1. [email protected] : mainadmin :
  2. [email protected] : Mohsin Molla : Mohsin Molla
  3. [email protected] : subadmin :
বাংলার চোখ নিউজ | অনলাইন সংস্করণ | বিশ্ব পরিবেশ দিবসে ফিরে আসুক প্রকৃতির প্রাণ
সোমবার, ১৪ জুন ২০২১, ০৩:৫৯ অপরাহ্ন

বিশ্ব পরিবেশ দিবসে ফিরে আসুক প্রকৃতির প্রাণ

বাংলার চোখ সংবাদ
  • সময়ঃ শুক্রবার, ৪ জুন, ২০২১

পরিবেশ দূষণের হাত থেকে এ বিশ্বকে বাঁচানোর অঙ্গীকার নিয়ে জনসচেতনতার মাধ্যমে পরিবেশ সচেতনতার লক্ষ্যে প্রতিবছর ৫ জুন দিবসটি বিশ্ব পরিবেশ দিবস হিসাবে পালিত হয়ে আসছে। বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালনের তাৎপর্য বর্তমান বিশ্ব বিভিন্ন পরিবেশগত সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। দিবসটি বিশ্বের বা একটি নির্দিষ্ট দেশের সম্মুখীন পরিবেশগত সমস্যা সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা সৃষ্টি করতে পালন করা হয়। বিশ্ব পরিবেশ দিবসের ইতিহাস জানতে হলে ২০ মে ১৯৬৮ সালের দিনটির কথা তুলে আনতে হবে। প্রকৃতি ও পরিবেশ দূষণ সম্পর্কে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ওই দিন সুইডেন সরকার ‘জাতিসংঘের অর্থনীতি ও সামাজিক পরিষদের’ কাছে একটি চিঠি পাঠায়। জাতিসংঘের পক্ষ থেকে পরিবেশ রক্ষার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা এবং সমাধানের উপায় খুঁজতে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর সম্মতিতে সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে ১৯৭২ সালের ৫ থেকে ১৬ জুন পর্যন্ত “জাতিসংঘের মানবিক পরিবেশ কনফারেন্স” (United Nations Conference on the Human Environment) অনুষ্ঠিত হয়।

এরপর ১৯৭৩ সালে ৫ জুনকে জাতিসংঘ ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস’ হিসেবে ঘোষণা দেয় এবং ১৯৭৪ সাল থেকে প্রতিবছর দিবসটি বিশ্বব্যাপী “বিশ্ব পরিবেশ দিবস” হিসাবে পালিত হয়ে আসছে।

কোভিড-১৯ এর তাণ্ডবে সারাবিশ্বের মানুষ যখন বিপর্যস্ত তখন প্রকৃতিতে ফিরেছে সতেজ প্রাণ। গত কয়েক মাস ধরে পৃথিবীর মানুষ একপ্রকার

ঘরবন্দি। প্রকৃতির ওপর চালানোর অবিচার কমে আসায় প্রকৃতি যেন নিজেকে ডানা মেলে ধরেছে। ফিরেছে স্বমহিমায়। সেজেছে প্রকৃতির নতুন ধারায়। এই বাস্তবতা থেকে নতুন করে শিখতে শুরু করেছে মানুষ। তবে সেই শিক্ষা করোনার পরও থাকবে কিনা এখন সেটিই দেখার বিষয়। চলতি বছর বিশ্ব পরিবেশ দিবসের মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে–” টাইম ফর নেচার”। অর্থাৎ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের এখনই সময়। তাই অন্যান্য বছরের ন্যায় এবছরও আমরা জাতিসংঘের প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে নিয়ে ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস হিসাবে পালন করতে যাচ্ছি। বাংলাদেশ সহ সারা বিশ্বেও এভাবেই পালিত হবে।

পরিবেশ হলো আমাদের চারপাশের অবস্থা। পরিবেশ মানবসভ্যতা ও সমাজব্যবস্থার বহিঃপ্রকাশ। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মানুষ পরিবেশের অনুগ্রহে লালিত -পালিত হয়। পরিবেশ মানবজীবনে মুখ্য প্রভাবকের ভূমিকা পালন করে। মানুষের সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য দূষণমুক্ত নির্মল পরিবেশ আবশ্যক। অথচ প্রতিদিনই এ পরিবেশ নানা কারণে দূষিত হচ্ছে এবং ক্রমেই তা মানুষের বসাবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। মানুষ তথা জীবজগতের বাসযোগ্য এলাকাই হলো তার পরিবেশ। তবে পরিবেশ শব্দটির ভাবার্থের আলোকে বলা যায় পার্থিব জলবায়ু, আবহাওয়া ও ভূ- প্রকৃতিগত জৈব ও ভৌত উপাদানসমূহের যৌথ প্রভাব ও পারিপার্শ্বিক অবস্থাকে পরিবেশ বলে। পরিবেশের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে মানুষ এবং অপরাপর উদ্ভিদ ও প্রাণিকুলের বিকাশ ঘটে। জীবজগৎ ও তার পরিবেশের মধ্যে প্রতিনিয়ত জীবন রক্ষাকারী উপকরণের আদান-প্রদান চলে। এ আদান-প্রদানের ভারসাম্যের উপর জীবনের অস্তিত্ব সম্পূর্ণরূপে নির্ভরশীল।

মানুষ বিভিন্ন কর্মকান্ডের দ্বারা প্রতিনিয়তই পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। এছাড়া ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা বৃদ্ধি পরিবেশের জন্য  এক মারাত্নক হুমকিস্বরূপ। অধিক জনসংখ্যার বাসস্থান সংকুলানের জন্য নির্বিচারে বৃক্ষ নিধন করা হচ্ছে। ফলে বনভূমির পরিমাণ ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে অচিরেই দেখা দিবে পরিবেশের মহাবিপর্যয়, ধ্বংস হবে দেশ ও জাতির অস্তিত্ব। শিল্পায়ন ও নগরায়ণের প্রভাবেও পরিবেশ মারাত্নকভাবে দূষিত হচ্ছে। কলকারখানার বর্জ্য নদীতে ফেলার কারণে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাচ্ছে, দূষিত হচ্ছে পানি এবং জলজ প্রাণীরাজ্য ক্ষেত্রে মারাত্নক বিপর্যয় দেখা দিচ্ছে। তা ছাড়া মানুষের কার্যাবলি বায়ু, পানি ও শব্দ দূষণের সৃষ্টি করে পরিবেশকে দূষিত করছে । এভাবেই বিপন্ন হচ্ছে আমাদের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য।

অগণিত সমস্যায় জর্জরিত বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা হলো পরিবেশ দূষণ। বর্তমানে পরিবেশ দূষণ এমন এক ভয়াবহ পর্যায়ে পৌছাছে যে, আমাদের ব্যক্তিগত ও জাতীয় জীবনে নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়। জনসংখ্যাবৃদ্ধি , বিভিন্ন যন্ত্র ও গাড়িঘোড়ার বিরূপ প্রভাব, রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার, নির্বিচারে বন উজাড়, বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্যের ব্যবহার ইত্যাদির কারণে বাংলাদেশে পরিবেশ দূষণ সমস্যাটা প্রকট আকার ধারণ করেছে। বাংলাদেশের বিশেষ করে শহরাঞ্চলে রাস্তাঘাটে বর্ধিত এবং মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন চলাচলের ফলে সৃষ্ট ধোঁয়া বাতাসে কার্বনডাইঅক্সাইড ও সিসার পরিমাণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। যা মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকির সৃষ্টি করছে। তাছাড়া যানবাহনের বিকট শব্দে প্রতিনিয়তই শব্দ দূষণ হচ্ছে। এতে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। প্রতি বছর আমাদের দেশে যেসব প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়, তার মূলেও রয়েছে পরিবেশ ও প্রকৃতিগত সমস্যা। এদেশে পযার্প্ত পরিমাণ বনভূমি না থাকায় বন্যা,খরা, অনাবৃষ্টি ইত্যাদি প্রাকৃতিক দূর্যোগ সংঘটিত হচ্ছে। দেশে মরুময়তা দেখা দিচ্ছে। দেশের উত্তরাঞ্চলে ইতোমধ্যেই মরুময়তার আর্বিভাব ঘটেছে।

পরিবেশের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার প্রভাবে মানুষের সামগ্রিক যে সব ক্ষতি সাধিত হয় তা থেকে রক্ষা পেতে হলে আমাদের অব্যশই প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার পথ বের করতে হবে। এর জন্য নানা পদ্ধতি প্রয়োগ করা যেতে পারে। বায়ুদূষণের বেলায় কীট নিধনের জৈব নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণ, নিবিড় বনায়ন, রাসায়নিক পদার্থের শোধন, ধোঁয়ার পরিশ্রুতিকরণ, বসতি ও শিল্পাঞ্চলের মধ্যে দূরত্ব রাখা ইত্যাদি ব্যবস্থা গৃহীত হতে পারে। পানি দূষণ দূর করার জন্য রাসায়নিক পদার্থ ও ময়লার বিশোধন দরকার। শব্দ দূষণ দূর করতে হলে শব্দ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং সুনাগরিকতার বিকাশ ঘটাতে হবে।

পরিবেশ সংরক্ষণে গৃহীত পদক্ষেপ নিতে হবে। বাংলাদেশ সরকার পরিবেশ রক্ষার্থে এবং আগামী প্রজন্মকে পরিবেশ দূষণ থেকে রক্ষা করতে কতিপয় যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যেমন- পলিথন বিভিন্নভাবে সার্বিক পরিবেশকে বিপন্ন করে তুলেছিল। শহরে ড্রোনেজ ব্যবস্থা ও সুয়ারেজ লাইন অচল করে দিয়েছিল এটি। এই অসহনীয় অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য পলিথিন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়। সরকার ১ মার্চ ২০০২ থেকে সারাদেশে পলিথিন শপিং ব্যাগেন উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে।

সরকার পরিবেশ দূষণমুক্ত করা ও যানজট নিরসনের লক্ষ্যে ২৫ বছরের বেশি পুরানো ট্রাক ও ২০ বছরের বেশি পুরানো বাস, মিনিবাস চলাচল নিষিদ্ধ করেছে। পুরানো সকল বেবিট্যাক্সি, টেম্পো ও অটোরিকশা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এসব টু-স্ট্রোক যানবাহনের নির্গত ধোঁয়ায় কার্বন ডাইঅক্সাইড,সিসা, কার্বনমনোঅক্সাইডসহ ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ পরিবেশকে মারাত্নক ক্ষতিগ্রস্ত করছিল। এ ছাড়া পরিবেশ দূষণ রোধে যানবাহনে সিএনজি জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। এ লক্ষ্যে দেশের নানা প্রান্তে সিএনজি স্টেশন স্হাপন করা হচ্ছে।

দেশকে অধিকতর বাসযোগ্য করে তোলার লক্ষ্যে সরকার আরও যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তন্মধ্যে রয়েছে পরিবেশ আদালত স্হাপন। এ আদালতে পরিবেশ দূষণজনিত সকল অপরাধের দ্রুত বিচার সম্পন্ন হবে। প্রাথমিকভাবে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীসহ ৬টি বিভাগীয় শহরে পরিবেশ আদালাত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পরিবেশ মন্ত্রণালয় কর্তৃক ঢাকা ‘ কন্টিনিউয়াস এয়ার মনিটরিং স্টেশন ‘ (সিএএমএস) নামক বায়ু দূষণ পরিমাপক যন্ত্র স্থাপন করা হয়েছে। এ যন্ত্রের মাধ্যমে বায়ুদূষণের মাত্রা জানা যাবে এবং যথাসময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের প্রধান উপায় জলাভূমি রক্ষার পদক্ষেপ হিসাবে গুলশান,বারিধারা লেক,হাতিরঝিল এবং আশুলিয়ায় সরকার সময়োপযোগী ব্যবস্থা নিয়েছে। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় পাহাড় কাটা বন্ধে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে। ইটের ভাটায় কাঠ ব্যবহার নিষিদ্ধ হয়েছে এবং ভাটা থেকে উদগীরিত ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণের জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। শীতলক্ষ্যা, কর্ণফুলী, তুরাগ, বুড়িগঙ্গাসহ সারা দেশে নদী দূষণ বন্ধ করার জন্য নেয়া হয়েছে কার্যকর পদক্ষেপ ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে নদীর পাড়ে গড়ে তোলা অবৈধ স্থাপনা। পরিবেশ দূষণ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা তথা মানবজাতির জন্য এক মারাত্নক হুমকি। আমাদের মতো অস্বিত্বের সংকট পড়বে। এ ব্যাপারে সারা বিশ্বের মানুষের সচেতন প্রয়োজন। জাতির বৃহত্তর স্বার্থে তথা অস্বিত্ব রক্ষার প্রশ্ন আমাদেরকেও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়

সামাজিক মাধ্যমগুলোতে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও খবর...
© All rights reserved © 2021 www.banglarchokhnews.com  
Theme Customized BY LatestNews