1. [email protected] : mainadmin :
  2. [email protected] : Mohsin Molla : Mohsin Molla
  3. [email protected] : subadmin :
বাংলার চোখ নিউজ | অনলাইন সংস্করণ | মাধবপুরে চাটাই বানিয়ে সংসার চলে মাসুকের
রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:৩৮ অপরাহ্ন

মাধবপুরে চাটাই বানিয়ে সংসার চলে মাসুকের

বাংলার চোখ সংবাদ
  • সময়ঃ রবিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১

লিটন পাঠান :

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার আন্দিউড়া ইউনিয়নের মুরাদপুর গ্রামের মাসুক মিয়া চাটাইয়ের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। তিনি সন্তানের লেখাপড়া আর পরিবার পরিজন নিয়ে এ কাজ করেই নিরন্তর সংগ্রাম করে যাচ্ছেন মাসুক মিয়া। সে মাধবপুর উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজার থেকে বাঁশ সংগ্রহ করে চাটাইয়ের কাজ করে থাকে। উপজেলার দুর্গাপুর, বাড়াচান্দুরা, মুরাদপুর সহ বিভিন্ন এলাকার শিল্প কারিগরদের পেশা বাঁশশিল্প। বাঁশের তৈরি জিনিস বিক্রি করেই সংসার চলে তাদের।

বছরের পর বছর থেকেই তারা বাঁশ দিয়ে ডালি, টালা, কুলা, মাছ ধরার উপকরণ, ধান রাখার ডোল, ডুলি, হাতপাখা, চালুন, ঘরের ছাদ তৈরি করে স্বাচ্ছন্দে জীবনযাপন করে আসছে। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের অর্ধশতাধিক পরিবার এ কাজের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছেন। এদিকে পার্শ্ববর্তী বিজয়নগর উপজেলার সাতবর্গ, আলীনগরসহ বিভিন্ন এলাকার প্রায় ৩ শতাধিক পরিবার এ কাজ করে জীবন জীবিকা নির্বাহ করছেন। এসব গ্রামের তৈরি বাঁশের চাটাই যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।

সরজমিনে উপজেলার দুর্গাপুর, মুরাদপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায় নারী ও পুরুষ এক সঙ্গে বসে বাঁশ নিয়ে নানা উপকরণ তৈরি করছেন। খোঁশ গল্পেও মশগুল অনেকে। আবার কেউ বসে মোবাইল ফোনে গান শুনছেন আর চাটাইয়ের কাজ করছেন। এ সময় মুরাদপুর গ্রামের মাসুক মিয়া, আবুল মিয়াসহ অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় তারা পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া এ পেশায় তারা স্বাচ্ছন্দে জীবনযাপন করছেন।

এদের প্রত্যেকের বাড়িই যেন এক একটি বাঁশঝাড়। নিজের বাঁশঝাড়ের বাঁশ কেটে সার্বক্ষনিক চাটাই তৈরীর কাজ করেন পরিবারের অধিকাংশ লোকজন। বাঁশের তৈরি উপকরণ বিক্রি করে দিব্যি সংসার চলে তাদের।

অনেকেই জানান, দল বেঁধে কাজ করতে মজা অনেক। তাতে কাজের গতিও বাড়ে আর সময়ও কাটে। চলে নানা ধরনের খোঁশগল্প মোবাইল গান শোনা এবং টেলিভিশনের খবর শোনা। গ্রামগুলোতে গেলেই মনে হয় বাঁশঝাড়ে ঘেরা ছায়া শীতল নিরিবিলি এক মনোরম পরিবেশ। আর্থিক দৈন্য থাকলেও সবাই মিলেমিশে মনোমুগ্ধকর এক পরিবেশে ভালোভাবেই জীবনযাপন করছেন।

আন্দিউড়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোস্তাক আহম্মেদ খান হেলাল জানান, যদি সরকার তাদের ক্ষুদ্র ঋণের আওতায় এনে তাদের আর্থিক সুবিধা প্রদান করলে তারা আরো আর্থিকভাবে লাভবান হবে বলে মনে হয়। এছাড়াও সুশীল সমাজের লোকজন মনে করেন এ আধুনিকের ছোঁয়ায় বিভিন্ন ক্যামিকেল দ্বারা পণ্য বাজারজাত হওয়ায় যেমন ক্ষতি হচ্ছে পরিবেশের তেমনি ক্ষতি হচ্ছে আবহাওয়ার। যা হারিয়ে যাচ্ছে দিন দিন আমাদের এ হস্তশিল্প বাঁশের তৈরি জিনিসপত্র। আমরা যদি তাদেরকে হস্তশিল্প বাঁশের তৈরি জিনিসপত্র তৈরিতে উদ্বুদ্ধ করি তাহলে দেশের তথা সমাজে আর্থিক লাভে লাভবান হবেন তারা।

 

এমটিকে/বাংলারচোখ

শেয়ার করুন...

Leave a Reply

আরও খবর...
© All rights reserved © 2021 | বাংলার চোখ নিউজ  
Theme Customized BY LatestNews