1. [email protected] : mainadmin :
  2. [email protected] : special_reporter :
  3. [email protected] : subadmin :
বাংলার চোখ নিউজ | অনলাইন সংস্করণ | ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস: প্রত্যাশা-প্রাপ্তি
বুধবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২২, ০৫:০৯ অপরাহ্ন

ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস: প্রত্যাশা-প্রাপ্তি

বাংলার চোখ সংবাদ
  • সময়ঃ বুধবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২১

সম্পাদকীয় :

১২ ডিসেম্বর ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস ছিল। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ তার নির্বাচন ইশতিহার ডিজিটাল বাংলাদেশ; রূপকল্প–২০২১ ঘোষণা করেছিল। সময়ের ব্যাবধানে বাংলাদেশ কতটা ডিজিটালাইজড হয়েছে আর রূপকল্প ২০২১ কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে তা ডিজিটাল দিবসে পর্যালোচনা দায়ি রাখে।

একথা সত্য ডিজিটাল বাংলাদেশ গণমানুষের জীবন যাত্রাকে অনেকটাই সহজ করেছে। এখন মানুষ বাস, ট্রেনের টিকিট ঘরে বসেই কাটতে পারে,অনলাইন ব্যবসার কারণে ঘরে বসেই পেতে পারে যেকোনো পণ্য। কদিন আগে করোনার সংক্রমণের সময় স্কুল , কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা অনলাইনে পড়াশোনা করেছে।

বাসায় বসে অনলাইনের মাধ্যমে অফিস সচল রেখেছে। ২০০৮ সালের মতো অবস্থা থাকলে এসব সম্ভব হতো না। ইন্টারনেটের কল্যাণে আজ পুরোবিশ্ব হাতের মুঠোয় এছেসে। বাংলাদেশে এখন ৯০ শতাংশ সরকারি সেবা অনলাইনে পাওয়া যায়। মুঠোফোন, কম্পিউটার, ইন্টারনেট ইত্যাদি ডিজিটাল সরঞ্জাম ও ব্যবহার অনেক বেড়েছে ও সম্প্রসারিত হচ্ছে। অনেক ধরণের সেবা ও সেবার তথ্য এখন অনলাইনে পাওয়া যায়।

মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করছে। বাড়ছে অনলাইন ভিত্তিক ব্যবসা। অন্যদিকে সামগ্রিক অর্থে এখনো ডিজিটাল ব্যবস্থার বাইরে রয়েছে বহু মানুষ। একই ভাবে অনেক সেবাও এখন ডিজিটালাইজ হয় নি। ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার ও ব্যবস্থা ব্যবহার করে দুর্নীতি কমানো,সুশাসন এগিয়ে নেওয়া,ব্যবসা বাণিজ্য সহজ করার ক্ষেত্রে এখনো পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ।

এখনো বাংলাদেশ স্মার্ট ফোন ব্যবহারে প্রতিবেশী ও সমপর্যায়ের দেশগুলো থেকে পিছিয়ে রয়েছে। মাত্র ৩৫ শতাংশ মুঠোফোন ব্যাবহারকারী স্মার্ট ফোন ব্যবহার করেন। অথচ ভারত, পাকিস্তান, মিয়ানমার, শ্রীলংকা অনেক এগিয়ে আছে। শুধু নয় নেপালেও স্মার্ট ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৫৩ শতাংশ। ইউরোপীয় সেন্টার ফর ডিজিটাল কম্পিটিভনেসের ডিজিটাল রাইজার প্রতিবেদন-২০২১ অনুযায়ী ডিজিটাল ব্যবস্থা গ্রহণে এগিয়ে যাওয়া দেশগুলোর মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ দ্বিতীয়। শ্রীলংকা এ তালিকায় প্রথমে রয়েছে।

ডিজিটালের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পিছিয়ে আছে জাতিসংঘের ই-গভর্নমেন্ট জরিপ,মোবাইল ইন্টারনেটের গতি,ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের দাম,স্মার্ট ফোন ব্যবহার,ডিজিটাল জীবনমান ও বৈশ্বিক স্টার্টআপ র‌্যাংকিংয়ে। জাতিসংঘের ২০২০ সালের ই-গভর্নমেন্ট জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশের অবস্থান ১১৯তম। জরিপে ভারত,ভুটান ও ভিয়েতনামের মতো দেশগুলো বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে।

সাফসার্কের ডিজিটাল কোয়ালিটি অফ লাইফ ইনডেক্স-২০২১ বলছে,এ সূচকে বাংলাদেশ ১১০টি দেশের মধ্যে ১০৩তম। দক্ষিণ এশিয়ায়ও সর্বনিন্ম অবস্থানে রয়েছে। এ সূচকে ইন্টারনেটের সামর্থ ও মান; ই-অবকাঠামো,ই-নিরাপত্তা ও ই-সরকারের মতো বিষয় গুলো দেখা যায়।

এতকিছুর পরও বাংলাদেশের ১৩ কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে,২০ লক্ষ দক্ষ মানবসম্পদ তৈরী করা সম্ভব হয়েছে,অনলাইন নির্ভর কর্মসংস্থান করা সম্ভব হয়েছে,ইন্ডাস্ট্রি প্রমোশোনের মাধ্যমে ১.৩ বিলিয়ন ডলার মূল্যের আইসিটি রপ্তানি করা সম্ভব হয়েছে। এখন ২০৪১ সালের মধ্যে প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে এগুচ্ছে।

আর তা হবে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে নেতৃত্বদানকারী বাংলাদেশ। রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নে কিছুটা ঘাড়তি থাকলেও এখন ডিজিটাল বাংলাদেশ স্বপ্ন নয় বাস্তব। যেসব অপূর্ণতা রয়েছে তা রূপকল্প -২০৪১ বাস্তবায়নের পথেই দূরকরা সম্ভব। কারণ প্রযুক্তি নির্ভর শিল্প ব্যবস্থার প্রতি শেখ হাসিনার সরকার নজর দিচ্ছে। জ্ঞান ভিত্তিক সমাজ নির্মাণে আগ্রহ বাড়ছে। তাই আমরা আশায় বুক বাঁধতে পারি।

 

এমটিকে//বাংলারচোখ

শেয়ার করুন...

আরও খবর...
© All rights reserved © 2021 | বাংলার চোখ নিউজ
Theme Customized BY LatestNews