1. [email protected] : mainadmin :
  2. [email protected] : subadmin :
বাংলার চোখ | মণিরামপুরে শ্রমিক সংকটে বাড়তি আয় 
রবিবার, ০৯ মে ২০২১, ১১:২৭ অপরাহ্ন

মণিরামপুরে শ্রমিক সংকটে বাড়তি আয় 

জামান ভূঁইয়া
  • সময়ঃ শনিবার, ১ মে, ২০২১

বিশেষ প্রতিনিধি :

মণিরামপুরে শ্রমিক সংকটের কারণে দরিদ্র শিক্ষার্থীসহ ভ্যানচালক, চায়ের দোকানদার, মোটর শ্রমিকসহ করোনায় কর্মহীনরা বোরো ধান কেটে বাড়তি আয় করার সুযোগ পাচ্ছে।

চলতি বোরো মৌসুমের মাঝপথে ব্লাস্ট রোগের আক্রমণ এবং কয়েকদিনের ঝড়বৃষ্টিতে ফলনে কিছুটা প্রভাব পড়লেও ধানের বাজার দর মোটামুটি ভাল থাকায় চাষিরা আশার আলো দেখতে শুরু করেছেন। তবে বর্তমান শ্রমিকের তীব্র সংকটের দরুণ উচ্চ মূল্যে মুজুরি দিয়ে চাষিরা ক্ষেত থেকে ধান ঘরে তুলতে বাধ্য হচ্ছেন।

ফলে বাজার দর কিছুটা ভাল হলেও চাষিরা তার সুফল পাচ্ছে না বলে তাদের দাবি। অন্যদিকে শ্রমিক সংকটের দরুণ পৌরশহরসহ উপজেলা ব্যাপী বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ চায়ের দোকানি, ভ্যানচালক এমনকি স্কুল কলেজের গরিব শিক্ষার্থীরাও ধান কেটে বাড়তি রোজগার করছেন।উপজেলা কৃষি অফিসার আবুল হাসান জানান, এবার চলতি মৌসুমে মণিরামপুরে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ২৭ হাজার ৯’শ হেক্টর জমি।

দাবদহের জলাবদ্ধতাসহ বিভিন্ন কারণে এবার চাষ করা হয় ২৭ হাজার ৪’শ হেক্টর জমি। মৌসুমের শুরুতে অনুকূল আবহাওয়া থাকলেও মাঝপথে হঠাৎ করে ঝড়বৃষ্টির দরুণ আবাদে ক্ষতি হয়। তা ছাড়াও এবার কারেন্ট পোকার আক্রমণে সামান্য চিটা দেখা দেয়।

তারপরও এবার ফলন মোটামুটি ভাল হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৮০ ভাগ ধান মাঠ থেকে ঘরে তোলা সম্ভব হয়েছে বলে জানাগেছে। বর্তমান বাজার দরও ভালো। শুরুতে বাজারে ধান বিক্রি হচ্ছে এক হাজার থেকে ১ হাজার ২’শ টাকা মণ দরে।বর্তমান আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় ক্ষেত থেকে ঘরে তোলার জন্য রাতদিন সময় পার করছেন চাষীরা।

ধানকাটা মৌসুমের শুরুতে বাজার দর কিছুটা হলেও ভাল থাকায় চাষিরা আশার আলো দেখতে শুরু করেছেন। কিন্তু সে আশার আলো দেখতে না দেখতে হঠাৎ করেই যেন ম্লান হয়ে পড়েছে। ধান কাটার শেষ পর্যায়ে বর্তমান শ্রমিকের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। তার পরেও কিছু সংখ্যক পাওয়া গেলেও মুজুরি দ্বিগুণহারে দিয়ে ধান ঘরে তুলতে বাধ্য হচ্ছেন। মাঝিয়ালী গ্রামের চাষি নিরঞ্জন দাস জানান, ফলন কাঙ্খিত না হলেও বাজারদর কিছুটা ভালো রয়েছে। তার ভাষায় বাজারদর ভাল হলে কি হবে? ক্ষেত থেকে ধান ঘরে তুলতে বর্তমান শ্রমিকের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। আর যা পাওয়া যাচ্ছে তা আবার দ্বিগুণ হারে মুজুরি দিয়ে কাজ করাতে হচ্ছে।

বেগমপুর গ্রামের প্রান্তিক চাষি মতিয়ার রহমান জানান, সকাল আটটা থেকে বেলা সাড়ে ১২ টা পর্যন্ত একজন শ্রমিককে দিতে হচ্ছে পাঁচ থেকে ছয়’শ টাকা। আবার বিকেল তিনটা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে চার’শ টাকা। এ দিকে শ্রমিক সংকটের দরুন পৌরশহরসহ বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে বিশেষ করে অধিকাংশ চায়ের দোকনদার, ভ্যানচালক এমনকি স্কুল কলেজের গরিব শিক্ষার্থীরাও বাড়তি রোজগারের আশায় ধানকাটার কাজ করছেন।

পৌরশহরের চায়ের দোকানী সিরাজুল ইসলাম জানান, সারাদিন চা বিক্রি করে পাঁচ’শ টাকা রোজগার করা সম্ভব হচ্ছেনা। ফলে সাত থেকে আট ঘন্টা ধান কেটে আট থেকে নয়’শ টাকা রোজগার করা যাচ্ছে। এ ছাড়া বেগমপুর গ্রামের এসএসসি পরিক্ষার্থী যোবায়ের হোসেন, নূর ইসলাম, দশম শ্রেণির রায়হান হোসেন, সাফায়েত অসিম, অষ্টম শ্রেণির সোহাগ হোসেন, হাজরাকঠি গ্রামের কলেজ ছাত্র আবু জাফর, সাগর হোসেন, জাকারিয়া হোসেন, জালঝাড়া গ্রামের কলেজ পড়–য়া ইয়াছিন আলী, সাকিব হাসানসহ অনেক শিক্ষার্থী এখন ধান কেটে বাড়তি রোজগার করছে। রাজমিস্ত্রী রবিউল ইসলাম জানান, বাড়তি রোজগার করতে অনেক মিস্ত্রী এবং সহকারীরাও ধান কাটতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। উপজেলা কৃষি অফিসার আবুল হাসান জানান, ইতোমধ্যে উপজেলার প্রায় ৮০ ভাগ ক্ষেত থেকে চাষিরা ধান ঘরে তুলতে পেরেছেন। যদি আবহাওয়া অনুকুলে থাকে তাহলে আগামী সাত থেকে ১০ দিনের মধ্যে বাকি ধান ঘরে উঠবে।

সামাজিক মাধ্যমগুলোতে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও খবর...
© All rights reserved © 2021 www.banglarchokhnews.com  
Theme Customized BY LatestNews