বাংলার চোখ · ভারতে কৃষক আন্দোলনকে সমর্থন করে বিতর্কে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো
  1. [email protected] : mainadmin :
বাংলার চোখ · ভারতে কৃষক আন্দোলনকে সমর্থন করে বিতর্কে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো
মঙ্গলবার, ০৯ মার্চ ২০২১, ০১:২৫ পূর্বাহ্ন

ভারতে কৃষক আন্দোলনকে সমর্থন করে বিতর্কে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো

বাংলার চোখ সংবাদ
  • সময় বুধবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৬০ দেখেছেন
banglarchokh
banlarchokh

কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ভারতের কৃষক আন্দোলনকে সমর্থন করে প্রকাশ্যে বিবৃতি দেওয়ার পর তিনি আদৌ ঠিক কাজ করেছেন কি না, তা নিয়ে ভারতে উত্তপ্ত বিতর্ক শুরু হয়েছে।

ভারতীয়রা অনেকেই যেমন ট্রুডোর পদক্ষেপকে স্বাগত জানাচ্ছেন, তেমনি এদেশে নেটিজেনদের একটা বড় অংশ আবার তাকে ‘ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় থেকে দূরে থাকার’ পরামর্শ দিচ্ছেন।

অনেকে আবার মনে করছেন, ভারতে আন্দোলনরত কৃষকদের বেশির ভাগই যেহেতু পাঞ্জাবের শিখ, তাই কানাডায় শিখ বংশোদ্ভূতদের সমর্থন পেতেই মি ট্রুডো সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ওই বিবৃতি দিয়েছেন।

উদ্দেশ্য যাই হোক, ট্রুডোর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ভারতীয়রা এখন যে কার্যত দুভাগ তাতে কোনও সন্দেহ নেই।

এর আগে সোমবার শিখ ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা গুরু নানকের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত একটি ফেসবুক ইন্টারঅ্যাকশনে অংশ নিয়ে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেছিলেন, ভারতে কৃষক আন্দোলনের জেরে ‘পরিস্থিতি উদ্বেগজনক’ হয়ে উঠছে।

“পৃথিবীর যে কোনও প্রান্তে যে কোনও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে সব সময় কানাডার সমর্থন থাকবে”, সে কথাও তখন জানিয়েছিলেন তিনি।

ওই ভার্চুয়াল সভায় তখন ক্যাবিনেটে ট্রুডোর শিখ সদস্যরা ও লিবারাল পার্টির অন্য শিখ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

এই মন্তব্য সামনে আসার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাল্টা বিবৃতি দিয়ে জানায়, একটি গণতান্ত্রিক দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে এভাবে নাক গলানো সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত।

“ভালো করে না জেনেশুনেই এ ধরনের মন্তব্য করা থেকে কানাডিয়ান নেতৃত্বের বিরত থাকা উচিত”, বলেন দিল্লিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব।

কিন্তু ট্রুডোর মন্তব্যকে সমর্থন করেও অনেক ভারতীয় সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট করতে শুরু করেন।

সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও অ্যাক্টিভিস্ট প্রশান্ত ভূষণ টুইট করেন, “আমি খুব খুশি যে ট্রুডো ভারতে কৃষকদের অধিকারের পক্ষে মুখ খুলেছেন। সব বিশ্বনেতারই উচিত সব দেশে গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য সরব হওয়া।”

এই ইস্যুটাকে যে তিনি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে মনে করছেন না, সেটাও স্পষ্ট করে দেন প্রশান্ত ভূষণ।

কেউ কেউ লেখেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যদি আমেরিকায় গিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হয়ে নির্বাচনী প্রচার করতে পারেন, তাহলে কানাডার প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়ে কী দোষ করলেন?

কমেডিয়ান কুনাল কামরা টুইট করেন, “নাও, এবার কানাডাতে ‘হাউডি মোদী’ অনুষ্ঠান বাতিল হয়ে গেল!”

জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী সোশ্যাল মিডিয়াতে লেখেন, যদি ফ্রান্স বা ইসরায়েলের ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়’ নিয়ে ওই দেশগুলোর পাশে দাঁড়ানো যায় কিংবা বালোচদের স্বাধীনতার দাবিকে ভারত সমর্থন করতে পারে তাহলে এখানে ট্রুডো কী দোষ করলেন?

পাকিস্তানে বা বাংলাদেশের ভেতরে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ নিয়েও ভারত যে অতীতে বারবার সরব হয়েছে, সে কথাও মনে করিয়ে দেন অনেকেই।

কিন্তু ভারতের ক্ষমতাসীন বা বিরোধী, প্রায় সব রাজনৈতিক দলই অবশ্য জাস্টিন ট্রুডোর মন্তব্যকে ‘অবাঞ্ছিত হস্তক্ষেপ’ বলেই মনে করছে।

শিবসেনার এমপি ও মুখপাত্র প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী বলছেন, “ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়কে যেভাবে জাস্টিন ট্রুডো তার দেশের নিজস্ব রাজনীতির খোরাক হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছেন সেটা মেনে নেওয়া যায় না।”

আম আদমি পার্টির নেতা রাঘব চাড্ডা আবার টুইট করেছেন, “ভারতের নিজস্ব সমস্যা সামলানোর ক্ষমতা ভারতেরই আছে। অন্য দেশের নির্বাচিত নেতাদের এগুলো নিয়ে মন্তব্য করার কোনও দরকারই নেই!”

ক্ষমতাসীন বিজেপির সিনিয়র নেতা রাম মাধব আরও চাঁছাছোলা ভাষায় কানাডার প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করে প্রশ্ন তুলেছেন, “ভারতের নিজস্ব ব্যাপারস্যাপার নিয়ে কথা বলার কী এক্তিয়ার ট্রুডোর আছে?”

প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এ বিষয়ে মোটামুটি ঐকমত্য থাকলেও বিপুল সংখ্যক ভারতীয় যে জাস্টিন ট্রুডোর পদক্ষেপকে সমর্থনও জানাচ্ছেন, সেটা বিস্মিত করেছে দিল্লিতে সুপরিচিত সাংবাদিক ও টিভি অ্যাঙ্কর বীর সাংভিকে।

বীর সাংভি তার নিজস্ব কলামে এদিন লিখেছেন, “জাস্টিন ট্রুডোর মন্তব্যকে হয়তো জাস্টিন বিবারের মন্তব্যের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কোনও দরকার নেই।”

“কিন্তু বহু ভারতীয় ট্রুডোর কথায় যেভাবে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন, সেটাই আমাকে উদ্বিগ্ন করছে।”

ভারতে কৃষক আন্দোলনের পক্ষে এখন মুখ খুললেও কানাডা যে অতীতে ভারতে কৃষি ভর্তুকির বিরুদ্ধে বারবার সরব হয়েছে, সেটাও মনে করিয়ে দিচ্ছেন অনেকেই।

‘দ্য প্রিন্টে’র ডিপ্লোম্যাটিক এডিটর নয়নিমা বসু জানাচ্ছেন, “ভারতের কৃষি ভর্তুকির বিরুদ্ধে যে দেশগুলো বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় সবচেয়ে বেশি সরব তার অন্যতম হল কানাডা।”

 

চালের ওপর ভারতের যতটা ভর্তুকি দেওয়ার অধিকার আছে, ‘মিনিমাম সাপোর্ট প্রাইস’ বা ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের বাহানায় ভারত তার চাষীদের তার চেয়ে অনেক বেশি ভর্তুকি দিয়েছে – এই মর্মে বছরদুয়েক আগেই ডব্লিই টি ও-তে ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেশ করেছিল কানাডা।

অথচ এই মুহুর্তে ভারতে কৃষকরা যে আন্দোলন করছেন তাতে তাদের প্রধান দাবিই হল কৃষিপণ্যের জন্য ভর্তুকি-সহ মিনিমাম সাপোর্ট প্রাইস বহাল রাখতে হবে।

 

সামাজিক মাধ্যমগুলোতে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও খবর...
DMCA.com Protection Status
© All rights reserved © 2021 www.banglarchokhnews.com  
Theme Customized BY LatestNews