1. mainadmin@banglarchokhnews.com : mainadmin :
  2. newsdhaka07@gamil.com : special_reporter :
  3. subadmin@banglarchokhnews.com : subadmin :
বাংলার চোখ নিউজ | অনলাইন সংস্করণ | দর্শনার্থীদের দৃষ্টি কাড়ে বিশ্ব কবির কাছারি বাড়ি
শুক্রবার, ১৯ অগাস্ট ২০২২, ১১:৫২ পূর্বাহ্ন

দর্শনার্থীদের দৃষ্টি কাড়ে বিশ্ব কবির কাছারি বাড়ি

বাংলার চোখ সংবাদ
  • সময়ঃ রবিবার, ৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২২

সেলিম রেজা :

সিরাজগঞ্জে শাহজাদপুর জমিদারি একদা নাটোরের রাণী ভবানীর জমিদারীর অংশ ছিলো। ১৮৪০ খ্রিঃ শাহজাদপুরের জমিদারি নিলামে উঠলে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতামহ প্রিন্স দারকনাথ মাত্র ১৩ টাকা দশ আনায় কিনে নেন। জমিদারির সাথে সাথে শাহজাদপুরের কাছারি বাড়ি ঠাকুর পরিবারের হস্তগত হয়েছিলো বলে ধারণা করা হয়। তার আগে এখানে ছিল নীলকরদের নীলকুঠি। তবে নীলকুঠি বর্তমান পরিত্যাক্ত, লন্ডন থেকে ঘুরে আসার পর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ওপর জমিদারি তদারকির ভার ন্যস্ত হয়। ১৮৯০ থেকে ১৮৯৭ সাল পর্যন্ত মাত্র আট বছর জমিদারি দেখাশোনার জন্য মাঝে মাঝে শাহজাদপুরে আসতেন এবং সাময়িকভাবে বসবাস করতেন। তিনি স্থায়ীভাবে থাকতেন কুষ্টিয়ার শিলাইদহে। সম্ভবত এ কারণে কুষ্টিয়ার শিলাইদহে তার বাসগৃহ কুঠিবাড়ী ও শাহজাদপুরের বাড়িটি কাছারি বাড়ি নামে পরিচিত।

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে পৌর সদর দ্বারিয়াপুরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে রবীন্দ্র কাছারি বাড়ি। শাহজাদপুরের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য, তার মানস গঠনেও এ অঞ্চলের প্রভাব অনস্বীকার্য। ১৯৪০ সালে ‘বাণী সম্মেলনীতে তিনি সে কথা স্বহস্তে লিখে পাঠান। ১৯৬৯ সালে শাহজাদপুরের এই কাছারি বাড়ীকে পরিছন্ন করে সরকার প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতায় এনে সংরক্ষণের উদ্দ্যোগ নেয় এবং ১৯৯৯ সালে কাছাড়ি বাড়ীর পশ্চিম আঙ্গিনায় ৫০০ আসন বিশিষ্ট উত্তর বঙ্গের সবচেয়ে নান্দনিক অডিটোরিয়াম নির্মান করে। প্রতি বছর বাংলা সনের ২৫, ২৬, ২৭ বৈশাখ কবির জন্মজয়ন্তী সরকারিভাবে উদযাপন করা হয় নানা অনুষ্ঠানমালার মাধ্যমে। উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ উপলক্ষে ৫দিন ব্যাপী বসে রবীন্দ্র মেলা। এসময় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কবি ভক্তরা ভীড় করে কবির কাছারি বাড়ীতে’ বর্তমানে কাছারি বাড়ীটি আধুনিকতায় বাহারী গাছ ও ফুলের সমারোহে সুসজ্জিত করার ফলে পর্যটকদের দারুন ভাবে আকর্ষিত করছে।

শাহজাদপুরের পৌর শহরের দ্বাড়িয়াপুরে কাপড়ের হাট সংলগ্ন উপজেলা পরিষদের উত্তরে প্রায় দশ বিঘা জমির ওপর পুরো কাছারি বাড়ির অবস্থান। রবীন্দ্র স্মৃতি যাদুঘর হলুদ রঙের দ্বি-তল ভবন। ভবনের দৈর্ঘ্য ২৬.৮৫ মিটার, প্রস্থ ১০.২০ মিটার, উচ্চতা ৮.৭৪ মিটার। প্রতি তলায় সাতটি করে ঘর। উত্তর ও দক্ষিণে প্রশস্থ বারান্দা। কুঠি-ভবনের পাশেই কাছারি বাড়ি, মালখানা পুরোটাই ‘রবীন্দ্র -কাছারি। কাছারি বাড়িটি দেখভালে একজন কাস্টোডিয়ানসহ স্থায়ী অস্থায়ী ভিত্তিতে দশজন জনবল নিযুক্ত করেছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর।

কাছারি বাড়ির দক্ষিণ দিকের গেটটি বর্তমানে প্রধান গেইট করা হয়েছে। কাছারি বাড়ির গেটে দাঁড়ালেই চোখ জুড়িয়ে যায়, বড় বাগান, নানা রঙের ফুল, বাগানের পরই তার হলুদ রঙের দোতলা কুঠি। নিচতলা জুড়ে রবীন্দ্রনাথের নিজের বিভিন্ন ছবি, তার আঁকা ছবি এবং তার হাতে লেখা পাণ্ডুলিপির পাতার অংশ বাধাই করে দেয়ালে টানানো রয়েছে। কিছুদিন আগেও এখানে লাইব্রেরি ছিল। অডিটোরিয়াম হওয়ার পর লাইব্রেরিটি তারই একটি কক্ষে স্থানান্তরিত হয়েছে। উত্তরদিকের বারান্দার একেবারে পশ্চিমে সিঁড়িঘর। গোল-প্যাঁচানো সিঁড়িটি যেন সবাইকেই উপরে উঠার জানান দেয়। ওঠার সময় পশ্চিমে একটি জানালা। সিঁড়ির মুখেই দুটি দরজা একটি দরজা খোলা শুরুতেই একটি পালকি চোখে পরবে, এটিই সেই ঠাকুর বাড়ির পালকি’ বংশ পরম্পরায় ব্যবহার হয়েছে এই পালকি, পড়ার টেবিল, চিঠি লেখার ডেস্ক, আলনা, গোল টি-টেবিল। এরপর এঘর থেকে আরেক ঘর।

সেগুলোতে রক্ষিত রয়েছে রবীন্দ্রনাথের ব্যবহৃত নানারকম আসবাব-তৈজষপত্র বেতের চেয়ার, বড় ড্রেসিং টেবিল, চিনা মাটির ছাকুনি, টেবিল বেসিন, আলনা, দেবতার আসন, বড় টেবিল, শ্বেত পাথরের গোল টেবিল, ইজি চেয়ার, পিয়ানো, কাঠের দোলনা চেয়ার, সোফা সেট, হাতলযুক্ত চেয়ার, স্ট্যান্ডে সংযুক্ত দুটি ড্রয়ার, হাতলওয়ালা গদিযুক্ত চেয়ার, আলনা স্ট্যান্ড, ৫টি আলমারি, আলমারির ভেতরে কেতলি, সসপ্যান, ফ্রাইপ্যান, কাটা চামচ, চিনা মাটির ফুলদানি, ডিস, টব, জগ, জমিদারি মনোগ্রাম ৭টি, বালতি, কেরোসিনের বাতি, ঘণ্টা ট্রে, বাতির চিমনি ইত্যাদি। আরও রয়েছে দুটি খাট।

প্রতিদিন শত শত দর্শনার্থী বেড়াতে আসেন এই কাছারি বাড়িতে। কাছারি বাড়ীতে সাধারন দর্শনার্থীদের প্রবেশ টিকিট মুল্য ২০ টাকা। ১ টিকিটে সারাদিন কাছারি বাড়ি ঘুরে দেখার সুযোগ এখানে তবে একবার বাউন্ডারির বাহিরে গেলে পুনরায় প্রবেশের জন্য টিকিট নিতে হবে। প্রবেশ টিকিট বিক্রি প্রতিমাসে প্রায় দেড় লাখ টাকা। কাছারি বাড়ির প্রধান ফটকে টিকিট কাউন্টারে টিকিট পাওয়া যায়। এখানকার অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে হলে প্রতি ৬ ঘন্টায় ভাড়া ভ্যাটসহ ৬৯০০টাকা। আপনি যদি ইচ্ছে করেন তাহলে পরিবারপরিজন নিয়ে ঘুরতে যেতে পারেন।

দেশের যেকোন প্রান্ত থেকে শাহজাদপুর বিসিক বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছালেই চোখে পড়বে কবিগুরুর ভাসকর্য। ওখান থেকে রিক্সাযোগে অথবা গাড়ি যোগে সরাসরি কবি গুরুর কাছারি বাড়িতে যাওয়া যায়। তবে চলাচলের সুবিধার্থে দিলরুবা বাসস্ট্যান্ড হয়ে কাছারি বাড়ীতে পৌছানো সহজ। যাতায়াতের সুবিধার্থে গুগল ম্যাপের সহযোগিতা নেওয়া যায়। যাদুঘর পরিদর্শন করা যায় প্রতি মঙ্গলবার, শনিবার সকাল ১০টা হতে বিকেল ৬টা পর্যন্ত। দুপুর ১টা থেকে ১ঃ ৩০ পর্যন্ত বিরতি শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২ঃ ৩০ পর্যন্ত এবং দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৬টা পর্যন্ত। সোমবার ২ঃ ৩০ থেকে বিকেল ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকে। এখানে রোববার সাপ্তাহিক পুর্নদিবস ও সোমবার অর্ধদিবস বন্ধ থাকে এছারা অন্যান্য সরকারি ছুটির দিন বন্ধ থাকে। টিকিটমুল্য নির্ধারন করা হয়েছে, দেশি পর্যটক ২০টাকা এবং সার্কভুক্ত বিদেশী পর্যটকের টিকিট মুল্য ১০০টাকা কিন্তু সার্কের বাইরের বিদেশী পর্যটকের টিকিট মুল্য ২০০টাকা। এক টিকিটে সারাদিন কাচারিবাড়ি পরিদর্শন করার সুযোগ আছে। এছারা বাস/ট্রাক পার্কিং ১০০টাকা মাইক্রোবাস ৫০টাকা এবং মোটর সাইকেল ১০টাকা দিতে হয় কর্তৃপক্ষকে।

সতর্কতাঃ কবিগুরুর কাচারি বাড়িতে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি কোন ব্যাক্তি কোনরুপ ধ্বংস বা অনিষ্ট সাধন করলে বা কোনরুপ বিকৃত বা কোনরুপ অংগচ্ছেদ ঘটালে বা কোন কিছু লিখলে অথবা খোদাই করলে বা চিহ্নদাগ কাটলে ১৯৬৮ সালের ১৪নং পুরাকীর্তি আইনের ১৯ ধারার অধীনে তিনি সর্বাধিক এক বছর জেল-জরিমানা অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন।

এখনকার কাস্টোডিয়ান মোঃ আবু সাইদ ইনাম তানভিরুল জানান, রবীন্দ্র কাছারি বাড়ি শাহজাদপুর বাংলাদশে সরকাররে গুরুত্বর্পূণ সংরক্ষতি পুরার্কীত। রবীন্দ্র কাছারি বাড়িতে দর্শক ও র্পযটক বৃদ্ধিতে আমরা নানাবধি পদক্ষপে গ্রহণ করেছি। করোনা কালীন সময়ে সকল দর্শনার্থী এবং অত্র দপ্তরের কর্মচারীগণ জাদুঘরে প্রবেশের সময় তাদের হাতে জীবানুনাশক স্প্রেকরণ, কর্মচারীদের মধ্যে সার্জিক্যাল মাস্ক বিতরণ এবং জাদুঘর ক্যাম্পাস পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা ও নিয়মিত জীবানুনাশক স্প্রে করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন সচেতনতামূলক পোস্টারের মাধ্যমে দর্শনার্থীদের সর্তক করা হচ্ছে। করোনাকালীন সময়ে বিদেশি দর্শনার্থীদের আগমন তুলনামূলকভাবে কম।

 

//এমটিকে

শেয়ার করুন...

আরও খবর...
© All rights reserved © 2021 | বাংলার চোখ নিউজ
Theme Customized BY LatestNews