1. [email protected] : mainadmin :
  2. [email protected] : Mohsin Molla : Mohsin Molla
  3. [email protected] : subadmin :
বাংলার চোখ নিউজ | অনলাইন সংস্করণ | পুকুরে গৃহবধূর লাশ,খোঁজ নেই স্বামীর
শনিবার, ১৯ জুন ২০২১, ০৬:১৩ পূর্বাহ্ন

পুকুরে গৃহবধূর লাশ,খোঁজ নেই স্বামীর

ইউসুফ আলী প্রধান
  • সময়ঃ রবিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২১

পুকুরে গৃহবধূর লাশ, সন্তানের দাবি মাকে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে খোঁজ নেই স্বামীর।

গত ৭ তারিখ ২০২১ ইং সকাল আটটার সময় ফরিদপুরের নগরকান্দায় কহিনূর নামের এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে নগরকান্দা থানার পুলিশ। তিনি শশা গ্রামের লিটন মিয়ার স্ত্রী কহিনূর আক্তার (৪১) গত মঙ্গলবার বাড়ির পাশের পুকুর থেকে ভাসমান অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

কহিনূরের বড়ের ছেলে কৌশিক আহমেদ (১৫) দাবী করে বলেছে আমার মাকে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে আমার বাবা, চাচা, ফুপা, ফুপি, মিলে হত্যা করেছে।

কহিনূরের বড় ছেলে কৌশিক গণমাধ্যম কে জানিয়েছে, গত ৬ তারিখে আমার বাবা লিটন মিয়া মোবাইলে ফোন দিয়ে কি যেনো বলেছে আমার দাদিকে, সেই দিন আমার ফুপি সিরি আক্তার আমাদের বাড়িতে এসে দাদিকে ফুপির বাড়িতে নিয়ে যায়। সেই দিন বাড়ির সবাই কি যেনো একে অপরকে বলতেছে আমাকে দেখলে সবাই চুপ হয়ে যায়।

এর পর ৬ তারিখ রাতে আমি দেখি আমাদের বাড়ির অন্য একটি রুমে আমার মা আমার ছোট বোন কাশপিয়া আক্তার (৫) নিয়ে ঘুমাতে যাচ্ছে।

আমার মা যেই রুমে ঘুমিয়েছে সেই রুমে সবসময় আমার মা ঘুমাতো না। আমি আমার রুমে ঘুমিয়ে পড়লে রাত ২ টার সময় আমার ছোট বোন কাশপিয়া আক্তার আমার রুমের দড়জায় জোরে ধাক্কা দিচ্ছে আর কান্না করছে। হঠাৎ আমার ঘুম ভেঙে গেলে আমি দরজা খুলে দেখি আমার ছোট বোন কান্না করে বলছে ভাইয়া আম্মুতো বিছানায় নেই আমি খুব ভয় পাচ্ছি, আমি তখন বল্লাম আম্মু হয়তো বাহিরে ওয়াশরুমে গিয়েছে  তুই এখানে ঘুমা এটা বলে আমি ও আমার ছোট বোন কাশপিয়া ঘুমিয়ে পড়ি।

সকালে আমার বড় চাচি মমতাজ বেগম আমাকে ধাক্কা দিয়ে ঘুম থেকে তুলে বলছে সর্বনাশ হয়ে গেছে তোর মা মরে গেছে।

এটা শুনেই আমি কান্না করতেই চাচি আমাকে পুকুর পাড়ে নিয়ে আমার মায়ের মৃতদেহটা দেখাল। তার অনেক্ক্ষণ পড়ে পুলিশ এসে আমার মায়ের মৃতদেহ পুকুর থেকে উদ্ধার করে। এর পর আমার বড় চাচা মিজানুর মিয়া, মেজো চাচা বসির মিয়া, আমাকে বলে ‘তোর মাতো মরেই গেছে, তুই পুলিশের কাছে কিছু বলিস না তাহলে তোর বাবাকেও হারাবি তোর বাবার অনেক সমস্যা হবে।

কহিনূরের ছেলে কৌশিক আহমেদ গণমাধ্যম কর্মীদের কে আরও জানান, আমার বাবা ভালো মানুষ না, আমার বাবা কিছু দিন পর পর আমার মাকে ধরে মারধর করতো আর বলতো তোর বাবা ভাইয়ের বাড়ি থেকে আমাকে টাকা এনে দে।

আমার মা আমার বাবার হাতে মার খেয়ে অনেক বার দেখেছি আমার নানা বাড়ি থেকে প্রথমে এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা এনে আমার বাবার হাতে তুলে দেয়। এরপর তিন-চার মাস যেতে না যেতেই আবারো আমার মাকে নানা বাড়ী থেকে টাকা নিয়ে আসার জন্য চাপ দিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতে থাকে।

আমার মা এরকম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য নাকরতে পেরে, আমার নানা বাড়িতে গিয়ে আমার মামার হাতে পায়ে ধরে বিভিন্ন সময়ে, এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার, পচাত্তর হাজার, ষাট হাজার, পঞ্চাশ হাজার, সত্তর হাজার টাকা এভাবে করে আমার মা নানা বাড়ি থেকে এনে দিতো বাবাকে।

এদিকে আমাদের সংবাদকর্মীদের কে মৃত কহিনুরের ভগ্নিপতি সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন লিটন ও তার পরিবারের লোকজন কুহিনুরকে খুন করে লাশ পুকুরে ভাসিয়ে দিয়েছে।

মৃত কহিনুরের ভগ্নিপতি সাইফুল ইসলাম আরও বলেন, কহিনূরের বিবাহের ৫ বছরের মধ্যে কুহিনূর আক্তার ২ সন্তানের জননী হন। তবে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি না নিয়ে স্বামী লিটন মিয়া গোপনে বিবাহ করেন। প্রায় দুই বছর পরে দ্বিতীয় বিবাহের কথা জানা জানি হয়। পরে লিটন মিয়া শশুর বাড়ির লোকজন ও দ্বিতীয় বউয়ের পরিবারের লোকজন একত্রিত হয়ে গ্রাম্য শালিশের মাধ্যমে বিবাহ বন্ধন বিচ্ছেদ করে ।

এরপর থেকে স্বামী লিটন মিয়া প্রথম স্ত্রী কুহিনূরের উপর অমানুষিক নির্যাতন করতে থাকে। এমনি ভাবে চলতে থাকে কুহিনূর আক্তারের অবহেলিত জীবন যাপন। লিটন মিয়া দুই তিন মাস পর পর যৌতুকের টাকার জন্য কহিনূরকে মারধর করতো। স্বামীর অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে কহিবূর তার বাবার বাড়ি থেকে বিভিন্ন সময়ে লক্ষ লক্ষ টাকা এনে দিতো।
টাকা পেলেই লিটন মিয়া কয়েক মাস ভালো আচরণ করতো টাকা শেষ হয়ে গেলেই কহিনূরকে মারধর কারা শুরু করে দিতো।

বিভিন্ন সময়ে এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার, পচাত্তর হাজার, ষাট হাজার, পঞ্চাশ হাজার, সত্তর হাজার টাকা এভাবে করে স্বামী লিটন মিয়ার হাতে এনে দেন।

তার পরেও লিটন মিয়ার পেট ভরেনি তার ৭/ ৮ বছর পর লিটন মিয়া তৃতীয় বিয়ে করেন সাভারে মারুফা নামে একটি গার্মেন্টসের মেয়ে । বিয়ে করার প্রায় তিন বছর পরে বিষয়টি দুই পরিবারের মাঝে জানা জানি হয়। তখন তৃতীয় স্ত্রী মারুফা একটি ছেলে সন্তানের জননী হয়।

প্রথম স্ত্রী কুহিনূর আক্তার তার স্বামীকে একাধিক বিয়ের ব্যাপারে বাধা দিলে কুহিনূর আক্তারের ছেলে মেয়ের সামনে স্বামী লিটন মিয়া শারীরিক নির্যাতন করতো।

মৃত কহিনূরের ছেলে কৌশিক আহমেদ আমাদের জানান গত ৬ এপ্রিল ২০২১ তারিখে আমার বাবা লিটন মিয়া গ্রামের বাড়িতে ফোন করে সকলের সাথে কথা বলেছে এবং রাতেও আমার মায়ের সাথে কথা হয়েছে আমি দেখেছি।

দিবাগত রাত পেরিয়ে গেলে ৭ এপ্রিল ২০২১ তারিখে সকাল আট ঘটিকায় আমার মায়ের মৃতদেহ পানীতে ভাসতে দেখী। এবং আমার মায়ের মৃত দেহ পানিতে ভাসতে দেখতে পায় এলাকার লোকজন।

কুহিনূর আক্তারের ছেলে কৌশিক আহমেদ বলেন আমার মা আত্মহত্যা করেননি আমার মাকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে।

ফরিদপুর জেলা নগরকান্দা থানায় শর্শা গ্রামের লিটন মিয়া দীর্ঘদিন ধরে পেশায় গাড়ি চালক সে গত ২০০২ সালে কুহিনূর আক্তার পিতা আব্দুল কাদের, গ্রাম ভাটুলিয়া, থানা তুরাগ জেলা ঢাকা, কুহিনূর আক্তারকে পারিবারি ভাবে আলোচনার মাধ্যমে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

আমরা অভিযুক্ত লিটন মিয়ার সাথে মুঠোফোনে একাধিক বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তার কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি সেলিম রেজা বিপ্লব বলেন হত্যা না দূর্ঘটনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে তবে পোষ্টমডেম রিপোর্ট না আসা পযর্ন্ত কিছু বলতে পারছি না।

ফরিদপুর নগরকান্দা থানায় গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু

সামাজিক মাধ্যমগুলোতে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও খবর...
© All rights reserved © 2021 www.banglarchokhnews.com  
Theme Customized BY LatestNews