1. [email protected] : mainadmin :
  2. [email protected] : Mohsin Molla : Mohsin Molla
  3. [email protected] : subadmin :
বাংলার চোখ নিউজ | অনলাইন সংস্করণ | নরিনা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার আখড়া
শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১, ০৯:০৫ অপরাহ্ন

নরিনা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার আখড়া

বাংলার চোখ সংবাদ
  • সময়ঃ বৃহস্পতিবার, ১০ জুন, ২০২১

সেলিম রেজা,স্টাফ রিপোর্টার :

অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, নিরাপত্তা ও চিকিৎসা-এ পাঁচটি মৌলিক চাহিদা সরকারের কাছে সেবা হিসেবে পাওয়া মানুষের রাষ্ট্রীয় অধিকার। এর মধ্যে অন্যতম একটি সেবা হচ্ছে চিকিৎসা সেবা। মানুষের জন্মগত এ অধিকার প্রতিষ্ঠায় এবং সেবা প্রদানের জন্য স্বাধীনতার পক্ষের বর্তমান সরকার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করছেন সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাধ্যমে। কিন্তু, কিছু অর্থলোভী ও অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর কারণে জনসাধারণ সরকারের এ ধরনের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিনামূল্যে সরকারের দেয়া স্বাস্থ্যসেবা নিতে এসে সেবা পাওয়ার পরিবর্তে পদে পদে চরম ভোগান্তিসহ দূর্ব্যাবহার ও কাংখিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার নরিনা ইউনিয়নের একমাত্র ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীরা। ছোট একটি সাইবোর্ডে ৭দিন ২৪ ঘন্টা প্রসব সেবা দেওয়া হয় লেখা থাকলেও তা ঐ সাইনবোর্ডেই সিমাবদ্ধ আছে।

এমন হাজারো অনিয়মের আখড়ায় পরিণত হয়েছে শাহজাদপুর উপজেলার নরিনা ইউনিয়নের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি। হেন কোন অনিয়ম নেই যা এখানে হয়না। ২৪ ঘন্টা প্রসূতী রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার নিয়ম থাকলেও এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ইউনিয়ের সাধারণ জনগন। হাসপাতাল শুরু থেকেই ৭দিন ২৪ ঘন্টা প্রসূতী রোগীদের সেবা সাইনবোর্ডেই সিমাবদ্ধ আছে। ৭দিন ২৪ ঘন্টা প্রসূতী রোগীদের সেবা দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য বিভাগ হাসপাতালটির দোতালা ভবনে আবাসিক কোয়াটারের ব্যবস্থা করলেও আজ পর্যন্ত কেউ থাকনি ঐ কোয়াটারে। কিন্তু প্রতি বছর কোয়াটারটি রং ও মেরামত করার জন্য সরকারের ক্ষতি হচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কোয়াটার গুলো স্টোর হিসাবে ব্যবহার হচ্ছে।

কর্মক্ষেত্রে উপস্থিত থাকার জন্য সরকারের কঠোর নির্দেশনা থাকার পরও তোয়াক্কা করছেন না এ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের কর্মকর্তারা। সঠিক সময়ে খোলা হচ্ছে না স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি। উপজেলা ও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাব ও অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ না নেয়ায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি অনিয়মের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। এর ফলে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি থাকতেও কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, পাইভেট ক্লিনিক এর মার্কেটিং অফিসারদের নিয়মিত আনাগোনা আছে হাসপাতালটিতে। এতে ক্ষতি গ্রস্থ হচ্ছে ইউনিয়নের সেবা নিতে আসা দরিদ্র রোগীরা। এখানে কাঙ্খিত সেবা না পেয়ে তাদের কথা মত দৌরাচ্ছে পাইভেট ক্লিনিক গুলোতে এতে যেমন আর্থিক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে তেমন কাঙ্খিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

এ বিষয়ে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা মোছাঃ খাদিজা খাতুন বলেন, এই চড়ার মধ্যে আমি কি ভাবে থাকবো। আমি ভুতের ভয় খাই। আমার একটা ছোট বাচ্চা আছে তাই আমি এখানে থাকি না। আপনি আপনার বাচ্চার চিন্তা করছেন অথচ সরকার আপনাকে যে অসংখ্য মায়ের অনাগত বাচ্চারা স্বাভাবিক সুস্থ্য ভাবে যেন পৃথীবিতে আসতে পারে সে ব্যপারে সহযোগীতা করার জন্যই সরকার আপনাকে মাসিক বেতনসহ নানাবিধ সুবিধা দিয়ে এখানে থাকার ব্যবস্থা করেছেন আর এই জায়গাকে আপনি কেন চড়া বলছেন আশেপাশে তো অনেক বাড়ী ঘর আছে প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোন উত্তর দেননি।

কিন্তু খাদিজা খাতুনের বিষয়ে এলাকাবাসীর মুখে শোনা যায় ভিন্ন কথা সেখানে থেকে সেবা দেওয়া তো দূরের কথা তিনি তাহার মনমর্জি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটিতে আসেন এবং তিনি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি ত্যাগ করেনও তাহার ইচ্ছা অনুযায়ী। এ যেন তাহার ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান।

অপরদিকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রেটির সভাপতি ও নরিনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ ফজলুল হক (মন্ত্রী)‘র সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমাকে কোন বিষয়ে কিছু জানানো হয় না, এমনকি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রেটির বরাব্দকৃত ঔষধ খোলার সময় আমাকে অবগত করার নিয়ম থাকলেও তা আমাকে আজ অব্দি কোন দিন জানানো হয়নি,
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটির ফার্মাসিস্ট রুহুল আমিন এর কাছে এ ব্যপারে জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদককে বলেন, এমন কোন নিয়ম নাই। তাই আমি কাওকে অবগত করি না।

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা(ভারপ্রাপ্ত) মোঃ ছাইফুল ইসলাম এর কাছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রেটির এমন অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রেটির বরাব্দকৃত ঔষধ খোলার সময় অবশ্যই জনপ্রতিনিধিকে অবগত করতে হবে এবং ৭দিন ২৪ ঘন্টাই যেন প্রসব সেবা ইউনিয়ন বাসী পায় তার জন্য অতিদ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

 

এমটিকে/বাংলারচোখ

সামাজিক মাধ্যমগুলোতে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও খবর...
© All rights reserved © 2021 www.banglarchokhnews.com  
Theme Customized BY LatestNews