বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা প্রতিবেদনে বাংলাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্যকে আরও প্রতিযোগিতাসক্ষম করতে অবকাঠামো শক্তিশালীকরণ, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো,দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি,অর্থায়ন ব্যবস্থা সহজীকরণ ও বৈদেশিক বাণিজ্য,স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা এবং ব্যবসায় পরিচালনাসহ ১২টি বিষয়ের ওপর বিশেষ জোর দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার ২০২০ সালের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) পক্ষে স্থানীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এটি প্রকাশ করেছে। সেখানে বাংলাদেশ সম্পর্কে এই তথ্য দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশে ব্যবসায় পরিবেশ সমীক্ষা নিয়ে সিপিডির নিজস্ব একটি প্রতিবেদনও আজ প্রকাশ করা হয়।

এবারে করোনার কারণে অন্যান্য বছরের মতো বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা সূচকের র‌্যাঙ্কিং প্রকাশ করা হয়নি। তবে কোন দেশের কি সমস্যা তা জানতে ওই দেশের ব্যবসায়ীদের মতামত জরিপ করা হয়েছে। ডব্লিউইএফের পক্ষে বাংলাদেশে এই কাজটি করেছে সিপিডি। তারা ১০ কোটি টাকার ওপর সম্পদ আছে এমন ৫৫টি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহীদের মতামত নিয়েছে। আজ এক ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রতিবেদন দুটি প্রকাশ করেছে সিপিডি। এতে প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন,ব্যবসায় পরিবেশের উন্নয়নের জন্য ব্যবসায়ীরা অবকাঠামো শক্তিশালীকরণ, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো,অর্থায়ন সহজ করা,দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, সরকারি পরিষেবা প্রাপ্তি সহজীকরণ ও সরকারি প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেয়ার কথা বলেছে।

অনুষ্ঠানে সিপিডির বিশেষ ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা সুদৃঢ় করতে প্রযুক্তির ব্যবহার যেমন বাড়াতে হবে তেমনি দক্ষ সরকারি প্রশাসন জরুরি। এর পাশাপাশি তিনি সুশাসনের প্রতি গুরুত্ব দেয়ার কথা বলেন।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, দক্ষ ও উন্নয়নমুখী অর্থনীতির জন্য ব্যবসা-বাণিজ্য করার পরিবেশ সহজ করতে হবে। প্রযুক্তির উৎকষর্তা বাড়াতে হবে। করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় ব্যবসা-বাণিজ্যে নানা ধরনের রুপান্তর প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

উল্লেখ্য,এবার বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা প্রতিবেদন তৈরিতে ১৪২টি দেশের ওপর জরিপ পরিচালনা করা হয়েছে।