1. mainadmin@banglarchokhnews.com : mainadmin :
  2. newsdhaka07@gamil.com : special_reporter :
  3. subadmin@banglarchokhnews.com : subadmin :
বাংলার চোখ নিউজ | অনলাইন সংস্করণ | দীর্ঘদিন ধরে ৪টি পরিবার একঘরে
শুক্রবার, ১৯ অগাস্ট ২০২২, ১০:৩৬ পূর্বাহ্ন

দীর্ঘদিন ধরে ৪টি পরিবার একঘরে

বাংলার চোখ সংবাদ
  • সময়ঃ রবিবার, ৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২২

শহিদুল ইসলাম :

নওগাঁয় জমি’র মালিকানা নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্রকরে ৪টি পরিবারকে দীর্ঘদিন ধরে এক ঘরে করে করে রাখার অভিযোগ উঠেছে মাতব্বরদের বিরুদ্ধে। এছাড়াও ইটের প্রাচীর দিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে ঐ ৪টি পরিবারের সদস্যদের চলাচলের রাস্তা।

সুষ্ঠ প্রতিকার চেয়ে লিখিত অভিযোগ করার পর ৩ মাসেও প্রতিকার মেলেনি একঘড়ে থাকা পরিবারগুলোর।

এছাড়া সম্পতি একঘড়ে অবস্থায় থাকার ঘটনাটি সংবাদ কর্মীদের জানানোর অপরাধে গত বৃহস্পতিবার বিকালে ভুক্তভোগী পরিবার গুলোর সদস্য- রমজান ও কালাম নামে দু’জনকে মারপিটের স্বিকার হোন। মারপিটে গুরুত্বর আহত অবস্থায় রমজান কে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে পরিবারের সদস্যরা। এরপর রমজানের অবস্থা আরো গুরুত্বর হলে রবিবার তাকে (রামেক) রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় বলেও ভুক্তভোগী পরিবার সুত্রে জানাগেছে। একঘড়ে করে রাখার ঘটনাটি ঘটনাটি নওগাঁর রানীনগর উপজেলার মিরাট ইউনিয়নের বড়খোল গ্রামের।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য বড়খোল গ্রামের আকবর দেওয়ানের ছেলে ছামছুর দেওয়ান সহ পরিবারের সদস্যরা সাংবাদিকদের জানান, বড়খোল উচ্চ বিদ্যালয়ের সাথে ছামছুর দেওয়ান পরিবারের জায়গা-জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। গ্রামের মাতাব্বর প্রধান এবং ঐ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন জায়গা ছেরে দিয়ে ঘরবাড়ি ভেঙ্গে নিয়ে পার্শ্বের খাস জমিতে বসতি স্থাপনের প্রস্তাব দেয়। ঐ প্রস্তাব নাকচ করার কারনে গত সাত মাস আগে গ্রামের মাতাব্বর আব্দুল করিম, রিয়াজুল ইসলাম, বেলাল ও প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন সহ লোকজন নিয়ে ছামছুর দেওয়ানের পরিবারের সদস্য মোমেনা বিবির ঢোক দোকান ঘর ভেঙ্গে দেয়। এরপর মাতাব্বররা ছামছুর দেওয়ান, ভাই উজ্জল দেওয়ান, শরিকান রমজান দেওয়ান এবং মোমেনা বিবি, মোট ৪টি পরিবারকে এক ঘরে করে রাখেন। এরপর আমরা জায়গার মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা দিয়েছি।

ছামছুর দেওয়ান আরো জানান, মাতাব্বর রিয়াজ দেওয়ান নিজে এসে ছামছুর দেওয়ানসহ ৪ পরিবারের লোকজনকে এক ঘরে করে রাখার বিষয়টি জানায়। এছাড়া সমাজের কোন লোকজন ঐ ৪ পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলতে, ছামছুর দেওয়ানের ভ্যান গাড়ীতে যাতায়াত করতে, দোকান থেকে কোন জিনিস ক্রয় করতে এবং মসজিদে নামাজ পরতে পারবেনা বলেও জানিয়ে দেয়।

এমনকি কেউ নির্দেশনা ভঙ্গ করলে তার এক হাজার টাকা জরিমানা করা হবে বলেও তারা ঘোষনা দেয়। এমন নির্দেশনার পর থেকে গ্রামের কোন লোকজন তাদের সাথে কথা বলেনা এবং দোকান থেকে কোন জিনিসপত্র বা ওষুধও বিক্রি করেনা এবং তাদের ভ্যান গাড়ীতেও কেউ যাতায়াত করেনা। এছাড়া বিদ্যালয়ের জায়গা দাবি করে ছামছুর দেওয়ান সহ ৪টি পরিবারের লোকজনের চলা-চলের রাস্তা ইটের প্রাচির দিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয়। রাস্তা বন্ধ করার পর ৪ টি পরিবারের লোকজনকে বাড়ী থেকে বের হতে হচ্ছে ইটের দেওয়া প্রাচির টপকে। যার ফলে ঐ ৪ টি পরিবারের ২১জন সদস্য চরম দূর্ভোগের মধ্যে জীবন-যাপন করছেন।

ঐ গ্রামের শাহিন হোসেন, ইকবাল হোসেন, খায়রুল ইসলাম প্রামানিক সাংবাদিকদের জানান, স্কুলের সাথে জায়গা নিয়ে বিরোধ চলছে। কয়েক বার বসেও সমাধান হয়নি তাই মাতাব্বরদের নির্দেশে সমাজ থেকে তাদেরকে এক ঘরে করে রেখেছে। যে কারনে আমরাও কথা বলিনা।

সুষ্ঠু প্রতিকার চেয়ে ছামছুর দেওয়ান নওগাঁ জেলা প্রসাশক বরাবর লিখিত অভিযোগ করলে গত ২৭ শে অক্টোবর-২১, নওগাঁ জেলা প্রসাশক রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে “ব্যক্তিগত ভাবে দেখে অবহিত” করার নির্দেশ দেন। এরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থল তদন্ত করে আসলে গত ৩ মাসেও কোন সুষ্ঠু প্রতিকার মেলেনি বলেও জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

তবে গ্রামের প্রধান মাতাব্বর আব্দুল করিম, রিয়াজ উদ্দীন এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন এক ঘরে করে রাখার অভিযোগ অস্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেন, ছামছুর দেওয়ানরা খারাপ মানুষ। যে কারনে গ্রামের লোকজন ঘৃনা করে ওদের সাথে কথা বলেনা। এছাড়া ওরা নিজেরায় নিজেদের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করেছে। আমরা তাদেরকে বন্ধ করিনি।

এ ব্যাপারে স্থানিয় মিরাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফেজ মোঃ জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, কেউ বিষয়টি এখন পর্যন্ত আমাকে জানায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রানীনগর থানার ওসি শাহীন আকন্দ বলেন, একঘরে করে রাখা এবং মারপিটের বিষয়ে ভুক্তভোগীরা থানায় কোন লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার মাহাতো বলেন, জেলা প্রসাশকের নির্দেশে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং উভয় পক্ষকে আমার দপ্তরে ডেকেছি। আসা করছি তারা আসবেন এবং দ্রুত সময়ের মধ্যেই এসমস্যা সমাধান হবে।

 

//এমটিকে

শেয়ার করুন...

আরও খবর...
© All rights reserved © 2021 | বাংলার চোখ নিউজ
Theme Customized BY LatestNews