1. [email protected] : mainadmin :
  2. [email protected] : Mohsin Molla : Mohsin Molla
  3. [email protected] : subadmin :
বাংলার চোখ নিউজ | অনলাইন সংস্করণ | ৬০টি পরিবারের ভাগ্যে এক যুগেও মেলেনি বিদ্যুৎ
শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১, ০৯:৫০ অপরাহ্ন

৬০টি পরিবারের ভাগ্যে এক যুগেও মেলেনি বিদ্যুৎ

বাংলার চোখ সংবাদ
  • সময়ঃ শুক্রবার, ৪ জুন, ২০২১

আরিফুল ইসলাম (ফুলবাড়ী,কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি :

প্রায় দু’বছর আগে বিদ্যুতের খুঁটিসহ বিদ্যুতের লাইন থাকলেও এখনো সংযোগ দেওয়া হয়নি গুচ্ছগ্রামে। ফলে সরকারের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এসব পরিবারের সদস্যরা।

ফলে গুচ্ছগ্রাম (আবাসন) প্রকল্পে ৬০টি পরিবার বছরের পর বছর কুপি, হ্যারিকেনের আলো দিয়ে দুর্বিসহ জীবন-যাপন করছে। এই অসহনীয় দুর্ভোগ সহ্য করতে না পেরে গত পাঁচ বছর আগেই ২০টি পরিবার অন্য জায়গায় ঠাঁই নিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দুরে সীমান্তঘেঁষা নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের চরগোরকমন্ডল এলাকায় গুচ্ছগ্রাম (আবাসন) ২০১০ সালে নির্মাণ করা হয়। নির্মাণ শেষে উপজেলায় ৬০টি দরিদ্র ভূমিহীন পরিবারের আশ্রয় নেয় গুচ্ছগ্রামে। পরিবার-পরিজন নিয়ে বাসস্থানের সুযোগ পেলেও শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলায় তাদের ভাগ্যে জোটেনি পল্লীবিদ্যুতের সুফল।

ফলে দীর্ঘ প্রায় এক যুগ ধরে ল্যাম্প বা কুপি, হ্যারিকেনের আলো দিয়ে দুর্বিসহ জীবন-যাপন করতে হচ্ছে এখনো। পর্যাপ্ত গাছগাছালি না থাকায় গরমে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় তাদের। বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরেও বিদ্যুতের মুখ দেখতে পাচ্ছে না গুচ্ছগ্রামবাসী। এতে করে অন্ধকারেই অর্ধশতাধিক স্কুলপড়ুয়া সন্তান নিয়ে ভোগান্তি পড়েছেন।

গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা বাদসা(৩৫)ও আব্দুর গফুর(৩৭)বলেন, ‘আমরা ১১-১২ বছর ধরে গুচ্ছগ্রামে অন্ধকারেই বসবাস করছি। সব জায়গায় বিদ্যুৎ আছে বাহে হামারে শুধু গুচ্ছগ্রামে নাই। রহিমা বেগম(২৮),ও সাজেদা বেগম(২৯) বলেন আমরা গুচ্ছগ্রামের নারীরা রাতের বেলা কুপির আলো দিয়েই অনেক কষ্ট করে রান্না-বান্না করি। সেই সাথে প্রচণ্ড গরমের মধ্যেই কুপির আলো দিয়েই আমাদের সন্তানরা পড়াশোনা করছে। যেন দেখার কেউ নেই বাহে।’আবাসনের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোঃ মাসুদ রানা(১১)ও প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোছাঃখুশি আক্তার( ৬)সহ অনেকেই জানান,বিদ্যুৎ নেই, প্রচণ্ড গরমে আমরা ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছি না। প্রচণ্ড গরমের মধ্যেই আমরা কুপি ও হ্যারিকেনের আলো দিয়ে কোন রকমেই পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু গরমের দিনে কুপি ও হ্যারিকেনের আলো দিয়ে বেশিক্ষণ পড়াশোনা করতে পারিনা। বিদ্যুৎ সংযোগ থাকলে আমরা বিদ্যুতের আলো ও ফ্যানের বাতাসে মনের আনন্দে পড়াশোনা করতে পারতাম।তাই গুচ্ছগ্রামে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগের জোর দাবি জানান কমলমতি শিক্ষার্থীরা।

এলাকার বাসিন্দারা বলেন আমাদের মাথা গোঁজার ঠাই না থাকায় সরকার আমাদের ঠাঁই দিয়েছে। শুনেছি শতভাগ বিদ্যুতায়িত ফুলবাড়ী উপজেলা ঘোষণা করেছেন। অথচ আমরা গুচ্ছগ্রামবাসী বসবাসের প্রায় এক যুগ পেরিয়ে গেলেও এখন বিদ্যুৎ সংযোগ মেলেনি। অনেক কষ্টে গুচ্ছগ্রামের নারীরাসহ প্রায় ৫০ জন স্কুলপড়ুয়া ছেলে-মেয়ে আছে। রাত হলেই আমাদের মহাবিপদ। নারীরা কুপির আলো দিয়ে রান্না-বান্নাসহ ছেলে-মেয়েরা পড়াশোনা করছে। এক কথাই অনেক কষ্টে পরিবার-পরিজন নিয়ে কোন রকমেই বেঁচে আছি।তারা আরও বলেন বাহে বিদ্যুতের পোল আসার প্রায় দুই বছর পার হলো। এখনো সংযোগ দেয়নি বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যে অসহনীয় দুর্ভোগ সহ্য করতে না পেরে ২০টি পরিবার গুচ্ছগ্রাম থেকে অন্যত্র চলে গেছে। জানিনা আর কত কাল বিদ্যুতের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করা হলেও কোন কাজ হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।

এমটিকে/বাংলারচোখ

সামাজিক মাধ্যমগুলোতে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও খবর...
© All rights reserved © 2021 www.banglarchokhnews.com  
Theme Customized BY LatestNews