1. mainadmin@banglarchokhnews.com : mainadmin :
  2. newsdhaka07@gamil.com : special_reporter :
  3. subadmin@banglarchokhnews.com : subadmin :
বাংলার চোখ নিউজ | অনলাইন সংস্করণ | লক্ষ্মীপুর রায়পুরে গোপনে সরকারি বই বিক্রি
মঙ্গলবার, ০৯ অগাস্ট ২০২২, ১১:২৪ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজঃ

লক্ষ্মীপুর রায়পুরে গোপনে সরকারি বই বিক্রি

বাংলার চোখ সংবাদ
  • সময়ঃ বৃহস্পতিবার, ১৩ জানুয়ারী, ২০২২

মোঃ রবিউল ইসলাম খান :

লক্ষ্মীপুর রায়পুর উপজেলার মীরগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামছু ত্তাওহীদ গোপনে বিক্রি করেছেন ২৫ মণ সরকারি বই। স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্র সজিবসহ কয়েকজন শিক্ষার্থীর অভিযোগ দুপুর দেড়টার সময় বিরতির সময় দেখতে পান স্কুলের অফিস সহকারি আবদুল হাদি ২০ বস্তা বই পিকআপ গাড়িতে তুলছেন।

এ সময় তার কাছে বই কোথায় নিয়ে যাচ্ছে জানতে চাইলে তিনি জানান, হেড স্যার জানেন। তিনি বইয়ের বস্তাগুলো তুলে দিচ্ছেন। বইগুলো হেড স্যার বিক্রি করে দিয়েছেন। তখন ৯৯৯ ফোন করলে রায়পুর থানা পুলিশ এসে বই আটক করে। এর আগে স্কুলের রড বিক্রিসহ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠে তার বিরুদ্ধে। কয়েকবার পরিচালনা কমিটি, শিক্ষকদের সাথেও তার দ্বন্দ্ব হওয়ায় বিক্ষোভ মিছিলও হয়েছে। নির্দেশ থাকলেও বই বিক্রির বিষয়ে ইউএনও এবং শিক্ষা কর্মকর্তাকে কোনো কিছুই জানানি তিনি।

রায়পুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা একেএম সাইফুল হক বলেন, এসব বই সরকারি সম্পত্তি। অবন্ঠিত বই অবশ্যই ফেরত দিতে হবে। প্রধান শিক্ষক সরকারি বই বিক্রি করে দিয়ে থাকলে অপরাধ করেছেন। অভিযোগ পেলে তিনি ব্যবস্থা নেবেন।

জানা গেছে, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বুধবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ছাড়াও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন অভিভাবক ও গ্রামবাসী। গত ২৮ বছর আগে ১৯৯৪ সালে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়ে শামছুত্তাওহীদ স্কুলের বিদ্যমান শিক্ষার্থীর সংখ্যা দ্বিগুণ দেখিয়ে বছর বছর দ্বিগুণ বই উত্তোলন করে আসছেন। শিক্ষার্থীদের মাঝে অর্ধেক বই বিতরণ করে বাকি বই গোপনে বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ করছে বলে অভিযোগ উঠে।

স্কুলের একজন সিনিয়র শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রধান শিক্ষক ঐতিহ্যবাহী মীরগঞ্জ স্কুলের বিভিন্ন খাতের বিপুল টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তাকে অবৈধভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে। স্কুলের জিনিসপত্র যখন যা হাতের কাছে পায় সেটিই তিনি বিক্রি করে টাকা নিজের পকেটে নেন। শিক্ষক-কর্মচারীসহ এলাকাবাসী তার এসব দুর্নীতির প্রতিবাদ করলে তিনি রাজনৈতিক প্রভাবের ভয় দেখিয়ে থাকেন।

অভিযোগকারীর মতে, আনুমানিক ২৫ মণ বই বিক্রি করে প্রায় ২০ হাজার টাকা হাতিয়েছেন প্রধান শিক্ষিক।

অবণ্ঠিত এসব বই গোপনে বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার একেএম সাইফুল হক বলেন, সরকারি নিয়মে বই বিক্রি করা নিষিদ্ধ। কোনো স্কুলে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণের পর বই অবশিষ্ট থাকলে প্রধান শিক্ষক সংশ্লিষ্ট মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়ে বইয়ের সংখ্যা জানাতে হবে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তা যথাযথ মাধ্যমে শিক্ষা অধিদপ্তরকে বিষয়টি জানাবেন। অবণ্ঠিত বই উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হবে। অধিদপ্তর বিক্রির অনুমতি দিলে উপজেলা মাধ্যমিক কর্মকর্তাকে প্রধান করে নিলাম কমিটি গঠন করতে হবে। কমিটি উন্মুক্ত নিলামে প্রতিযোগিতামূলক দরে বই বিক্রি করতে পারবেন। সেই টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে। প্রধান শিক্ষক কোনোভাবেই নিজে বই বিক্রি করতে পারবেন না সেটি গোপনে হোক বা প্রকাশ্যে। প্রমাণ হলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্তের নির্দেশ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

গোপনে বই বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে মীরগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিক শামছুত্তাওহীদ জানান, বই বিক্রির বিষয়ে তিনি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। মৌখিক অনুমতি নিয়ে বই বিক্রি করেছেন তিনি। অন্য অভিযোগগুলো মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। একটি চক্র তাকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করছেন বলে তার দাবি করেন তিনি।

 

//এমটিকে

শেয়ার করুন...

আরও খবর...
© All rights reserved © 2021 | বাংলার চোখ নিউজ
Theme Customized BY LatestNews