বাংলার চোখ | দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে সুপ্রিমকোর্ট
  1. [email protected] : mainadmin :
বাংলার চোখ | দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে সুপ্রিমকোর্ট
শুক্রবার, ০৫ মার্চ ২০২১, ১১:০৪ অপরাহ্ন

দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে সুপ্রিমকোর্ট

বাংলার চোখ সংবাদ
  • সময় শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২০
  • ২৭ দেখেছেন

অসদাচরণ, দুর্নীতি ও শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজ করায় গত তিন সপ্তাহে চার কর্মকর্তা-কর্মচারীক বরখাস্ত করেছে সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন। একজনের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি (ইনক্রিমেন্ট) এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।

তারা বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে যে অনিয়ম-দুর্নীতি চলে আসছে সেটা চিরতরে নির্মূলে সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসনের চলমান অভিযান যেন অব্যাহত থাকে।

অভিযোগ আছে মামলা দায়ের থেকে আদেশের অনুলিপি পেতে বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সীমাহীন দুর্নীতির শিকার হচ্ছেন আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীরা। জালিয়াতির মাধ্যমে জামিন, উৎকোচের মাধ্যমে মামলার সিরিয়াল দেয়া এবং এফিডেভিটসহ বিভিন্নভাবে সেকশনের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারী দুর্নীতিতে জড়িত।

এ নিয়ে ৮ আগস্ট প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের সঙ্গে আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির দীর্ঘ বৈঠক হয়। ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল ওই বৈঠকে আপিল বিভাগের সব বিচারপতি ও অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম অংশ নেন।

বৈঠকে আইনজীবী সমিতির নেতারা প্রধান বিচারপতিকে বলেন, সুপ্রিমকোর্টে মামলা দায়ের থেকে আদেশের অনুলিপি পেতে বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সীমাহীন দুর্নীতির শিকার হচ্ছেন আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীরা। আদালতের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একটি বড় অংশের লোভের কারণে বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের হতাশা বেড়েই চলেছে। বিচার বিভাগের অভিভাবক হিসেবে দুর্নীতির এই ভয়াল গ্রাস থেকে বিচারপ্রার্থী জনগণকে বাঁচাতে আপনাকে যথাযথ পদক্ষেপ নিতেই হবে। দুর্নীতি ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নিতে সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন, অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় ও আইনজীবী সমিতির সদস্যদের নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা দরকার।

এ সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, ঢালাও নয়, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দিন। দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলেই আমি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেব। কোনো ছাড় দেয়া হবে না। এজন্য বার ও বেঞ্চকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সুপ্রিমকোর্টের মুখপাত্র ব্যারিস্টার মোহাম্মদ সাইফুর রহমান বলেন, সব ধরনের অনিয়ম এবং দুর্নীতির বিষয়ে প্রধান বিচারপতি কঠোর অবস্থানে আছেন। এ বিষয়ে কোনো ছাড় নেই।

এফিডেভিট শাখায় অভিযান : ১৬ আগস্ট সুপ্রিমকোর্টের এফিডেভিট শাখায় অভিযান চালায় আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলীর নেতৃত্বে একটি দল। করোনাকালে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ না করা, শাখায় অযাচিত অবস্থান করাসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে পুলিশ ৪৩ জনকে আটক করে। পরে মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়।

অসদাচরণ ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ : অসদাচরণের অভিযোগে ওইদিন মো. মুর্শেদুল হাসান নামে এক বেঞ্চ অফিসারকে বরখাস্ত করে সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন। বৃহস্পতিবার রাতে (২০ আগস্ট) অসদাচরণ, দুর্নীতি ও অফিস শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজ করার গুরুতর অভিযোগে হাইকোর্ট বিভাগের দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে প্রশাসন।

এরা হলেন- প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবদুর রশিদ ও মো. সেরাজুল ইসলাম। এ দু’জন এফিডেভিট কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এর আগে ২৭ জুলাই অসদাচরণের অভিযোগে আনোয়ার সাদাত নামে একজন এমএলএসএসকে (অফিস সহায়ক) চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।

সুপারিনটেনডেন্ট রেজাউলের একটি বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট স্থগিত : সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের সুপারিনটেনডেন্ট মো. রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তার বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি (ইনক্রিমেন্ট) এক বছরের জন্য স্থগিত করেছে প্রশাসন। ১৭ আগস্ট এ বিষয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।

এতে বলা হয়, সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের সুপারিনটেনডেন্ট মো. রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে দায়ের করা বিভাগীয় মামলায় আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ১৯৮৩ এর ৪(১) বিধি অনুসারে তার বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি (ইনক্রিমেন্ট) এক বছরের জন্য স্থগিত করে বিভাগীয় মামলাটি নিষ্পত্তি করা হল।

জানা যায়, ২০১৭ সালের একটি জামিন জালিয়াতির ঘটনায় হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রারকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করে সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন। কমিটি তদন্ত প্রতিবেদনে জাল জামিন আদেশ তৈরির ক্ষেত্রে হাইকোর্টের ফৌজদারি বিবিধ শাখার ৯ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দায়ী করে। তদন্তে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী, আইনজীবীর সহকারী, সংশ্লিষ্ট ডেপোনেন্ট ও অন্যান্য ব্যক্তিকেও দায়ী করা হয়।

এ ঘটনায় ফৌজদারি মিস শাখার জমাদার মঞ্জু রানী কৈরীর বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় মামলা করে প্রশাসন। পরে তাকে বরখাস্ত করা হয়। কিন্তু জড়িত অন্যদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। বন্ধ হয়নি জামিন জালিয়াতির ঘটনাও।

চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযান প্রসঙ্গে কথা হয় সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এএম আমিন উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, সুপ্রিমকোর্টে অনিয়ম দুর্নীতির বিষয়ে কিছু দিন আগে বারের পক্ষ থেকে প্রধান বিচারপতিকে অবহিত করা হয়। প্রধান বিচারপতি আমাদের বলেছেন, অভিযোগ সুনির্দিষ্ট করে জানালে আমরা ব্যবস্থা নেব। পরে আমরা আইনজীবীদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে অবহিত করলে সুপ্রিমকোর্ট বিষয়গুলো কঠোরভাবে দেখে। তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতি এবং আপিল বিভাগের বিচারপতিরা দুর্নীতির বিষয়ে জিরো টলারেন্স অবস্থান নিয়েছেন।

সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, গত বুধবার আইনজীবী মিজানুর রহমানের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সমিতির নেতারা প্রশাসনকে অবহিত করে। পরে রেজিস্ট্রার জেনারেলের নেতৃত্বে অন্য কর্মকর্তারা সেকশনে গিয়ে অবৈধ টাকাসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবদুর রশিদ ও মো. সেরাজুল ইসলামকে হাতেনাতে ধরে। এ দু’জনকে বৃহস্পতিবার বিভাগীয় মামলা দিয়ে বরখাস্ত করে প্রশাসন।

তিনি বলেন, সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসনের দুর্নীতিবিরোধী অভিযানকে আমরা সাধুবাদ জানাই। দুর্নীতি নির্মূলে আমরা সব ধরনের সহযোগিতা করব।

চলমান অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়ে সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, বিদ্যমান যে অনিয়ম-দুর্নীতি চলে আসছে সেটাকে চিরতরে নির্মূলে সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসনের চলমান অভিযান যেন অব্যাহত থাকে।

সামাজিক মাধ্যমগুলোতে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও খবর...
© All rights reserved © 2021 www.banglarchokhnews.com  
Theme Customized BY LatestNews