফর রহমান ও হাজী আনিছুর রহমানের ছেলে আলমগীর হোসেনকে দিয়ে গ্রহন করিয়ে তা গোপন করে ফেলে। পরবর্তীতে এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে জালিয়াত ও প্রতারক ওই চক্রের প্রধান জুড়ান আলী সরকার সখিনা বেগমের ক্ষতিপুরনের ৩৯ লক্ষ ১৩ হাজার ৪’শ ১৪ টাকার চেকসহ বরাদ্দকৃত মোট ১ কোটি ৭ লক্ষ ৮৪ হাজার ১’শ২৫ টাকা পয়ত্রিশ পয়সা’র চেক উত্তোলন করে নেয়।

পরে বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে বিষয়টি অবগত হয়ে সখিনা বেগম ভুমি অধিগ্রহণ অফিসে গিয়ে জানতে পারেন যে, তার নামের বরাদ্দকৃত ৩৯ লক্ষ ১৩ হাজার ৪’শ ১৪ টাকার চেক ওই চক্রের প্রধান জুড়ান আলী সরকার ভুল তথ্য উপস্থাপন করে উত্তোলন করে নিয়েছেন।

এ দিকে সখিনা বেগমের নামে বরাদ্দকৃত ক্ষতি পূরণের টাকা জুড়ান আলী সরকার কর্তৃক উত্তোলন করে আত্মসাত করার ঘটনায় সখিনা বেগমের ছেলে শহিদুল ইসলাম আত্মসাতকৃত টাকা উদ্ধারের জন্য প্রতারক জুড়ান আলী সরকারসহ তার শ্যালক আব্দুল হান্নান মন্ডল, স্ত্রী লিলি খাতুন ও তাদের দুই সহযোগি লুৎফর রহমান ও আলমগীর হোসেনকে আসামী করে গত ১০/০৬/২০২১ তারিখে সলঙ্গা থানা আমলী আদালত সিরাজগঞ্জে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এ ব্যাপারে তদন্তপূর্বক একটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য সলঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এ ব্যাপারে সলঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল কাদের জিলানী জানান, এ সংক্রান্ত বিষয়ে আদালত থেকে একটি নির্দেশনা পেয়েছি দ্রুত তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। এ ব্যাপারে জুড়ান আলী সরকারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ১ কোটি ৭ লক্ষ ৮৪ হাজার ১’শ২৫ টাকা পয়ত্রিশ পয়সা’র চেক উত্তোলন কথা স্বীকার করেন। এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ ভূমি অধিগ্রহন অফিসের কর্মকর্তা বিদ্যুৎ কুমার জানান, ভুল তথ্য উপস্থাপন করে সরকারি টাকা প্রতারণার মাধ্যমে উত্তোলন করা হলেও এ টাকা হজম করার কোন সুযোগ নেই, কারণ টাকা ফেরত দিতেই হবে। তবে ইতোমধ্যেই নিয়ম অনুযায়ী তাকে স্বশরীরে ভূমিগ্রহণ অফিসে হাজির হওয়ার জন্য ১৪/০৬/২০২১ তারিখে নোটিশ করা হয়েছে।

 

এমটিকে/বাংলারচোখ

সামাজিক মাধ্যমগুলোতে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও খবর...
© All rights reserved © 2021 | বাংলার চোখ নিউজ  
Theme Customized BY LatestNews