1. [email protected] : mainadmin :
  2. [email protected] : Mohsin Molla : Mohsin Molla
  3. [email protected] : subadmin :
বাংলার চোখ নিউজ | অনলাইন সংস্করণ | প্রচন্ড গরমে স্বস্তি পেতে চাহিদা বেড়েছে তালের শাঁস
শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১, ০৯:২৬ অপরাহ্ন

প্রচন্ড গরমে স্বস্তি পেতে চাহিদা বেড়েছে তালের শাঁস

বাংলার চোখ সংবাদ
  • সময়ঃ মঙ্গলবার, ১ জুন, ২০২১

শেখ রুবেল,স্টাফ রিপোর্টার :

তাল শব্দটি শুনলেই মনে পড়ে যায় কবিতার কিছু চরণ :-

“ঐ দেখা যায় তাল গাছ, ঐ আমাদের গাঁ, ঐ খানেতে বাস করে কানা বগীর ছা ।”

গাঁয়ে এখন বকের ছানা থাক না থাক, তালগাছগুলো কিন্তু কচি তালে ভরে গেছে । কাঁচা তালের শাঁস নরম অংশটি খুবই সুস্বাদু । প্রচন্ড গরমে স্বস্তি পেতে কাঁচা তালের কোন জুড়ি নেই । তালের শাঁস খাওয়ার জন্য ছোট-বড় সব বয়সের মানুষ তালের দোকানে ভিড় জমাচ্ছে। ফলে তীব্র গরমে প্রতিনিয়ত গ্রামে বা শহরে সব জায়গায় কাঁচা তালের শাঁস চাহিদা বাড়ছে । বাজারে প্রতি পিচ শাঁস বিক্রি হচ্ছে ৫ থেকে ৮ টাকায় । প্রতিটি তাল বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকায় ।

সরেজমিনে টাঙ্গাইল ভূঞাপুর উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার, স্কুল-কলেজ ও রাস্তার মোড়ে কাঁচা তালের শাঁস বিক্রি করতে দেখা গেছে । ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দসী বটতলা এক বিক্রেতা বলেন, বর্তমান কাঁচা তাল বিক্রির মৌসুম চলছে । নাটোর থেকে কাঁচা তাল কিনে গ্রামের হাট- বাজারে , শহরের অলি-গলিতে বিক্রি করি। তবে বেশি ভাগ কাঁচা তালের শাঁস কিনতে দেখা গেছে স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের ।

তীব্র গরমে তালের শাঁস চাহিদা ব্যাপক হারে বাড়ছে । বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ১টা কাঁচা তালে ৩টা শাঁস থাকে । প্রতি পিচ শাঁস বিক্রি করেন ৫ থেকে ৮ টাকা এবং তাল বিক্রি করেন ১৫ থেকে ২০ টাকা । প্রতিদিন ১ হাজার ৫ শত থেকে ২ হাজার টাকা তালের শাঁস বিক্রি হয় । তাল ক্রয়ে সব খরচ বাদে প্রতিদিন ৫ শত থেকে ৮ শত টাকা লাভ হয় । অপরদিকে ক্রেতারা জানিয়েছে, পাকা তালের থেকে কাঁচা তালের শাঁস খেতে খুবই সুস্বাদু । ফলে কাঁচা তালের শাঁস চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে ।

চলছে মধুমাস । মধুমাসের গ্রামে তালের শাঁসকে কেউ বলে তালের বিচি, কেউ বলে তালের আটি, কেউ বলে তালকুর । গরমের মধ্যে তৈলাক্ত খাবারের চেয়ে তালের শাঁস অনেক উপকারী । বাজারে অনেক ফল যখন ফরমালিনে বিষে নীল, অন্য়দিকে তালের শাঁসে ছোঁয়া লাগেনি । আর এমন একটি ফল যা দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করে রাখলেও তা নষ্ট হয় না । তাই জৈষ্ঠ্যের এ মধুমাসে বাজারে নানা ফল উঠলেও ভূঞাপুরে জনপ্রিয় ওঠেছে তালের শাঁস ।

তালের শাঁস রয়েছে অধিক পুষ্টি গুণাগুণ । মিষ্টি স্বাদের কচি তালের শাঁস শুধুই খেতেই সুস্বাদু নয়, রবং পুষ্টিতেও অনেক ভরপুর। দে খা গেছে প্রতি ১০০ গ্রাম তালের শাঁসে আছে জলীয় অংশ ৮৭.৬ গ্রাম, আমিষ ০.৮ গ্রাম, ফ্যাট ০.৫ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট ১০.৯ গ্রাম,খাদ্যআঁশ ১ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ২৭ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ৩০ মিলিগ্রাম, আয়রন ১ মিলিগ্রাম, থায়ামিন ০.০৪ গ্রাম, রিবোফাভিন ০.০২ মিলিগ্রাম, নিয়াসিন ০.৩ মিলিগ্রাম, ভিটামিন সি মিলিগ্রাম। এসব উপাদান আমাদের শরীর রোগ থেকে রক্ষা করাসহ রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে। তালে শাঁসে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকায় এটি আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে থাকে। একই সাথে এটি ক্যান্সারের মত মরণ ব্যাধি রোগ থেকে আমাদের বাঁচায়। তালের শাঁস আমাদের স্মৃতিশক্তি ভালো রাখে এবং শারীরিক স্বাস্থ্য রক্ষা করে থাকে।

কবির ভাষায় তাল গাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে, সব গাছ ছাড়িয়ে উকি মারে আকাশে, কবির কবিতার মতো সারি সারি তাল গাছ রাস্তার দুপাশে এমন দৃশ্য আর চোখে পড়ে না । আগে মানুষ বসতবাড়ির আঙিনায় তালের বীজ রোপণ করতো । কিন্তু সচরাচর এখন তা আর চোখে পড়ে না । এমন উপকারী ও পুষ্টিগুণ সম্পন্ন গাছ আমাদের সকলের রোপণ করা উচিত ।

 

এমটিকে/বাংলারচোখ

সামাজিক মাধ্যমগুলোতে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও খবর...
© All rights reserved © 2021 www.banglarchokhnews.com  
Theme Customized BY LatestNews