1. [email protected] : mainadmin :
  2. [email protected] : special_reporter :
  3. [email protected] : subadmin :
বাংলার চোখ নিউজ | অনলাইন সংস্করণ | পাগলীমার হাটে প্রতিদিন দেড় কোটি টাকার মরিচ বিক্রি
শনিবার, ২৫ জুন ২০২২, ০৭:০০ অপরাহ্ন

পাগলীমার হাটে প্রতিদিন দেড় কোটি টাকার মরিচ বিক্রি

বাংলার চোখ সংবাদ
  • সময়ঃ মঙ্গলবার, ৫ এপ্রিল, ২০২২

নীলফামারী প্রতিবেদক :

মরিচের জন্য বিখ্যাত নীলফামারীর ডোমার উপজেলার পাগলীমার হাট। প্রতিদিন ভোর থেকে হাটে হাকডাক শুরু হয়ে চলে বিকেল পর্যন্ত। এই হাটে প্রতিদিন অন্তত ৮-১০ হাজার মণ মরিচ বিক্রি হয়। সেই হিসেব করলে এখানে গড়ে প্রতিদিন এক থেকে দেড় কোটি টাকার মরিচ বেচাকেনা হয়।

উপজেলার মটুকপুর ইউনিয়নের পাঙ্গা মুছার মোড় এলাকায় পাগলীমার হাটের অবস্থান। মরিচের এই হাটে ডোমার, ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার শত শত মরিচচাষি ও ব্যবসায়ী আসেন। শুধু মরিচ ব্যবসাকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠা পাগলীমার হাটে রয়েছে অর্ধশত আড়ত। দূর-দূরান্তের ক্রেতা-বিক্রেতার আনাগোনায় এসব আড়ত সবসময় সরগরম থাকে।

নীলফামারীসহ আশপাশের জেলার উৎপাদিত মরিচের মান ভালো হওয়ায় এই হাটের কদর একটু বেশি। গেল ১৪ থেকে ১৫ বছর কেনাবেচাও বেড়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলার পাইকাররা এই হাটে আসাতে খুশি স্থানীয় মরিচচাষি ও ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, দিন দিন মরিচের উৎপাদনের সঙ্গে বেড়েছে চাহিদা। মচিরের ভরা মৌসুমে প্রতিদিন গড়ে ৭০ হাজার থেকে দেড় কোটি টাকার বেশি মরিচ বিক্রি হয়ে থাকে।

হাটে গিয়ে দেখা যায়, ক্রেতা-বিক্রেতার হাকডাকে মুখর হাট। কেউ মরিচ বস্তাবন্দি করছেন, কেউ আবার টাকা গুনছেন। এখানে বিন্দু মরিচ, সাপ্লাই মরিচ, ডেমা মরিচ, ডেমা হাইব্রিড মরিচ, জিরা মরিচসহ দেশি মরিচ পাওয়া যায়। তবে প্রকারভেদে এসব মরিচ প্রতি মণ ১৩০০-১৭০০ টাকা দরে বিক্রি হয়। তবে কোনো কোনো দিন আমদানির তুলনায় চাহিদা বেশি হলে দাম একটু বেশি থাকে।

ঘুরতে ঘুরতে হাটে কয়েকজন চাষির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মরিচের ফলন বাম্পার হলেও কিছু পোকার আক্রমণে চিন্তিত চাষিরা। কৃষি অফিস থেকে কোনো ধরনের পরামর্শ না মেলায় স্থানীয় বাজার থেকে কিটনাশক কিনে মরিচ খেতে স্প্রে করছেন। তবে দাম ভালো ও মরিচের চাহিদা থাকায় অধিক মুনাফার স্বপ্ন দেখছেন তারা।

মরিচচাষি আফজাল আহমেদ বলেন, আমি তিন বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করছি। মরিচে পোকার আক্রমণের কারণে প্রতি সপ্তাহে স্প্রে করতে হয়। এ পর্যন্ত ৩০-৪৫ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। প্রায় লাখ খানেক টাকার মরিচ বিক্রি করেছি। আবহাওয়া যদি ভালো থাকে, আরও এক লাখ টাকার মরিচ বিক্রি করতে পারব।

আরেক মরিচ চাষি আবুল হোসেন বলেন, মরিচে রোগ দেখা দিয়েছে, সে কারণ চিন্তায় আছি। অসময়েই কোনো মরিচ সাদা আবার কোনো মরিচ হলুদ হয়ে গেছে। গাছে এবার ফুল-ফলও কম এসেছে। বাজার থেকে ওষুধ কিনে স্প্রে করেছি। এখন পর্যন্ত কৃষি অফিসের কারো কাছ থেকে কোনো পরামর্শ নিতে পারিনি।

অনাথ চন্দ্র রায় দীর্ঘ দিন ধরে মরিচ চাষ করে আসছেন। সপ্তাহে তিন-চার দিন মরিচ বিক্রি করতে হাটেও আসেন। তিনি বলেন, এবারও তিন বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করেছি। বর্তমানে মরিচ খেতে পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। ফলন নিয়ে চিন্তিত আছি।

হাটের আড়তদার সমিতির সভাপতি এনতাজুল হক বলেন, পাগলীমার হাটে মরিচের মৌসুমে প্রতিদিন হাট বসে। দিনে ৮ থেকে ১০ হাজার মণ মরিচ কেনাবেচা হয়। এখানকার মরিচ সিরাজগঞ্জ, পাবনা, যশোর, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যায়। এই হাটটি উত্তরাঞ্চলে মরিচের জন্য বিখ্যাত।
কুষ্টিয়া থেকে আসা পাইকার মজিবর রহমানের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, এটি উত্তরাঞ্চলের বিখ্যাত মরিচের হাট। কয়েক বছর ধরে আমি এই হাট থেকে মরিচ কিনছি। এখান থেকে আমি বিভিন্ন জাতের মরিচ কিনে নিয়ে যাই। টাকা লেনদেন বা বাড়তি কোনো ঝামেলা নেই। অনেক সময় হাটে না এসেও ব্যাংকে টাকা পাঠিয়ে এখানকার আড়ত থেকে মরিচ কিনে থাকি।

স্থানীয় মরিচ ব্যবসায়ী আব্দুল মান্নান বলেন, পাগলীমার হাটে দীর্ঘ দিন ধরে শুধু মরিচের বেচাকেনা হয়ে থাকে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা মরিচ কিনে নিয়ে যায়। বাইরের জেলা থেকে পাইকার আসায় আমরা স্থানীয় ব্যবসায়ীরা চাষিদের কাছ থেকে মরিচ কিনে ভালো দামে মরিচ বিক্রি করতে পারছি। এতে আমরাও যেমন লাভবান হচ্ছি, তেমনি আমাদের এলাকার কৃষকরাও মরিচের ভালো দাম পাচ্ছে।

হাটের ইজারাদার রোমান কবির বলেন, আমরা আমাদের লাভের কথা চিন্তা করি না। তারপরও যেহেতু টাকা দিয়ে হাট ইজারা নিয়েছি, সেই হিসেবে যতটুকু পারা যায় কৃষকদের ছাড় দেই। এছাড়া বাইরে থেকে আসা পাইকারদের যাতে কোনো ধরনের সমস্যা না হয়, সেই দিকটা আমরা হাট কর্তৃপক্ষ খেয়াল রাখি।

এদিকে মরিচ চাষিদের অভিযোগ মানতে নারাজ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আনিছুজ্জামান। উল্টো তিনি দাবি করেন, কৃষি বিভাগের অব্যাহত পরামর্শ এবং নির্দেশনায় এই অঞ্চলে মরিচের উৎপাদন বেড়েছে। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় মরিচের উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি বাজারে ভালো দাম থাকায় কৃষকরাও লাভবান হচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, উপজেলায় এ বছর মরিচ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭৫০ হেক্টর। তার মধ্যে আমরা ৭৮০ হেক্টর অর্জন করেছি। এ বছর মরিচের ফলন ও দাম দুটোই ভালো যাচ্ছে।
তিনি বলেন, এই সময়ে মরিচের কিছু সমস্যা দেখা দেয়। সাধারণত ফল ছিদ্রকারী একটি পোকা মরিচে আক্রমণ করে থাকে। পোকা দমনে আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি। আমাদের ব্লকে যারা আছে তারাও পরামর্শ দিচ্ছেন। এক্ষেত্রে যদি কৃষকরা এমামেকটিন বেনজয়েট গ্রুপের ওষুধ ব্যবহার করেন, তাহলে বেশি উপকৃত হবেন। আমরা এই কীটনাশক এক সপ্তাহ পর পর ব্যবহার করার পরামর্শ দিচ্ছি।

শেয়ার করুন...

আরও খবর...
© All rights reserved © 2021 | বাংলার চোখ নিউজ
Theme Customized BY LatestNews