1. [email protected] : mainadmin :
  2. [email protected] : special_reporter :
  3. [email protected] : subadmin :
বাংলার চোখ নিউজ | অনলাইন সংস্করণ | প্রত্যেকে পাঁচটি করে গাছ লাগানোর শপথ নেই
শনিবার, ২৫ জুন ২০২২, ০৮:৪৮ অপরাহ্ন

প্রত্যেকে পাঁচটি করে গাছ লাগানোর শপথ নেই

বাংলার চোখ সংবাদ
  • সময়ঃ সোমবার, ২৪ মে, ২০২১

নাজমুল (শিক্ষার্থী-দর্শন বিভাগ,জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়) :

একবিংশ শতাব্দীর বর্তমান বিশ্বে বায়ুমন্ডলের তাপমাত্রা দিনদিন বেড়েই চলছে। বন নিধনসহ শিল্পায়ন, নগরায়ণ, প্রাকৃতিক বৈচিত্র‍্যের প্রতি অবিচার ,কার্বন নিঃসরণ,নদ – নদী ধ্বংসসহ ইত্যাদি কারণে প্রকৃতির স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড ব্যহত হচ্ছে। বায়ুমন্ডলের অস্বাভাবিক তাপমাত্রার বৃদ্ধির কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং আরেক দিকে বরফ গলে যাওয়ার দ্বৈত চাপ পুরো পৃথিবীর ওপর পড়ছে।

বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির ব্যাপারে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তাঁদের মতে, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখা না গেলে বিপর্যয় দেখা দেবে।

এর জন্যে পরিবেশ ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। ব্যক্তিগত এবং সামাজিক উদ্যোগে ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতে নিতে হবে । সরকারি ভাবে উদ্যোগ নিবে এর উপর বসে থাকলে চলবে না। তারাও নিবে আমরাও নিবো।

বাংলাদেশে এবছর মে মাস পর্যন্ত প্রায় দীর্ঘ অর্ধ বছর বৃষ্টির দেখা মেলেনি। খড়ায় এবং অনাবৃষ্টির কারণে মাঠ ঘাট চৌচির হয়ে গেছে এবং অনেক ফসল পুড়ে গিয়েছে বিশেষ করে চর অঞ্চলে।

 

“দেশটা মনে হচ্ছে

মরুকরণের দিকে ধাবিত হচ্ছে।”

 

মরুকরণ থেকে আমাদের বাঁচতে হবে। বাংলাদেশে যতসামান্য যতটুকু বনাঞ্চল রয়েছে সেগুলো ব্যাপক ঝুঁকির মুখে রয়েছে । বিশেষ করে সুন্দরবনসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের বনভূমিতে বনদুস্যদের বননিধন প্রতিনিয়ত চোখে পড়ে আমাদের । বর্তমান পৃথিবী মরুময়তার দিকেই ধাবিত হচ্ছে। যা পৃথিবীর সকল জীবকুলের জন্যে মারাত্মক হুমকিসরূপ হয়ে উঠছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিশেষ করে জনবহুল দেশে লোক সংখ্যার বেশির কারণে ক্রমাগত বনশূন্য হয়ে যাচ্ছে।

শুধুই কি বনদস্যুরাই গাছ কেটে ছাপা করে দিচ্ছে? না এরকম নয়। আমাদের আশেপাশে শহরাঞ্চলে পাড়া-মহল্লায়, গ্রামগঞ্জে গাছপালা কাটছে, ফসলি জমি বিনাশ করে ইট পাথরের নির্মাণ তৈরী করেই যাচ্ছি। মানুষের বসবাসের জন্যে, শিল্পকারখানা প্রতিষ্ঠার জন্যে এছাড়া নিত্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলার জন্যে সবুজ অরন্য হয়ে যাচ্ছে ইট-পাথরের অরন্য।

 

“একটি কাটলে দুটি লাগাবো

আর এই মৌসুমে পাঁচটি লাগাবো।”

 

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) the state of the world’s forests 2020 নামে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদন অনুযায়ী বিশ্বের মোট ভূমির ৩০ দশমিক ৮ শতাংশ বনভূমি রয়েছে। বিশ্বের সমগ্র বনভূমির আয়তন হচ্ছে ৪.০৬ বিলিয়ন হেক্টর। এরমধ্যে কেবলমাত্র রাশিয়াতেই বনভূমির আয়তন হচ্ছে ৮১৫ মিলিয়ন হেক্টর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ব্রাজিল মোট বনভূমির আয়তন ৪৯৭ মিলিয়ন হেক্টর এর পরপরই আছে কানাডা ৩৪৭ মিলিয়ন হেক্টর, যুক্তরাষ্ট্র ৩১০ মিলিয়ন হেক্টর, চীন ২২০ মিলিয়ন হেক্টর, অস্ট্রেলিয়া ১৩৪ মিলিয়ন হেক্টর, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র ১২৬ মিলিয়ন হেক্টর,ইন্দোনেশিয়া ৯২ মিলিয়ন হেক্টর, পেরু ৭২ মিলিয়ন হেক্টরএবং ভারতও ৭২ মিলিয়ন হেক্টর।

উপর্যুক্ত নাম গুলোর প্রতি দৃষ্টিপাত করলে একটি জিনিস খুবই স্পষ্ট হয়ে ওঠে এই নাম গুলোর ভেতর মধ্যপ্রাচ্যের কোন দেশই নেই। যা আমাদের কঠিন বাস্তবতাকে আবারও সামনে নিয়ে আসে। এটি প্রমাণ করে আমাদের মোট পৃথিবীর বনভূমির পরিমাণ গড় বনভূমির তুলনায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পরিমাণে থাকলেও পৃথিবীর সব জায়গায় সেটি সমানভাবে নেই যেমন আমাদের বাংলাদেশেই নেই।

একটি দেশে মোট ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন। বাংলাদেশ সরকারের পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে দেশে ১৭ ভাগ বনভূমি রয়েছে। অন্যদিকে জাতিসংঘের কৃষি ও খাদ্য সংস্থা (FAO) (দ্য স্টেট অব গ্লোবাল ফরেস্ট-২০১৮)প্রতিবেদনে বলেছে, বাংলাদেশের মোট ভূখণ্ডের সাড়ে ১৩ শতাংশ বনভূমি। দুটোই প্রয়োজন তুলনায় কম।

বনভূমির গুরুত্ব যে কিরূপ এটি বলে শেষ করা যাবে না। স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে যতগুলো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিশেষ করে সাইক্লোন, টর্নেডো, নিম্নচাপ এবং বড় ধরনের বন্যা হয়েছে সেগুলো থেকে রক্ষা করেছে এই সুন্দর বন। ঘুর্ণিঝড় নার্গিস, আম্পানের মতো প্রলয়ঙ্কারীর হাত থেকে এই বনই রক্ষা করেছে। সম্প্রতি ভারত মহাসাগরে তৈরীকৃত ঘুর্ণিঝড় ইয়াস(যশ) থেকে আমাদের রক্ষাকবচ হতে পারে এই বনাঞ্চলগুলো। তেমনিভাবে সুন্দরবনের মতো জীবন রক্ষাকারী বন যেন বারবার আগুন না লাগে। এই দিকটি সুন্দরবন রক্ষাকারী এবং সচেতনমহলদের বিশেষ নজর রাখতে হবে।

সম্প্রতি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)র পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে বন ও বনভূমির গুরুত্ব অপরিসীম হলেও তা সংরক্ষণ ও উন্নয়নে কার্যকর ব্যবস্থার ঘাটতি দৃশ্যমান।

বনের জমিতে অপরিকল্পিত উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা, সুন্দরবনসহ সংরক্ষিত বনাঞ্চলের সন্নিকটে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ, বনের আশেপাশের জমি সরকারি ও বেসরকারি শিল্প কারখানা এবং স্থাপনা তৈরিতে বরাদ্দ প্রদান, বনকেন্দ্রিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও বনের জমি জবরদখলের মাধ্যমে বন ধ্বংসের বহুমুখী ঝুঁকি তৈরি করা হয়েছে।

এতে বনজ সম্পদ ও বনভূমির অবক্ষয় ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বন্যপ্রাণী হুমকির মুখে পড়েছে। যা জীববৈচিত্র্য ধ্বংসসহ পরিবেশের ভারসাম্যহীনতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

আমরা খবরের কাগজে প্রতিনিয়ত দেখতে পাই বন নিধন, বন উজাড় এবং ফসলি জমি বিনষ্ট করার চিত্র ।আমাদের মধ্যে সচেতনতার অভাব রয়েছে অনেক। একটি গাছ কাটলে আরেকটি গাছ যে লাগাবো এই কাণ্ডজ্ঞানটি নেই সবার। সম্প্রতি আমরা দেখেছি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের কিছু গাছ কাটার চেহারা। যদিও আন্দোলনের মুখে এটি এখন বন্ধ করা হয়েছে। আমরা কেন আমাদের বনাঞ্চলগুলো ধ্বংস করার পায়তারা চালাচ্ছি। সুন্দরবনে একের পর এক গাছ কাটা পড়ছে। পাহাড়ি অঞ্চলের বনাঞ্চলগুলোও রক্ষা পাচ্ছে না। কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের জন্যেও প্রচুর গাছ কর্তন করা হয়েছে।

আমরা সচেতন নাগরিক যারা আছি তারা যদি রাস্তা – ঘাট,নদীর পাড়,নিজ বাড়িতে, স্কুল, কলেজ,বিশ্ববিদ্যালয়সহ প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রত্যেকে অন্তত পক্ষে ৫ করে বৃক্ষরোপণের চেষ্টা করি তাহলে এটি অসম্ভব কিছু নয়। আমরা বিশেষ করে শিক্ষিত তরুন প্রজন্মরা, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা, সামাজিক-স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো, সমাজকর্মী, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গসহ সাধারণ জনগণের সহোযোগিতায় প্রত্যেকে অন্তত ৫ টি গাছ লাগাই। ৫ টি করে বৃক্ষরোপণ করতে বেশ টাকা ব্যয় করতে হবে না। ইচ্ছাশক্তি এবং পরিবেশ ভারসাম্য রক্ষা করার দায়িত্ববোধ থেকেই এটি বাস্তবায়ন সম্ভব।যেটি কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে পারি। এই অস্বস্তিকর পরিবেশটাকে স্বস্তিকর করে তোলার চেষ্টা করতে পারি । মানুষ এবং প্রাণীকুলের কথা চিন্তা করে বৃক্ষ নিধন বন্ধ করতে পারি । এবারের এই গরম মৌসুমে আমাদের শপথ হোক পাঁচটি করে বৃক্ষরোপণ করার কর্মসূচি।

শেয়ার করুন...

আরও খবর...
© All rights reserved © 2021 | বাংলার চোখ নিউজ
Theme Customized BY LatestNews