1. [email protected] : mainadmin :
  2. [email protected] : special_reporter : special reporter
  3. [email protected] : subadmin :
বাংলার চোখ নিউজ | অনলাইন সংস্করণ | ভূঞাপুরে মিষ্টি আলুর বাম্পার ফলন
শুক্রবার, ৩০ জুলাই ২০২১, ১১:২৩ পূর্বাহ্ন

ভূঞাপুরে মিষ্টি আলুর বাম্পার ফলন

বাংলার চোখ সংবাদ
  • সময়ঃ বুধবার, ১৬ জুন, ২০২১

শেখ রুবেল (ভূঞাপুর,টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি :

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলায় চলতি মৌসুমে যমুনার চরাঞ্চলে মিষ্টি আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। ধানের তুলনায় তিনগুণ বেশি ফলন ও চড়া দাম পাওয়ায় মিষ্টি আলু চাষে ঝুঁকছেন চরাঞ্চলের কৃষকেরা।

এ চরাঞ্চলের উৎপাদিত মিষ্টি আলু স্থানীয় মানুষদের চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। ফলে চড়া দাম পেয়ে মিষ্টি আলু চাষে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায়, গত বছরের ক্ষতি পুষিয়ে নিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন এমনটাই আশা করেছেন স্থানীয় কৃষকেরা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়ের তথ্যমতে, উপজেলার যমুনার চরাঞ্চলে এবার মিষ্টি আলু চাষ হয়েছে ২২০ হেক্টর জমিতে। তারমধ্য ১৮০ হেক্টর জমিতে স্থানীয় জাতের মিষ্টি আলু চাষ হয়েছে, যা লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে বেশি। স্থানীয় জাতের পাশাপাশি হাইব্রিড জাতের মিষ্টি আলুও চাষ করেছেন চাষিরা। তবে স্থানীয় জাতের আলুর ফলনই বেশি হয়েছে বলে জানান আলুচাষিরা।

এ নিয়ে মঙ্গলবার (১৫ জুন) দুপুরে উপজেলার যমুনা চরাঞ্চলের গাবসারা ইউনিয়নের রেহাইগাবসারা রুলীপাড়া ব্লকে রুলীপাড়া এলাকায় ২০২১-২১ অর্থবছরে কন্দাল ফসল উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়িত মিষ্টি আলুর প্রদর্শনীর মাঠ দিবস আয়োজন করে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। এ সময় উপজেলা কৃষি অফিসার আল মামুন রাসেলের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইশরাত জাহান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেন- উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. স্বপন চন্দ দেবনাথ, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহিনুল ইসলাম, সমাজসেবা কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার এসএম রাশেদুল হাসান, ভূঞাপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আসাদুল ইসলাম বাবুল, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, গাবসারা ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনির, গণমাধ্যমকর্মী ও প্রমুখ।

কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মিষ্টি আলুতে বিনিয়োগ কম। অল্প খরচ করেই বাড়তি আয় হচ্ছে। অগ্রহায়ণ মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে মিষ্টি আলুর চারা বপন শুরু হয়। ফাল্গুন মাসের তৃতীয় সপ্তাহে থেকে মিষ্টি আলু মাটির নিচে পরিপক্ক হয় আর চৈত্র-বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ মাসে থাকে আলু তোলার সময় হয়। এরপর আলু দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করে থাকেন চাষিরা।

মিষ্টি আলুর রাজ্য হিসেবে পরিচিত ভূঞাপুর উপজেলার যমুনার চরাঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে, ক্ষেতজুড়ে চলছে মিষ্টি আলু তোলার উৎসব। রোদের তেজ উপেক্ষা করে পুরুষরা কোদাল দিয়ে মাটি কুপিয়ে আলগা করছেন আর মহিলা ও শিশুরা আলু কুড়িয়ে এক জায়গায় সংগ্রহ করছে।

স্থানীয় ‍আলুচাষি সেকান্দার বলেন, চলতি মৌসুমে এক একর জমিতে মিষ্টি আলু চাষ করেছি। প্রতি বিঘায় ১২০ থেকে ১৫০ মণ করে মিষ্টি আলুর ফলন হয়েছে। বাজারেও আলুর চড়া দাম পাওয়া যাচ্ছে। প্রতি মণ মিষ্টি আলু পাইকারি ৪০০ টাকা দরে বিক্রি করছি। এক একর জমিতে চারা বপন ও আলু তোলা পর্যন্ত মোট খরচ হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার টাকা। বিক্রি হয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। লাভ হয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা।

মিষ্টি আলুর পাইকার লিটন সরকার বলেন, যমুনা চরাঞ্চলের উৎপাদিত মিষ্টি আলুর চাহিদা বেশি। কারণ, ওই আলু বালু মাটিতে হওয়ায় মিষ্টি হয় খুব বেশি।

উপজেলা কৃষি অফিসার আল মামুন রাসেল বলেন, এ বছর গতবারের তুলনায় যমুনার চরাঞ্চলের ভূঞাপুর অংশে মিষ্টি আলু উৎপাদন ভালো হয়েছে। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা জমির অবস্থা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করে সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়েছে এবং মাঠপর্যায়ে কৃষকদের আলুর পরিচর্চা রোগ-বালাই দমন ও জৈব সারের প্রয়োগ নিয়ে আন্তরিক ছিল। তাই মিষ্টি আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। এবার গত বছরের ক্ষতি পুষিয়ে, আগামীতে ভূঞাপুরে আরো বেশি পরিমাণ মিষ্টি আলুর চাষ হবে বলে প্রত্যাশা করছি।

এমটিকে/বাংলারচোখ

সামাজিক মাধ্যমগুলোতে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও খবর...
© All rights reserved © 2021 | বাংলার চোখ নিউজ  
Theme Customized BY LatestNews