1. [email protected] : mainadmin :
  2. [email protected] : Mohsin Molla : Mohsin Molla
  3. [email protected] : subadmin :
বাংলার চোখ নিউজ | অনলাইন সংস্করণ | শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলছে
বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১, ০৭:০৫ অপরাহ্ন

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলছে

বাংলার চোখ সংবাদ
  • সময়ঃ বৃহস্পতিবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১

সম্পাদকীয় :

করােনা সংক্রমনের কারনে গত বছরের ১৭ মার্চের পর দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। সরকার কয়েকদফা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খােলার ঘােষনা দিয়েও শেষ পর্যন্ত ছুটি বাড়িয়েছে। সর্বশেষ ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্ধ রাখার ঘােষনা ছিল। অবশেষে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খােলা হবে। তবে উচ্চতর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খােলার ব্যাপারে কোনাে সিদ্ধান্ত এখনাে নেয়া যায় নি। আশা করা যাচ্ছে পরিস্থিতি বিবেচনায় অক্টোবরের আগেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলাে খােলা সম্ভব হবে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলাে খােলার পর প্রথম দিকে শুধু চলতি বছরের এবং আগামী বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থী এবং প্রাথমিকের পঞ্চম শ্রেনীর শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন ক্লাস হবে। বাকি শ্রেনীর ক্লাস হবে সপ্তাহে একদিন।

অন্যদিকে প্রাক-প্রাথমিক স্তরে ( শিশু, নার্সারী শ্রেনী ) শিক্ষার্থীদের সশরীরে ক্লাসে আসতে হবে না। তাদের ক্লাস বন্ধই থাকছে। ইতােমধ্যে শ্রেণী কক্ষে পাঠ দানের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলাের শ্রেনীকক্ষ প্রস্তুত করা শুরু করেছে। মাঠ পর্যায়ে প্রশাসন পরিদর্শন করে শিক্ষা দানের উপযােগী হয়েছে কিনা শ্রেনী কক্ষ তা দেখভাল করবেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খােলার পর বিদ্যালয় শিক্ষকরা স্কুল শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত বিষয়গুলাে নিশ্চিত করবেন। প্রতিদিন ঢােকার সময় শিক্ষার্থীদের তাপমাত্রা মাপা থেকে শুরু করে কোনাে উপসর্গ আছে কিনা তা যাচাই করবেন। মাস্ক পরা ছাড়া কেউ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কেউ ঢুকবে না। তবে শিশুদের মাস্ক পরার ফলে কোনাে অসুবিধা হচ্ছে কি না, তা দেখভাল করবেন শিক্ষকরা। যদি সংক্রমন সংক্রান্ত কোনাে ঘটনা ঘটে তা বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্দ করে দেওয়া হবে। ১২ থেকে ১৮ বছরের শিশু-কিশােরদের করােনা টিকার আওতায় আনার ব্যাপারে সরকারে বিভিন্ন কর্তা ব্যক্তিরা কথা বলছেন। কিন্তু বাস্তবে তাদের টিকা দেওয়া হবে কিনা তা নিয়ে এখনাে সিদ্ধান্ত হয় নি।

করােনার কারনে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় এক স্থবির অবস্থার সৃষ্টি হয়। অন লাইন ক্লাস ও টেলিভিশনের মাধ্যমে শ্রেনী পাঠ দেওয়ার চেষ্টা করলেও সার্বিকভাবে তা সফল হয় নি। করােনা কালে শিক্ষা খাতে যে ভয়াবহ ক্ষতি হয়েছে, সেটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুললেই আপনা আপনি পুসিয়ে যাবে, এমনটা ঠিক নয়। সমাজে শিক্ষার বৈষম্য সব সময় ছিলাে, এ দেড় বছরে উচ্চ ও উচ্চ মধ্যবিত্তদের সন্তানেরা নিজস্ব উদ্যোগে তাদের লেখা পড়া চালিয়ে যেতে পেরেছে। দরিদ্রদের সন্তানেরা আবারাে পিছালাে। ইতিমধ্যে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের আর শ্রেনীকক্ষে ফেরানাে যাবে না। গবেষনায় দেখা গেছে, করােনা কালে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় অন্যান্য সময়ের তুলনায় দেশে বাল্য বিবাহ ১৩ শতাংশ বেড়েছে, যা ২৫ বছরের সর্বোচ্চ। করােনা কালে পারিবারিক আয় বন্ধ হবার কারনে যে সব পরিবার তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে পারবে না, তাদের কাছে স্কুল কর্তৃপক্ষের সহযােগিতায়, সরকারকেই তাদের স্কুলে আনার উদ্যোগ নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গুলােকেও যুক্ত করা যেতে পারে। সরকার কি তেমন কোনাে পরিকল্পনা রেখেছে? শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খােলা না শিক্ষার্থীদের সুযােগ-সুবিধা নিয়েও ভাবতে হবে। না হলে ঝরে পড়া ছাত্র কমানাে যাবে না।

এমটিকে/বাংলারচোখ

শেয়ার করুন...

Leave a Reply

আরও খবর...
© All rights reserved © 2021 | বাংলার চোখ নিউজ  
Theme Customized BY LatestNews