1. [email protected] : mainadmin :
  2. [email protected] : subadmin :
বাংলার চোখ | হেফাজত তাণ্ডবে খোকা জড়িত
রবিবার, ০৯ মে ২০২১, ০৯:৪৮ অপরাহ্ন

হেফাজত তাণ্ডবে খোকা জড়িত

বাংলার চোখ সংবাদ
  • সময়ঃ বুধবার, ২১ এপ্রিল, ২০২১

বাংলার চোখ নিউজ :

হেফাজত নেতা আল্লামা মামুনুল হক গত ৩ এপ্রিল সোনারগাঁয়ের রয়েল রিসোর্টে বেড়াতে এলে স্থানীয় যুবলীগ, ছাত্রলীগ দ্বারা এক নারীসহ আটক হন। সাথে থাকা নারী দ্বিতীয় স্ত্রী দাবী মামুনুলের। পরে সাংবাদিক ও প্রশাসন মামুনুলের আসল রহস্য বের করতে ৩ ঘন্টা সময় অতিবাহিত করার পরেও আটক দেখাতে পারেননি। হেফাজত নেতারা ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখতে পেয়ে হেফাজতের হাজার হাজার কর্মী এসে রয়েল রিসোর্ট ভেঙ্গে মামুনুল হককে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। তদন্ত ওসি তবিবুল ইসলাম, এএসপি, ইউএনও বিষয়টি নিয়ে ৩ ঘন্টা সময় ক্ষেপণের কারণে রিসোর্ট ভেঙ্গে মামুনুলকে নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাড়ি, মার্কেট ও পার্টি অফিস ভাঙচুর করে হেফাজত কর্মীরা। এই ঘটনার পর ওসি রফিকুল ইসলামকে পত্যাহারের পর অবসরে দেয়া হয়েছে। এএসপিকে বদলি করা হয়েছে।

উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আব্দুর রব ও একজন পৌর কাউন্সিলরসহ সোনারগাঁ থেকে অনেক উস্কানিদাতা-জড়িতদের গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু হেফাজতের তাণ্ডবের মূল হোতা হিসেবে সোনারগাঁ আওয়ামী লীগ মনে করেন স্থানীয় এমপি জাতীয় পার্টি লিয়াকত হোসেন খোকা জড়িত। তার মদদে সব কিছু হয়েছে। ঘটনার পর থেকে এমপি হিসেবে ভাঙচুরের ঘটনার পরিদর্শন বা আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে পলাতক বা আত্মগোপনের কৌশলে চলছেন। ৩ এপ্রিল থেকে স্থানীয় এমপি হিসেবে হেফাজতের তাণ্ডবে এমপি খোকা আত্মাগোপনে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তার নিজ এলাকায় সোনারগাঁ তাকে দেখা যায়নি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে। অনেকে মনে করেন তিনি গ্রেফতার এড়াতে পালিয়ে পালিয়ে পথ চলছেন। এদিকে এই তাণ্ডবে খোকার গ্রেফতারের দাবি করছেন সোনারগাঁ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম নান্নু। তিনি বাংলার চোখকে বলেন, লিয়াকত হোসেন খোকার ইন্দনে তৎকালিন ওসি ও প্রশাসনের গাফলতিতে মামুনুল হককে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি বরং তার ইশারায় ছিনিয়ে নিয়েগেছে। নান্নু বাংলার চোখকে বলেন, খোকার নর্তকী আড্ডা খানা ছিল রয়েল রিসোর্টে। হেফাজতকে প্রতিষ্ঠিত করতে খোকা প্রকাশ্যে কাজ করেছেন। পৌরসভার মাঠে হেফাজতের মিটিংয়ে তার বক্তব্য দেশবাসি শুনেছেন।

তিনি রয়েল রিসোর্ট ভেঙে মামুনুল হককে আসার জন্য সহযোগিতা করেছেন। তিনি আমার বাড়ি, মার্কেট তার লোকজন দিয়ে লুট করেছেন। সোহাগ রনির বাড়ি লুট করেছেন, আওয়ামী লীগের পার্টি অফিস আগুন দিয়ে পাকিস্তানি কায়দায় জ্বালিয়ে দিয়েছেন। তিনি সোনারগাঁ আওয়ামী লীগকে ৩/৪টি ভাগে বিভক্ত কের রেখেছেন। সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের জনক সাবেক এমপি আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাতকে ছোট করে কথা বলেন, তার বিরুদ্ধে তিনি অনেক নাটক করেছেন। তিনি আওয়ামী লীগকে সোনারগাঁ থেকে নির্মূল করতে চান। নাম প্রকাশে এক জাতীয় পার্টির কর্মী বলেন, রওশন এরশাদকে মা ডেকে খরাতের এমপি সোনরগাঁটাকে শেষ করে দিয়েছেন। অবৈধ বালু মহল, নদী দখল, চাঁদাবাজিতে খোকা খুব পটু। পুরো থানায় যার শতাধিক ভোট নেই সে আবার তার স্ত্রী ডালিয়া খোকাকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগে বিবেদ সৃষ্টি করে স্বপ্ন দেখেন।

রাজাকার উপাদি পাওয়া মেয়র সাদেকুর রহমানের সমর্থনে মেয়রপ্রার্থী হিসেবে রঙবেরঙের পোস্টারের স্ত্রীর প্রচারণা চালাচ্ছেন। মামুনুলের সব কিছুতে খোকা জড়িত আছে আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী মনে করেন। রফিকুল ইসলাম নান্নু বাংলার চোখকে আরো বলেন, জাতীয় পার্টির এমপি লিয়াকত হোসেন খোকাকে গ্রেফতার করে রিমাণ্ড মঞ্জুর করলে সকল ভাংচুরের আসল রহস্য ও রয়েল রিসোর্টে নারীদের নিয়ে ফূর্তি করার প্রকৃতসত্য বের হয়ে আসবে। অন্যদিকে সাবেক এমপি, সোনারগঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত বাংলার চোখের মুঠোফোনের এক সাক্ষাৎকারে বলেন, সোনারগাঁয়ে ৪ নভেম্বর ২০২০ সালে হেফাজত সমাবেশে লিয়াকত হোসেন খোকার বক্তব্যের মাধ্যমে সংগঠনটি প্রাণ খুজে পায়। আমি হাসনাত পরিবারের সন্তান যে বাড়িতে বঙ্গবন্ধুর কন্য শেখ হাসিনার পায়ের ধূলি আছে আমার সে বাড়িতেও একাদশ নির্বাচনের পূর্বে খোকা গুণ্ডাবাহিনী দিয়ে হামলা করতে দ্বিধাবোধ করেনি। রয়েল রির্সোটে তার একটি বরাদ্ধ কক্ষ ছিল। ইতিপূর্বে জানতে পেরেছি মামুনুল হক আসার পূর্বে স্থানীয় সাংসদ ও তার পিএসের সাথে ফোনে আলাপ হয়েছে। আমাদের পার্টি অফিস ও নেতাকর্মীদের বাড়ি ভাঙচুর করার ঘটনায় প্রশাসন তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে অনেক কিছুই বের হবে। সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালাম বাংলা চোখকে জানান, আওয়ামী লীগের উপরে বর করে আওয়ামী লীগকে কবর দিতে চান জাতীয় পার্টির এই এমপি। মামুনুল হকের রিসোর্টের ঘটনায় খোকা সরাসরি জড়িত। হেফাজত যা কিছুই করতো আমাদের সাথে পরামর্শ করে করত। ৪ নভেম্বর, ২০২০ সালে সোনারগাঁ পৌরসভার আমিনপুরে আল্লামা আহমদ শাহ শফীর স্বরণে সমাবেশে হেফাজতকে খোকা কোলে তোলার পর মামুনুল হক সোনারগাঁ ঘনঘন আসত। রয়েল রিসোর্টে মামুনুলের আগমনে খোকা জড়িত আছে বলে আমি মনে করি।

আমাদের আওয়ামী লীগের দোতালা পার্টি অফিস ভবন ভাঙচুর ও আগুন, যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম ও সাবেক ছাত্রলীগের সভাপতি সোহাগ রনির বাড়ি-ঘর, গাড়ি, মার্কেট ভাঙার পিছনে তার ইন্দনে তার নেতাকর্মীরা এই তাণ্ডব চালিয়েছে। সোনারগাঁয়ে হেফাজতের কখনো এই উত্তাল ছিল না। তার ইন্দনে জামাত, হেফাজত, বিএনপিকে প্রতিষ্ঠিত করে আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করাই তার লক্ষ্য। তিনি আরো বলেন মামুনুল কেন সোনারগাঁকে নিরাপদ স্থান মনে করছেন, তাকে যদি গ্রেফতার করা হয় আসল তথ্য পাওয়া যাবে। সোনারগাঁ মোগড়াপাড়া আওয়ামী লীগের ঘাটি থেকে মামুনুলকে ছিনিয়ে নেওয়া ভাঙচুর কীভাবে হলো প্রশ্ন করলে তিনি বাংলার চোখকে বলেন, আমাদের নেতাকর্মীরা তাকে আটক করার পর প্রশাসন গিয়ে কেন এত দেরি করলো সেটা প্রশাসন বলতে পারবে। আর ভাঙচুরের ঘটনা স্থানীয় এমপি মদদ ও প্রশাসনের নিরব ভূমিকায় সম্ভব হয়েছে বলে মনে করেন। আর প্রকৃত তথ্য বের করতে স্থানীয় এমপি লিয়াকত হোসেন খোকাকে গ্রেফতার জরুরি। এদিকে ১৮ এপ্রিল মোহাম্মদপুর জামিয়া রাহমানিয়া মাদ্রাসা থেকে মামুনুলকে গ্রেফতারের পর ১৯ এপ্রিল থেকে ৭ দিনের পুলিশ রিমাণ্ডে রয়েছে মামুনুল হক।

 

সামাজিক মাধ্যমগুলোতে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও খবর...
© All rights reserved © 2021 www.banglarchokhnews.com  
Theme Customized BY LatestNews