1. [email protected] : mainadmin :
  2. [email protected] : Mohsin Molla : Mohsin Molla
  3. [email protected] : subadmin :
বাংলার চোখ নিউজ | অনলাইন সংস্করণ | টাকা আত্নসাৎকারী চক্রের মূলহোতা গ্রেফতার
শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১, ০৮:১১ অপরাহ্ন

টাকা আত্নসাৎকারী চক্রের মূলহোতা গ্রেফতার

বাংলার চোখ সংবাদ
  • সময়ঃ মঙ্গলবার, ৮ জুন, ২০২১

শহিদুল ইসলাম,স্টাফ রির্পোটার :

র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক ও অতিরিক্ত ডিআইজি জনাব মোঃ মোজাম্মেল হক বিপিএম (বার) পিপিএম মহোদয়ের সার্বিক দিকনির্দেশনায় র‌্যাব-৪ এর চৌকস দল যেভাবে কৌশলী অভিযান পরিচালনা করে গ্রাহকদের বিলের ১০ কোটি টাকা আত্নসাৎকারী চক্রের মূলহোতাকে গ্রেফতার করলেন।

রাজধানীর মিরপুর এলাকার দেড় হাজার তিতাস গ্যাস গ্রাহকদের গ্যাস বিলের ১০ কোটি টাকা জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎ পূর্বক আত্নসাৎ চক্রের মূলহোতা ফারুক চট্রগ্রামে গিয়ে আত্মগোপন করে ছিলেন। অবশেষে কৌশলী অভিযান পরিচালনা করে আজ সোমবার পূর্বরাত ১ টারদিকে টাকা আত্মসাৎকারী মূলহোতা ফারুক’কে চট্টগ্রাম হতে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৪।

র‌্যাব-৪ এর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এলিট ফোর্স হিসেবে র‌্যাব আত্মপ্রকাশের সূচনালগ্ন থেকেই আইনের শাসন সমুন্নত রেখে দেশের সকল নাগরিকের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে অপরাধ চিহ্নিতকরণ, প্রতিরোধ, শান্তি ও জনশৃংখলা রক্ষায় কাজ করে আসছে। সাম্প্রতিককালে প্রতারণার নতুন নতুন কৌশল ব্যবহার করে সাধারণ জনগনের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এক শ্রেণীর প্রতারক চক্র। জঙ্গীবাদ, খুন, ধর্ষণ, নাশকতা এবং অন্যান্য অপরাধের পাশাপাশি এসব প্রতারণার সাথে সম্পৃক্ত অপরাধীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য র‌্যাব সদা তৎপর। তারই ধারাবাহীকতায় র‌্যাব-৪ এর একটি চৌকস আভিযানিক দল র‌্যাব-৭ এর সহযোগিতায় ৭ জুন পূর্বরাত একটার দিকে দেড় হাজার তিতাস গ্রাহকের গ্যাস বিলের ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎকারী জালিয়াতির মূলহোতা মোঃ ওমর ফারুক (৩২) কে চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড থানা এলাকা হতে গ্রেফতার করেন।

র‌্যাব-৪ এর প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, ২০১৮ ইং সাল থেকে রাজধানীর মিরপুর-২ এর ৬০ ফিট এলাকায় ‘ইন্টার্ণ ব্যাংকিং এন্ড কমার্স’ নামে একটি এজেন্ট ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করে এবং এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এলাকার প্রায় দেড় হাজার গ্রাহকের গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের বিলের টাকা সংগ্রহ করে সেই টাকা দীর্ঘ প্রায় ২ বছরেও পরিশোধ ( জমা) না করে ওমর ফারুক গ্রাহকের গ্যাস বিলের ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন। এরিমধ্যে গত জানুয়ারি ২০২১ ইং এ মিরপুর এলাকায় তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ মাইকিং করে বকেয়া বিল পরিশোধের জন্য মাইকিং করে প্রায় দেড় হাজার গ্রাহকের গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার প্রচারণা চালায়। এর পরই ভুক্তভোগী গ্রাহকগন প্রতারণার বিষয়টি জানতে পেরে প্রতারক ফারুক ও তার প্রতিষ্ঠান এর বিরুদ্ধে সে সময় রাস্তায় নেমে আন্দোলন করলে উক্ত ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে প্রতারণার শিকার গ্রাহকরা গত ২৩ জানুয়ারী ২০২১ ইং তারিখে ‘ইন্টার্ণ ব্যাংকিং এন্ড কমার্স’ সহ প্রতারক ফারুকের ৩টি অফিস তালাবদ্ধ করলে, সে সময় মূলহোতা ফারুক সহ তার অন্যান্য সহযোগীরা আত্মগোপনে চলে যায়।

এ ঘটনায় কয়েকজন ভুক্তভোগী মিরপুর মডেল থানায় গত ২ ফেব্রুয়ারি ২০২১ তারিখে মোঃ ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়ের করার পরই র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক ও অতিরিক্ত ডিআইজি জনাব মোঃ মোজাম্মেল হক বিপিএম (বার) পিপিএম মহোদয়ের সার্বিক দিকনির্দেশনায় র‌্যাব-৪ এর চৌকস গোয়ান্দা দল উক্ত মামলার ছায়া তদন্ত শুরু করেন এবং প্রথমেই জালিয়াতির মুলহোতা প্রতারক ফারুকের অবস্থান সনাক্ত পূর্বক তাকে ৭ জুন সোমবার গ্রেফতার করেন।

 

র‌্যাব-৪ এর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরো কিছু তথ্য তুলেধরা হয়, যা নিম্নে হবুহু তুলেধরা হলো-

প্রতারক মোঃ ওমর ফারুক (৩২) এর উত্থান :

মোঃ ওমর ফারুক (৩২) নোয়াখালী জেলার কবিরহাট থানাধীন সাগরপুর গ্রামে জম্মগ্রহণ করে। সে স্থানীয় একটি স্কুল হতে ২০০৯ ইং সালে এসএসসি পাশ করার পর ২০১৪ সালে ঢাকায় চলে এসে মগবাজার এলাকায় একটি বিকাশের দোকানে চাকুরী শুরু করে। অতঃপর ২০১৫ সালে মিরপুরের আহম্মেদনগর এলাকায় নিজে বিকাশের ব্যাবসা শুরু করে। প্রতারণার উদ্দেশ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে সে বিভিন্ন ব্যাংকে ৫ টির অধিক একাউন্ট খোলে। পরবর্তীতে সে ২০১৮ সালে মিরপুর-২ এর ১৩ নং ওয়ার্ডের ৬০ ফিট এলাকায় ‘ইন্টার্ণ ব্যাংকিং এন্ড কমার্স’ নামে একটি এজেন্ট ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করে। ওমর ফারুক তার এজেন্ট ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এলাকার গ্রাহকের গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের বিল পরিশোধ করত। গত ২০১৮ সাল থেকে তিতাস গ্যাস, ওয়াসা ও ডেসকোর গ্রাহকদের কাছ থেকে বিল সংগ্রহ করে জমা না দিয়ে বিলের টাকা আত্মসাৎ করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়।

 

ওমর ফারুকের প্রতারণা’র কৌশল :

ক/ এজেন্ট ব্যাংকিং পরিচালনা : ২০১৮ সাল থেকে জালিয়াতির রাজা প্রতারক ওমর ফারুক মিরপুর-২ এর ৬০ ফিট এলাকায় ‘ইন্টার্ন ব্যাংকিং এন্ড কমার্স’ নামে একটি এজেন্ট ব্যাংকিং এর মাধ্যমে প্রায় দেড় হাজার গ্রাহকের নিয়মিত গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের বিল পরিশোধ করত। বিল সংগ্রহের সময় গ্রাহককে ব্যাংকের সিলসহ সংশ্লিষ্ট বিলের রশিদ সরবরাহ করায় সে ধীরে ধীরে গ্রাহকদের মাঝে বিশ্বস্ততা অর্জন করেন এবং এলাকায় পরিচিত হয়ে ওঠেন পরবর্তীতে সে প্রায় দেড় হাজার গ্রাহকের তিতাস গ্যাস, ওয়াসা ও ডেসকোর বিল জমা করার নামে বিল সংগ্রহ করে জমা না করে প্রায় ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে।

খ/ এমএলএম ব্যবসা : সে ‘অটুট বন্ধন’ নামে একটি এমএলএম সমিতি প্রতিষ্ঠা করে সাধারণ জনগণকে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন গ্রাহকের নিকট হতে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে।

গ/ মোবাইল ব্যাংকিং সেবা : সে প্রতারণার উদ্দেশ্যে বিকাশ, নগদ এবং অন্যান্য মোবাইল ব্যাংকিং এর অনুরুপ বিল পরিশোধের জন্য ‘নব ক্যাশ’ নামক একটি সেবা চালু করে সাধারণ মানুষের নিকট হতে বিপুল পরিমান টাকা হাতিয়ে নেয়।

ঘ/ গ্রেফতারকৃত প্রতারক এসব অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছে এবং এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণসহ মিরপুর মডেল থানায় পূর্বের দায়েরকৃত মামলায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। তার এই প্রতারণা কাজে অন্যান্য সহযোগীদের গ্রেফতারে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

 

এমটিকে/বাংলারচোখ

সামাজিক মাধ্যমগুলোতে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও খবর...
© All rights reserved © 2021 www.banglarchokhnews.com  
Theme Customized BY LatestNews