1. [email protected] : mainadmin :
  2. [email protected] : subadmin :
বাংলার চোখ | নরসিংদীতে দেশীয় পদ্ধতিতে গরু লালন পালন
বৃহস্পতিবার, ০৬ মে ২০২১, ০৭:৪৩ পূর্বাহ্ন

নরসিংদীতে দেশীয় পদ্ধতিতে গরু লালন পালন

বশির আহম্মেদ মোল্লা
  • সময়ঃ শনিবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২১

নরসিংদী প্রতিনিধি :

“নরসিংদীর রায়পুরার চরাঞ্চলের চরমধুয়া গ্রীণ এগ্রো ফার্মে সর্ম্পূণ প্রাকৃতিকভাবে স্বাস্থ্যসম্মত গরু কোরবানির জন্য ক্ষতিকর ঔষুধ প্রয়োগ ছাড়াই সর্ম্পূণ দেশীয় পদ্ধতিতে দেশীয় খাবারের মাধ্যমে গরু লালন পালন “

নরসিংদীর রায়পুরার চরাঞ্চলের চরমধুয়া গ্রীণ এগ্রো ফার্মে সর্ম্পূণ প্রাকৃতিকভাবে স্বাস্থ্যসম্মত ৫০টি গরু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। এ খামারে কোন ধরনের রাসায়নিক ও মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর ঔষুধ প্রয়োগ ছাড়াই সর্ম্পূণ দেশীয় পদ্ধতিতে দেশীয় খাবারের মাধ্যমে গরু লালন পালন করে গ্রীণ এগ্রো ফার্মের সুনাম খ্যাতি অর্জন করে র্দীঘদিনের ঐহিত্য ধরে রেখেছেন।

আসন্ন কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে প্রতি বছরের মতো এবারো নরসিংদীর খামারীরা সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে স্বাস্থ্য সম্মত গরু ,মহিষ, ছাগল ও ভেড়া মোটাতাজা করছেন। শেষ মূহূর্তে পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন এখানকার খামারীরা।

কোন ধরনের রাসায়নিক ও মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর ঔষুধ প্রয়োগ ছাড়াই সর্ম্পূণ দেশীয় পদ্ধতিতে দেশীয় খাবার খাইয়ে গরু মোটাতাজা করা হচ্ছে। তাই এবার কোরবানীর হাটকে ঘিরে বেশ আশাবাদি হয়ে উঠেছেন।

খামারগুলোতে মানুষের চাহিদা অনুযায়ী ১ লক্ষ টাকা থেকে শুরু করে ৫ লক্ষ টাকা মূল্যের গরু প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে বিদেশী গরু আমদানি না হলে এবছর পশু বিকরি করে লাভবান হওয়ার আশা করছেন খামার মালিকরা।

জেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ঈদকে সামনে রেখে জেলার ছয়টি উপজেলায় ছোট-বড় প্রায় সাড়ে ৫ হাজার খামারী দেশীয় পদ্ধতিতে ২৫ হাজারের বেশি পশু মোটাতাজা করছেন। দেশের বিভিন্ন হাট থেকে গরু কিনে ৬ মাস ও ১ বছর আগে থেকে গবাদি পশু লালন পালন শুরু করেন নরসিংদীর খামারীরা।

কোরবানির ঈদকে ঘিরে অসাধু গরু ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম উপায়ে গরু মোটাতাজাকরণ করলেও এখানকার খামার গুলোতে দেশীয় খাবার খাইয়ে মোটাতাজা করা হয়েছে এসব গরু ও মহিষ গুলোকে। দেশীয় পদ্ধতিতে মোটাতাজাকরণ করায় এই অঞ্চলের গরু ও মহিষরে চাহিদাও অনেক বেশি। এসব ফার্ম ও মহিষ আশেপাশের জেলা সহ বিভিন্ন হাটগুলোতে সরবরাহ করবেন বলে জানিয়েছেন খামারীরা।

সরজেমনি ঘুরে জানা গেছে, অসাধু গরু ব্যবসায়িরা কৃত্রিম উপায়ে গরু মোটাতাজাকরণ করলেও দেশীয় পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজাকরণ করছেন নরসিংদী জেলার খামারিরা। প্রতি বছরই ঈদ এলে গরু বিক্রি করে বাড়তি আয় করেন এই জেলার খামারীরা। ছোট বড় খামাররে পাশাপাশি প্রতিটি খামারি ঈদকে সামনে রেখে গরু মোটাতাজা করে থাকেন। নিষিদ্ধ ঘোষতি ক্ষতকির ইনজকেশন ও ট্যাবলটে পরিহার করে ঘাস খড়ের পাশাপাশি খৈল, গুড়া, ভূষি খাদ্য হিসেবে খাওয়ানোর মাধ্যমে মোটাতাজা করা হয়েছে এসব গরু।  বাজারে দেশীয় স্বাস্থ্যসম্মত গরুর ব্যাপক চাহিদা থাকায় এই ঈদে লাভজনক হবেন বলে আশাবাদী ।

রায়পুরার চরাঞ্চলের চরমধুয়া গ্রামরে গ্রীণ এগ্রো র্ফামস এর মালিক মুজিবুর রহমান সিকদার বলেন, কোন ধরনের রাসায়নিক ও মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর ঔষুধ প্রয়োগ ছাড়াই সর্ম্পূণ দেশীয় পদ্ধতিতে দেশীয় খাবারের মাধ্যমে গরু লালন পালন করা হচ্ছে।  আমার খামারে ৫০টি গরু কোরবানরি জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রত্যেকটি গরু সর্ম্পূণ দেশীয় পদ্ধতিতে দেশীয় খাবার খাইয়ে মোটাতাজা করা হয়েছে।

প্রত্যেকটি গরুকে কাঁচা ঘাস,খড়,তিলের খৈল,ছোলার খলৈ, মসুুরী ডালের খৈল, মটরসহ বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক খাবার খাওয়ানো হয়েছে। সর্ম্পূণ প্রাকৃতিকভাবে স্বাস্থ্যসম্মত এসব গরু মোটাতাজা করা হয়েছে। দেশীয় গরুর চাহিদা থাকায় এরমধ্যে প্রতিদিন খামার পরর্দিশনে আসছেন ক্রেতারা। এ খামার থেকে গরু ক্রয় করতে কোরবানী দিতে আগ্রহ প্রকাশ করছে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অন্যান্য বছরের ন্যায় এ বছরও বিভিন্ন গরুর পাইকার ও কোরবানি ওলারা চরমধুয়া গ্রীন এগ্রো ফার্মে থেকে গরু ক্রয় করতে অনেক লোকের আসা-যাওয়া করছে। গরু সংগ্রহ ও মানুষকে স্বাস্থ্যসম্মত গরু প্রদানরে জন্যই আমার এ উদ্যোগ।

দেশীয় পদ্ধতিতে মোটাতাজকরণ করা গরুগুলোর মধ্যে প্রায় অর্ধেক খামারেই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। এ র্ফামের
গরুন বাজারেও অনেক চাহিদা রয়েছে। তবে এবার ঈদে বিদেশী গরু র্সম্পূণরূপে আমদানী বন্ধ করা হলে দেশীয় খামারীরা এবার ঈদে লাভবান হবে । এছাড়া এবছর ভাল বিক্রি হলে আগামীতে গরু খামারের মাঝারী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তরা আরো খামার তৈয়রী করতে আগ্রহী হবে।

নরসিংদী জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান খান বলেন, ঈদকে সামনে রেখ জেলার ছয়টি উপজেলা ছোট-বড় ৫ হাজার ২শত ৭১ জন খামারী দেশী পদ্ধতিতে ২৪ হাজার ৩শত ২৬টি পশু মোটাতাজা করছনে। মোটাতাজা করণ পশুর মধ্যে রয়েছে ষাড়, বলদ, গাভী, ছাগল ও ভেড়া। এর মধ্যে নরসিংদী সদরে র্সবমোট ৩,৬০৭টি, রায়পুরায় ২,৬৩৮টি, বেলাব ৫,১৬০টি, পলাশ ৪,৩৮২টি, শিবপুর ৩,১৬৮টি ও মনোহরদী ৫,৩৭১টি সম্ভাব্য পশু রয়েছে।

এছাড়াও পশু মোটাতাজাকরণে মানব স্বাস্থ্যরে জন্য ক্ষতকির ঔষধ ব্যবহার বন্ধে মাঠ পর্যায় তদারকি কথা জানালেন জেলা প্রাণি সম্পদ বিভাগ। জেলায় উৎপাদতি পশু নিজ জেলায় চাহিদা মিটিয়ে অন্যজেলায় রপ্তানী সম্ভব্য বলেও মনে করেন তিনি। মডেসিন ব্যবহার না করে দেশীয় প্রযুক্তিতিতে প্রাকৃতি ঘাস, খড় ভূসি ও দানাদার খাবার খাওয়ায়ে গরু মোটা তাজা করণে খামারীদেও উৎসাহিত করা হয়েছে। এছাড়া গরু মোটা তাজা করেন কোন ধরনের রাসায়নকি ব্যবহার রোধে সার্বক্ষনিক মনিটরিং করছে আমাদের লোকজন। প্রতিটি হাটে গরু গুলি পরীক্ষা করার জন্য মনিটরিং সেল বসানো হবে। দেশীয় পদ্ধতিতে মোটা তাজা করণ করায় এই অঞ্চলের গরুর চাহদিাও অনেক বেশী।

 

সামাজিক মাধ্যমগুলোতে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও খবর...
© All rights reserved © 2021 www.banglarchokhnews.com  
Theme Customized BY LatestNews