1. [email protected] : mainadmin :
  2. [email protected] : special_reporter :
  3. [email protected] : subadmin :
বাংলার চোখ নিউজ | অনলাইন সংস্করণ | বান্দরবানে এল.এ.এগ্রোর নার্সারি চারা নিয়ে বিপাকে পাহাড়ি চাষিরা
বুধবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২২, ০৬:২৩ অপরাহ্ন

বান্দরবানে এল.এ.এগ্রোর নার্সারি চারা নিয়ে বিপাকে পাহাড়ি চাষিরা

বাংলার চোখ সংবাদ
  • সময়ঃ রবিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২১

বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি :

কৃষিমন্ত্রী এর‌ সরল বিশ্বাসে এল. এ. এগ্রো লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা ইফতেখার সেলিম অগ্নি কাজু বাদাম চারা নিয়ে পাহাড়ে চাষীদের সাথে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে।

গত‌ ২০শে জুন ২০২০ ইং বান্দরবান কাজু বাদাম চারা নাসারী থেকে ১,৭৫০০০ (এক লক্ষ পঁচাত্তর হাজার) চারা কৃষিমন্ত্রী নির্দেশে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কাজু ও কফি প্রকল্পের মাধ্যমে উক্ত নার্সারি থেকে কাজুবাদামের চারা কৃষকদের সরবরাহ শুরু করেন। যার মূল্য ২ কোটি ১০ লাখ টাকা।

বান্দরবানে কাজুবাদামের চারারোপণ করে হতাশ পাহাড়ি চাষীরা, কাজু বাদামের বিখ্যাত জেলা নামে খ্যাত বান্দরবান। কাজু বাদামের চারা রোপন করার পর চারা মারা যাওয়াতে হতাশ চাষীরা। বান্দরবান জেলায় কাজুবাদাম ও কফি গবেষণা, উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের প্রদর্শনীর বরাদ্দকৃত বেশির ভাগেই চারাই বিনষ্ট /মৃত হওয়ায় হতাশা নেমে এসেছে চাষীদের মাঝে। বান্দরবান পার্বত্য জেলায় কাজুবাদম ও কফি গবেষণা, উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের প্রদর্শনীর জন্য ৭উপজেলার কৃষকদের মাঝে ৭৪ হাজার ৮ শত ২৫ টি কম্বোডিয়ান এম-২৩ জাতের কাজুবাদাম চারা বিতরণ করে বান্দরবান কৃষি সম্প্রসরণ অধিদপ্তর।

কিন্তু উক্ত নার্সারি থেকে কৃষকদের কে ভাল কাজুবাদামের চারা বিতরণ না করে সব নষ্ট ও নিম্নমানের চারা বিতরণ শুরু করেন। এবং এই এল.এ.এগ্রো নার্সারির চারা নিয়ে পাহাড়ি চাষিরা হতাশ, কৃষি গবেষকরা বলেন, চারা বিতরণ করার আগে ন্যূনতম ১০থেকে ১২ দিন হার্ডেনিং করা লাগে, এ সব নিয়ম নীতির কোন তোয়াক্কা করেনি উক্ত নার্সারি।

সরেজমিনে তদন্ত করে দেখা যায় হার্ডেনিং না করার ও নিম্নমানের চারা হোয়াই যে সব জায়গায় কাজুবাদামের চারা বিতরণ ও রোপন করা হয়েছে সেখানে স্থান ভেদে ৩০% থেকে ৭০% চারা ইতিমধ্যে মারা গেছে। এল এগ্রো নার্সারি এমডি ইফতেখার সেলিম অগ্নি ফোনা আলাপে বলেন উপজেলা কৃষি অফিসার ফারুকের নির্দেশে রোপনের সময় কৃষকরা রাসায়নিক সার মিশ্রণে কারণে অধিকাংশ চারা মারা যায়।

কিবুক পাড়া চাষী উবাচিং মারমা বলেন আমি কৃষি অফিস থেকে ৬০০ টি চারা পেয়েছি। পরে সেই চারা লাগানো জন্য লেবার দিয়ে জঙ্গল পরিষ্কার করেছি। চারা লাগানো ৮-১০দিনের মাথায় ২৫০ থেকে ৩০০টি চারা মারা গেছে। আমাদের পাহাড়ি চাষিদের এক প্রকার ঠকানো হয়েছে।

ছাংও পাড়া আরেক চাষী উথোয়াইচিং মারমা বলেন চারা রোপণের সময় জৈব সার ছাড়া আর কোন রাসায়নিক সার ব্যবহার করেননি।আমার ১৬০টি চারা হতে, লাগানো ৮-১০ দিন পর ৭০টি চারা মারা গেছে,চারা লাগানো পিছনে অনেক টাকা খরচ হয়ে গেছে,এ খরচে ক্ষতিপূরণ কে দিবে।

ডুলু পাড়া চাষি চিংসাবু মারমা বলেন কৃষি অধিদপ্তর থেকে ১৭০টি চারা নিয়েছি। পরে অর্থ খরচ করে চারা লাগানো পর কয়েদিন পরে গাছে পাতা ঝরে যায়। পরে শিকড় শুকিয়ে পুরো চারা মারা গেছে। সব মিলিয়ে ২০-৩০টি চারা মারা গেছে। এতে অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছি।

এবং সকল দায় ভার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের দিচ্ছেন। বান্দরবানের উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন চারা রোপণের সময় তারা জৈব সার ছাড়া আর কোন রাসায়নিক সার ব্যবহার করেননি। কয়েক জন কৃষক বলেন এতো কষ্ট করে বাগান পরিষ্কার করে চারা রোপণের ৫-৬দিনের মধ্যে চারা মারা যাওয়ায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কৃষকরা‌ বলছেন এতে তাদের অর্থ ও সময় নষ্ট হয়েছে।

যেখানে উক্ত নার্সারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এর সাথে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সবোর্চ্চ ১০% চারা‌ মারা যাবার কথা বলেন। বান্দরবান কৃষি অধিদপ্তরের জরিপে যার মধ্যে থেকে ১৪ হাজার ৩০টি চারা পরিবহনের ও নিম্নমানের থাকায় রোপন করার পর মারা যাই।

নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করার জন্য ২১১ কোটি টাকার কাজু বাদাম ও কফি প্রকল্প আজ অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে।

এল.এ. এগ্রো লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইফতেখার সেলিম অগ্নি সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন রাসায়নিক মিশানো কারনে চারা গুলো মরে গেছে। সেই চারা গুলো মরে গেলে দোষ কি আমার?

তিনি আরো বলেন, সব জায়গায় কৃষি কর্মকর্তারা পন্ডিত। চারা মারা যাওয়ার পিছনে দোষ কৃষি বিভাগ। কেননা আমার প্রজেক্টে চারা গুলো কৃষি বিভাগ নিয়েছে । সেই চারা যদি রাসায়নিক কিংবা এই সেই দেয়ার পর চারা গুলো মরে গেলে সেই দোষ কি আমার। আমি জৈব সার দিয়ে চারা লাগিয়েছি সেইখানে কৃষি বিভাগ রাসায়নিক সার দিয়েছে বলে মারা গেছে। আমার কথা কে বা শুনে।

বান্দরবানের উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ ওমর ফারুক বলেন, আগামি বছরে কৃষকদের জন্য গেপেলিং জন্য চারা প্রোডাকশন করছি। কৃষকের যেসব চারা মারা গেছে সেটিকে কৃষিবিভাগ হতে নতুন করে গেপিংলিং মাধ্যমে চারা গুলো মেকাপ করা হবে।

 

 

 

এমটিকে//বাংলারচোখ

শেয়ার করুন...

আরও খবর...
© All rights reserved © 2021 | বাংলার চোখ নিউজ
Theme Customized BY LatestNews