1. [email protected] : mainadmin :
  2. [email protected] : Mohsin Molla : Mohsin Molla
  3. [email protected] : subadmin :
বাংলার চোখ নিউজ | অনলাইন সংস্করণ | হোমনায় কর্মসৃজন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম
সোমবার, ১৪ জুন ২০২১, ০৩:০৮ অপরাহ্ন

হোমনায় কর্মসৃজন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম

বাংলার চোখ সংবাদ
  • সময়ঃ রবিবার, ৯ মে, ২০২১

মো: মনিরুজ্জামান, (হোমনা, কুমিল্লা) প্রতিনিধি : 

কুমিল্লার হোমনায় কর্মসৃজন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ, শ্রমিকের পরিবর্তে ভেকু দিয়ে রাস্তা নির্মান করে শ্রমিকের নামে বিল উত্তোলন করার অভিযোগ উঠেছে । ৫নং আছাদপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. সালেহ জহরের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠে ।

জানাগেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে দুইটি প্রকল্পের মধ্যে প্রথম ধাপে কৃষ্ণপুর গ্রাম থেকে কৃষ্ণপুর বিল পর্যন্ত ৪০ দিনের কর্মসূচীর রাস্তা শুধু মাত্র শ্রমিক দিয়ে কাজ সম্পূর্ণ করার নির্দেশনা থাকলেও তিনি এসকেব্যটার (ভেকু মেশিন) দিয়ে মাটি কেটে ভুয়া শ্রমিকের নামে ব্যাংক এ্যাকাউন্ট খুলে তার মনোনীত লোকদের দিয়ে টাকা উত্তোলন করে নিজে আত্মসাৎ করছে । এতে কোন শ্রমিককে কোন টাকা দেয়া হয়নি ।

দ্বিতীয় ধাপে গত বৃহস্পতিবার(৬ মে) কৃষ্ণপুর গ্রাম থেকে মঙ্গলকান্দি গোদারাঘাট পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ কাজ শুরু করেন এতে শ্রমিকের পরিবর্ততে এসকেবেটার ভেকু মেশিন দ্বারা ৩ ফসলি জমি থেকে মাটি কাটতে গেলে জমির মালিকরা এতে বাধা দেয়। কিন্ত বাধা উপেক্ষা করে ভেকু দিয়ে রাস্তার নির্মাণ কাজ শুরু করেন ।

এ বিষয়ে সাবেক ইউপি সদস্য মো.ফজলুল হক জানান, প্রথম ধাপে রাস্তা নির্মানের সময় আমি লিখিত অভিযোগ করেছিলাম কর্তৃপক্ষ তা আমলে নেয়নি। এবার ও ইউপি সদস্য সালেহ জহর শ্রমিকের পরিবর্তে এসকেব্যাটার (ভেকু মেশিন) দিয়ে জনগনের ৩ ফসলি জমি কেটে রাস্তার কাজ করে শ্রমিকের নামে বিল উত্তোলন করার চেষ্টা করছে।

গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে ৫ নং আছাদপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায় ইউপি সদস্য মো.সালেহ জহর কৃষ্ণপুর থেকে মঙ্গলকান্দি গোদারাঘাট পর্যন্ত ভেকু মেশিন দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করছে। রাত থেকে এ কাজ শুরু হয়েছে । জমির মালিক মো. সফিকুল ইসলাম জানান, ইউপি সদস্য সালেহ জহর ভেকু মেশিন দিয়ে আমাদের ৩ ফসলি জমি থেকে গর্ত করে রাস্তায় মাটি নিচ্ছে। এতে বাধা দিতে গেলে সে তার
সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে আমাদেরকে প্রানে মেরে ফেলার ভয়ভীতি দেখায়। আমরা এমপি,উপজেলা চেয়ারম্যান,ইউএনও বরাবর অভিযোগ দিয়েছি। কিন্ত রহস্যজনক কারনে রাস্তাটি ভেকু মেশিন দিয়ে খুব দ্রুত করিয়ে ফেলার চেষ্টা করছে। এ রাস্তা নির্মাণে কোন শ্রমিক কাজ করে না।

এদিকে গত প্রকল্পে যে শ্রমিকদের নামে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে এমন কয়েক জন শ্রমিক জানায়, ইউপি সদস্য সালেহ জহর নিজের স্বার্থ হাসিল করতে শ্রমিকদের দিয়ে রাস্তা নির্মাণ না করে, ভেকু দিয়ে রাস্তার কাজ করে ভূয়া শ্রমিকদের নামে এ্যাকাউন্ট করে তার মনোনীত লোকদের দিয়ে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে সে আত্মসাৎ করে। এতে এলাকার দরিদ্র শ্রমিকরা কাজ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

এ বিষয়ে ইউপি মো. সালেহ জহর বলেন, রাস্তা নির্মাণের জন্য শ্রমিকের মুজুরী বরাদ্ধ ১৭৫ টাকা। এ টাকায় কোন শ্রমিক পাওয়া যায় না। তাই শ্রমিক দিয়ে কাজ না করে ভেকু মেশিন দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করতে হচ্ছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ নাহিদ আহম্মেদ জাকির বলেন, গত প্রকল্পের অভিযোগ ছিল পরে শ্রমিক দিয়ে কাজ করার পরই বিল ছাড় করা হয়েছে। কর্মসৃজন প্রকল্পে ভেকু দিয়ে কাজ করার বিধান নেই। এ প্রকল্পে শ্রমিক দিয়ে কাজ না করলে বিল পাবে না।

হোমনা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) রুমন দে বলেন, জমির মালিকদের একটি অভিযোগ পেয়েছি ।প্রকল্পের কাজ বন্ধ রাখতে বলেছি । কর্মসৃজন প্রকল্প কাজের দেখবাল করতে পিআইও ,ফিল্ড সুপার ভাইজার, ট্যাগ কর্মকর্তা কাজ করছে। ৪০ দিনের কর্মসূচীর কাজে শ্রমিক দিয়ে কাজ না করে ভেকু মেশিন দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করা হলে তো বিল পবে না ।

সামাজিক মাধ্যমগুলোতে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও খবর...
© All rights reserved © 2021 www.banglarchokhnews.com  
Theme Customized BY LatestNews