1. [email protected] : mainadmin :
  2. [email protected] : subadmin :
বাংলার চোখ | লকডাউন কার্যকরী কোন সমাধান হতে পারেনা
সোমবার, ১০ মে ২০২১, ০৫:১৫ পূর্বাহ্ন

লকডাউন কার্যকরী কোন সমাধান হতে পারেনা

বাংলার চোখ সংবাদ
  • সময়ঃ মঙ্গলবার, ৪ মে, ২০২১
এম এফ ইসলাম মিলন, কলামিস্ট ও ব্যবসায়ী :
লকডাউন বলতে বুঝায় সব বন্ধ, কিছুই চলবে না। আমি সাধারণ মানুষ, সহজ কথা বুঝি, অত তত্ব কথা আমার বুঝে আসেনা। যে লকডাউনে মানুষের আয় উপার্জন বন্ধ হয়ে যায়, উৎপাদন বন্ধ থাকে, সেবা খাত অচল হয়ে পড়ে, সার্বিক অর্থনীতি স্থবির হয়ে যায়, মানুষ কার্যত গৃহবন্দী হয়ে পড়ে এই ধরনের লকডাউন দিয়ে করোনাভাইরাসের আগ্রাসন থামানোর প্রচেষ্টা কতটা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, এটা নীতিনির্ধারকদের কে ভাবতে হবে। বিশেষ করে আমাদের দেশ, যেখানে সীমিত আয়ের লোকজনের বসবাস বেশী, আজকের উপার্জনের উপর আজকের বাজার নির্ভর করে, বাজার করে ঘরে গেলে চুলা জ্বলে ও রান্না হয়, যেখানে সাধারণ মানুষকে এক মাসের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা সরকারের পক্ষে অসম্ভব বলা চলে এবং সাধারণ মানুষ সরকারের সাহায্য অনেক ক্ষেত্রে প্রত্যাশাও করেনা, তারা নিজেরা কর্ম করে সংসার চালাতেই বেশী আগ্রহী, সেখানে আমি মনে করি লকডাউন কোন ভাবেই দেশ ও দেশের মানুষের জন্য কল্যাণ বয়ে আনতে পারেনা।
বলা হচ্ছে এক সপ্তাহের লকডাউন, সরকারের এই বক্তব্যের উপরে সাধারণ মানুষের আস্থা নেই। বিগত দিনের অভিজ্ঞতা মানুষকে আস্থাহীন করে তুলেছে। সব কিছু স্বাভাবিক করে দেয়া এখন সময়ের অনিবার্য দাবী। করোনার প্রথম ঢেউ গেলো, এখন দ্বিতীয় ঢেউ চলছে। তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম বা তারও বেশী ঢেউ আর আসবেনা এমন কোন নিশ্চিত পয়গাম কি কেউ পেয়েছেন? যদি নিশ্চিত হতে না-ই পারি তাহলে জনজীবন স্বাভাবিক গতিশীল করে দিন, সাধারণ মানুষকে করোনার সাথে যুদ্ধ করে বাঁচতে সাহায্য করুণ। স্কুলে না যাওয়া শিশুর মেধা বিকাশে কী পরিমাণ সমস্যা তৈরী হচ্ছে তাকি আমরা বুঝতে পারছি? স্কুলের সাথে সংশ্লিষ্ট জীবনগুলো কিভাবে টিকে আছে তাকি আমরা গবেষণা করে দেখেছি?
মধ্যবিত্ত পরিবারের কথা কি আমাদের মনে আছে? গতবারের বাড়ি ভাড়া এখনও অনেক ভাড়াটিয়া পরিশোধ করতে পারেনি, এটা কি আমরা কেউ জানি? সংসার চালাতে গিয়ে গতবারের ঋণের টাকা এখনও পরিশোধ করা হয়ে ওঠেনি, তার খবর কি বড় চেয়ারের কর্মকর্তারা জানেন? যাদের ব্যবসা-বাণিজ্য ধ্বংস হয়ে গিয়েছে, তারা তাদের পরিবার নিয়ে কীভাবে আছে তাকি আপনারা কেউ জানেন? “চাচা আপনা জান বাঁচা” সবাই “ইয়া নাফসি, ইয়া নাফসি” নীতিতে ব্যস্ত আছেন। এটা আমরা সবাই বুঝি।
সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের জীবন নিয়ে আমাদের ভাবার সময় কোথায়? আর এ কারণেই সাধারণ মানুষ তার নিজের উপরে ভরসা করেই জীবন পরিচালনা করতে চায়, তারা কারও অনুকম্পা নিয়ে বাঁচতে চায় না। না সরকারের, না টাকাওয়ালাদের। তারা চায় কাজের উপযুক্ত পরিবেশ। তারা করোনা কে ভয় পায়না, তারা ক্ষুদার জ্বালা কে ভয় পায়। ক্ষুদার কষ্ট কতটা নিদারুণ যন্ত্রণা দেয় সেটা তারা ভালো করেই জানে।
সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষকে আমরা হরহামেশাই গালি দেই, তারা মাস্ক পরে না, স্বাস্থ্যবিধি মানে না ইত্যাদি অভিযোগ। চিন্তা করে দেখুন, আমরা কেউ নিয়ম মানিনা, মানতে চাইনা, সর্বত্র নিয়ম ভাঙার প্রতিযোগিতায় যেন আমরা লিপ্ত। আর এই প্রতিযোগিতায় আমরা সবাই এগিয়ে, কেউ পিছিয়ে নেই। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ চেয়ার পর্যন্ত সবাই অনিয়মের প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাচ্ছি। শত শত উদাহরণ রয়েছে, যা পাঠকমাত্রই অবগত। তবুও একটি উদাহরণ দিতে চাই, করোনার প্রথম ঢেউয়ে বসুন্ধরা জরুরী ভিত্তিতে ২০০০+ বেডের অত্যাধুনিক হাসপাতাল করতে গেলেন। প্রায় করেও ফেলেছেন বলে খবরে দেখলাম, তারপর কয়টা মাসের ব্যবধানে কী দেখতে পেলাম? বসুন্ধরা হাসপাতাল উধাও! এমনটা হলো কেন? ৩২ কোটি টাকা সরকারি ব্যয়ে নির্মিত হাসপাতাল কার সিদ্ধান্তে বন্ধ হয়ে গেলো, তারা কি করোনার দ্বিতীয় ঢেউ প্রসঙ্গে অবগত ছিলেন না? ডিএনসিসির কভিড হাসপাতালের বেডে ধুলাবালির স্তুপ কেন থাকবে? রাস্তায় রোগীদেরকে নিয়ে স্বজনরা চিৎকার করে বেড়াচ্ছেন অথচ রেডি করা হাসপাতাল চালু না করে বরং একই বিল্ডিংয়ের উপর তলায় নতুন হাসপাতাল করার তোড়জোড় প্রচেষ্টা, এসব কেন? আসলে শুধু সাধারণ জনগণই নিয়ম ভাঙে না। এই নিয়ম ভাঙার প্রতিযোগিতা উপর থেকেই শুরু হয়েছে, যার কারণে সর্বত্র এটি আমাদের কাছে দৃশ্যমান হয়ে থাকে।
এই নিয়ম মানা না মানার মধ্যেই সমাজ, দেশ আবহমানকাল ধরে চলে আসছে, চলতে থাকবে। আমরা কেউ এর উর্ধ্বে নই, কী শিক্ষিত আর কী অশিক্ষিত। যে যেখানে সুযোগ পায় সে সেখানেই সুযোগ নিয়ে নেয়। অতএব এই তর্ক আপাতদৃষ্টিতে বৃথা।
করোনা কবে যাবে তার সঠিক নিশ্চয়তা কারও জানা নেই, কিছু বৈজ্ঞানিক ধারণা আছে মাত্র। এই ধারণার উপর নির্ভর করে না থেকে আমাদের অর্থনীতি বাঁচাতে, মানুষের আয়-উপার্জন করার রাস্তা তৈরী করে দিতে, উৎপাদন চালু রাখতে, আমদানি রপ্তানি চালু রাখতে, সেবা খাত সচল করে দিতে যা যা প্রয়োজন সব কিছু উন্মুক্ত করে দেয়া দরকার।
মহামারী করোনা নিয়ন্ত্রণে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে সরকারকে। এই একটি ক্ষেত্র অর্থাৎ “স্বাস্থ্যবিধি পরিপালন” এটি মেনে চলার ক্ষেত্রে সরকারের সর্বোচ্চ কড়া অবস্থানকে বাস্তবে দেখতে চাই। কোনভাবেই লকডাউন কার্যকরী পদক্ষেপ নয়, এটা সরকার যত দ্রুত আমলে নেবে তত দ্রুত আমজনতা আর্থিক অভাব অনটন থেকে মুক্তি পাবে, সরকারও জনগণকে নিয়ে দুঃশ্চিন্তা মুক্ত থাকতে পারবে।
করোনায় আমরা সরকারী প্রণোদনা চাইনা, আমরা কাজ করার উপযুক্ত পরিবেশ চাই।

সামাজিক মাধ্যমগুলোতে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও খবর...
© All rights reserved © 2021 www.banglarchokhnews.com  
Theme Customized BY LatestNews