1. [email protected] : mainadmin :
  2. [email protected] : subadmin :
বাংলার চোখ | সিরাজগঞ্জে তাড়াশে ৫০ বছর ধরে ব্রিজের অপেক্ষায় হাজারো মানুষ
রবিবার, ০৯ মে ২০২১, ১১:০৮ অপরাহ্ন

সিরাজগঞ্জে তাড়াশে ৫০ বছর ধরে ব্রিজের অপেক্ষায় হাজারো মানুষ

বাংলার চোখ সংবাদ
  • সময়ঃ বুধবার, ৫ মে, ২০২১

সেলিম রেজা, স্টাফ রিপোর্টার (সিরাজগঞ্জ) :

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার সগুনা ইউনিয়নের কাটাবাড়ি গ্রামের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদী উপর ৫০ বছরেও তৈরি হয়নি ব্রিজ। একটি ব্রিজের অভাবে কাটাবাড়ি গ্রামের পুর্ব ও পশ্চিম পাড়ের গ্রামের হাজারো মানুষের ভাগ্য বদলায়নি যুগ যুগ ধরে। বর্ষাকালে স্রোতের টানে ডিঙ্গি নৌকায় পার হয়ে বিভিন্ন স্থানে যেতে হয়। অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমে ওই গ্রামের মানুষের পায়ে হেটে নদী পার হয়ে যেতে হয় বিভিন্ন প্রান্তে।

গ্রামবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, কাটাবাড়ি গ্রামের মাঝদিয়ে বয়ে গেছে গোমানী নদী আর এই নদীই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় সাধারণ মানুষের যাতায়াতসহ কোমলমতি স্কুল শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে। এই নদীর উপর ব্রিজ না থাকায় ৫০ বছরেরও বেশী সময় ধরে নিজ উদ্যোগে বর্ষাকালে ঝুঁকি নিয়ে নৌকাতে পারাপার হতে হয় স্থানীয় গ্রামের হাজার হাজার সাধারণ মানুষসহ কোমল মতি বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থীদের।

বিশেষ করে কোন মহিলার প্রসব বেদনা অথবা মূমুর্ষ রোগী হাসপাতালে নিতে হলে পড়তে হয় নানা বিড়ম্বনায়. পোহাতে হয় সীমাহীন দূর্ভোগ, আর এই সীমাহীন দূর্ভোগ পোহাতে হয় স্থানীয়দের একদম নিরুপায় হয়ে। বর্ষাকালে যা ভয়াবহ রুপধারন করে স্থানীয় জনজীবনে, চারিদিকে ভরা পানি, তাদের আর্তনাদের চিৎকার যেন পানির সাথেই মিশে যায়। যেন দেশের সবচেয়ে অবহেলিত গ্রামে বসবাস তাদের।
স্থানীয় গ্রামের কৃষকেরা ধান আলু খিরাসহ বিভিন্ন সবজি প্রচুর পরিমাণে উৎপাদন করে থাকেন। কিন্তু নিজেদের উৎপাদিত তৈরি পন্য বাজারজাত করতে হলে পড়তে হয় নানা বিড়ম্বনায় যোগাযোগ ব্যাবস্থা অত্যন্ত নাজুক হওয়ায় সময় মতো পন্য বাজারে নিয়ে যেতে না পাড়ায় গুনতে হয় মাসূল বঞ্চিত হতে হয় ন্যায্যমুল্য হতে।

স্থানীয় আফসার প্রামানিক, মহসীন আলী, সোলেমান আলী ও খোদাবক্স ব্রিজ নির্মানের দাবী জানিয়ে বলেন, এখানে একটি ব্রিজ নির্মিত হলে একদিকে এলাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাচঁ শতাধিক শিক্ষার্থী নিরাপদে আসা-যাওয়া করতে পারবে অপরদিকে গ্রামের মানুষসহ আশেপাশের ১০টি গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা, হাটবাজার, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও গ্রামীণ ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে।

তারা ক্ষোভের সাথে আরো বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছর পার হয়েছে, ক্ষমতার পালা বদল হয়েছে বেশ কয়েকবার উন্নয়ন হয়েছে আশেপাশের আনেক রাস্তাঘাট, জনপ্রতিনিধিরা যারাই এখানে এসেছেন দুর্ভোগের কথা শুনেছেন মিলেছে আশ্বাস। আর এই আশ্বাস নিয়েই কাটছে যুগের পর যুগ অমানবিক দুর্দশার জীবন যাত্রা আমাদের এগিয়ে আসেনি কেউ?

কাটাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা ও স্কুল শিক্ষক সিরাজুল হক বলেন, আমাদের গ্রামের হাজারো মানুষ বিভিন্ন শাক-সবজিসহ বিভিন্ন চাষাবাদ করে। দীর্ঘদিন ধরে গ্রাম একটি হলেও দুভাগে বিভক্ত হয়ে আছে মাঝ দিয়ে নদী থাকায়। একটি ব্রীজ হলে বদলে যাবে জীবনমান। কেউ অসুস্থ হলে তাকে নিয়ে বর্ষাকালে নদী পার দিয়ে যাওয়া যেমন দুস্কর, তেমন করে শুষ্ক মৌসুমে গাড়ী বা ভ্যান না চলার কারনে দীর্ঘপথ পাড়ি দিতে হয় পায়ে হেটে। একটাই দাবী গ্রামের মধ্যে নদীতে আফসার আলীর বাড়ি থেকে হায়দারের সরকারের বাড়ি পযর্ন্ত একটা ব্রীজ আর দুই কিলোমিটার পাকা সড়ক।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো: মনি জানান, উপজেলার একমাত্র অবহেলিত গ্রাম এটি। অথচ এই গ্রামের ফসলি মাঠ থেকে প্রচুর পরিমানে শাক-সবজি উৎপাদিত হয়। যা দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি হয়। অথচ একটি ব্রিজ হলে এলাকার কৃষকেরা সঠিক দাম পাবেন ফসলাদির। এছাড়া অল্পসময়ের মধ্যে উপজেলা সদরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করা যাবে।

তাড়াশ উপজেলা এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী মো: আনোয়ার হোসেন জানান, রাস্তা পাকাকরণের জন্য ও একটা ব্রিজের বিষয়ে আমরা উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা: মোঃ আব্দুল আজিজ বলেন, চলনবিল অধ্যুষিত কাটাবাড়ি গ্রামের রাস্তা পাকারকরণ ও নদীতে একটা ব্রিজ দরকার। এ বিষয়ে আমি মন্ত্রনালয়ে কথা বলছি। আশা করছি দ্রুততম সময়ে একটি ব্রিজ নির্মাণ করা সম্ভব হবে।

সামাজিক মাধ্যমগুলোতে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও খবর...
© All rights reserved © 2021 www.banglarchokhnews.com  
Theme Customized BY LatestNews